শাহ-আরেফিন সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এ মাসেই

54

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর ::
মার্চ মাসের মধ্যেই উদ্বোধন হতে যাচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত স্বপ্নের সেতু শাহ-আরেফিন অদ্বৈত মৈত্রী সেতু। ব্রীজের নির্মান কাজের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করবেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশারফ হোসেন। ১৫ মার্চ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত এ তারিখে উদ্বোধন করা হচ্ছে না।
মার্চের শেষ দিকে ব্রীজ নির্মান কাজের ভিত্তি প্রস্তর আনুষ্টানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন। নির্মাণ কাজের জন্য ইতিমধ্যেই নির্মানাধীন ঠিকাদারী প্রতিষ্টান তমা কন্সট্রাকসন এর লোকবল ব্রীজের তীরবর্তী স্থান বিন্নাকুলি বাজারে কন্সট্রাকসনের সরঞ্জামাদি নিয়ে অবস্থান করছে।
তাহিরপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আলমগীর হোসেন জানান, ১৫ মার্চ থেকে ব্যীজের লে-আউটের কাজ চলমান ও রিগের কাজ চলবে। এ মাসের শেষের দিকে ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন হবে। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী যাদুকাটা নদীর উপর দেশের বৃহত্তর সেতু এলজিইডির নির্মানাধীন ৭৫০মিটার দৈর্ঘ্যরে প্রায় ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রীজ হতে যাচ্ছে এমন সংবাদ এলাকায় প্রকাশের পর আনন্দিত তাহিরপুর উপজেলাবাসী। সেতুটি বাস্তবায়িত হলে এখানকার পর্যটন স্পট গুলোতে আগত পর্যটক ও প্রকৃতি প্রেমীদের মিলন মেলায় পরিণত হবে। সেই সাথে এলাকার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহ আর্থ-সামাজিক ও ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর বাস্তবায়নে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেতু হবে যাদুকাটা নদীর উপর নির্মিত শাহ-আরেফিন অদ্বৈত মৈত্রী নামে সেতুটি। এই সেতুর মাঝ অংশে একটি ওয়াচ টাওয়ার নির্মান করা হওয়ার কথা রয়েছে। যদি হয় তাহলে এ ওয়াচ টাওয়ারে দাঁড়িয়ে মেঘালয় পাহাড়, যাদুকাটা নদীর ও বারেক টিলার অপরুপ সৌন্দর্য অবলোকন করতে পারবে সহজেই প্রকৃতি প্রেমীরা। দেশের অন্যান্য সেতুর মধ্যে সবচেয়ে বড়,দৃষ্টি নন্দন,আকর্ষনীয় সীমান্ত এলাকা ও উপজেলাবাসীর স্বপ্নের সেতু হবে শাহ-আরেফিন অদ্বৈত সেতু। এই সেতুটি নির্মিত হলে তাহিরপুর উপজেলাসহ ৩টি উপজেলার (ধর্মপাশা,বিশ্বম্বরপুর)ও মধ্যনগর থানা ও রাজধানী ঢাকার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক পরির্বতন হবে। সাথে সাথে সীমান্ত এলাকা লাউড়েরগড় হয়ে যাদুকাটা নদী, শিমুল বাগান, বারেকটিলা, ট্যাকেঘাট নীলাদ্রি লেক, বড়ছড়া, চারাগাঁও, বাগলী জিরো পয়েন্ট, টাঙ্গুয়া হাওর, মেঘালয় পাহাড়ের নয়ানাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান গুলো আরো আকর্ষনীয় হবে।
এছাড়াও এ সেতুটি বাস্তবায়ন হলে সড়ক পথের মাধ্যমে বাগলী,চারাগাঁও ও বড়ছরা শুল্কষ্টেশন হয়ে লাউড়েরগড়-সুনামগঞ্জ জেলা দিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ সমগ্র বাংলাদেশে চুনাপাথর ও কয়লা এবং এখানকার উৎপাদিক বিভিন্ন পন্য দেশের নানান প্রান্তে পরিবহনে সহজ হবে এবং বাগলী থেকে, মধ্যনগর, মহেশখলা, ধর্মপাশা, মোহনগঞ্জ হয়ে রাজধানী ঢাকার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক পরির্বতন হবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, জেলাবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবীর প্রেক্ষিতে জেলার ১২টি সেতুর মধ্যে ৮টি সেতু গত ১০ই জানুয়ারী মাসে অনুমোদন হয়। এর মধ্যে যাদুকাটা নদীর উপর শাহ আরেফিন সেতু একটি। এর পর গত বছরের ৪জুলাই এ সেতুটি ৯০কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৫০মিটার দৈর্ঘ্য এ সেতুটি দরপত্র আহবান করা হয়। এছাড়াও সেতুর দু-পাশের সড়ক সংযোগ সহ সার্বিক বরাদ্ধ প্রায় ১৩২কোটি টাকা। সেতুটি ডাবল লেনের হবে। এক সাথে বাস-ট্রাক বা অন্য কোন যানবাহন চলাচল করবে। সেতুটি বাদাঘাট ইউনিয়নের গড়কাটির ইসকন মন্দির ও বিন্নাকুলী বাজারের দক্ষিন দিকে বাস্তবায়নে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেতু হবে।
বাদাঘাট ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন জানান, বহু প্রতিক্ষিত যাদুকাটা নদীর উপর সেতু উদ্বোধন করে নির্মান কাজ শুরু করে স্বপ্নে সেতুটির বাস্তবায়ন হলেই এলাকাবাসীর দুঃখ গোছবে। আর শুধু মাত্র সুনামগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জোম হোসেন রতন এর ঐকান্তিক চেষ্টায় হচ্ছে।
তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মোশারফ হোসেন জানান, তাহিরপুর উপজেলা একটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন উপজেলার যাদুকাটা নদীর উপর সেতু নির্মিত হলে সীমান্ত এলাকা যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পর্যটন স্পট গুলো আরো আকর্ষনীয় হবে।
সুনামগঞ্জ ১আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জোম হোসেন রতন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় সুনামগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্যই যাদুকাটা নদীর উপর শাহ আরেফিন অদ্বৈত সেতু নির্মানের অনুমোদন করেন। সেতুটি বাস্তবায়ন হলে এই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা,ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সার্বিক উন্নয়নের বিপ্লব ঘটবে। ১৫ মার্চ থেকে লে-আউট ও রিগের কাজ চলমান থাকবে। মার্চ মাসের শেষ দিকে ব্রীজ নির্মান কাজের অনুষ্টানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।