সম্পর্কের টানাপোড়েনে জর্জরিত হাসিন,মেজাজ হারালেন সাংবাদিকের সামনেই

39

স্পোর্টস ডেস্ক:

যতদিন যাচ্ছে, মহম্মদ শামির সঙ্গে স্ত্রী হাসিন জাহানের মধ্যে সম্পর্কের জটিলতা ততই বাড়ছে। ভারতীয় পেসারের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ জানিয়ে চলেছেন হাসিন। আর সম্পর্কের সেই টানাপোড়েনে জর্জরিত হাসিন এবার ক্যামেরার সামনেই মেজাজ হারালেন।

মঙ্গলবার সকালে সেন্ট সেবাস্টিয়ান স্কুলের সামনে দেখা যায় হাসিনকে। সেখানেই এক সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করতে গেলে ক্যামেরার সামনেই মেজাজ হারান তিনি। এমনকী চিত্র-সাংবাদিককে ধাক্কা দেন বলেও অভিযোগ। যাতে তাঁর ক্যামেরাটিও ভেঙে যায়। এমন অভব্য আচরণের পরই নিজের গাড়িতে উঠে পড়েন হাসিন। কিন্তু কেন তিনি এভাবে রেগে গেলেন, তার কোনও কারণ জানা যায়নি।

একাধিক মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক। পরকীয়া। গোপনে চ্যাট। নিজের স্ত্রীকে মারধর। এমনকী ধর্ষণও। শামি ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগের বন্যা স্ত্রী হাসিনের। শুধু দুবাই নয়, দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ চলাকালীনও পরকীয়ায় জড়িয়েছেন তাঁর স্বামী। এমন বিস্ফোরক অভিযোগও তুলেছেন। যে অভিযোগের ভিত্তিতে জামিন অযোগ্য ধারায় বাংলার পেসারের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। আগামী ১৯ মার্চ আলিপুর আদালতে গোপন জবানবন্দি দেবেন হাসিন। লালবাজারের তরফে এ ব্যাপারে আবেদন জানানো হয়েছিল। সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত। যদিও সমস্ত অভিযোগ খারিজ করেছেন শামি। এমনকী সোমবার তিনি জানান, হাসিন যে মোবাইলের কথা উল্লেখ করেছেন, তার মালিকানা তাঁর নয়।

কিন্তু ঘুরে ফিরে একটাই প্রশ্ন প্রকট হচ্ছে। চার বছরের মধ্যেই শামি ও হাসিনের মধ্যে এমন কী হল, যাতে জল এতদূর গড়াল। অভিযোগ ও পালটা অভিযোগের নেপথ্যে কি অন্য কোনও কারণ রয়েছে? আর সে উত্তরের সন্ধান করতে গিয়েই মিলেছে নয়া মোড়। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, আসলে সমস্যা শামির পরকীয়া নিয়ে নয়, এর পিছনে রয়েছে ১২ কোটি টাকার সম্পত্তি। জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের আমরোহার এক গ্রামে ৬০ একর জমি কিনেছিলেন শামি। যেখানে তিনি একটি স্পোর্টস অ্যাকাডেমি খুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হাসিন তেমনটা চাননি। বরং তিনি চেয়েছিলেন সেখানে নিজের জন্য একটি ফার্মহাউস তৈরি করতে। শামিকে সাফ জানিয়েছিলেন, খেলার পিছনে যেন তিনি কোনও খরচ না করেন। আর তিনি যেন এ রাজ্যে সম্পত্তি কেনেন। কিন্তু শামি তা কানে নেননি। আর সেখান থেকেই নাকি ঘটনার সূত্রপাত। এমন পরিস্থিতিতে শামির পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁর ছোটবেলার কোচ বদরুদ্দিন সিদ্দিকি এবং প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিও। তাঁদের বিশ্বাস, পরিবার ও দেশের ক্ষতি হয়, এমন কোনও কাজ শামি করতে পারেন না।