‘বন্ধ করি নদী দূষণ, সুস্থ রাখি জনজীবন’ খোয়াই নদী ঘিরে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের মেলবন্ধন

49

আন্তজার্তিক নদীকৃত্য দিবস উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার হবিগঞ্জের খোয়াই নদী ঘিরে নদীকর্মী, নদী তীরের বাসিন্দা ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের মেলবন্ধনে নানা কর্মসূচিতে নদীময় দিন অতিবাহিত হয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা হবিগঞ্জ শাখা এবং খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার ৭টি সংগঠনের সহযোগিতায় চৌধুরী বাজারের কাছে খোয়াই নদীতে গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করে। এই কর্মসূচীতে শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ সমবেত হন। নদীর গল্প শোনা, সাঁতার কাটা, প্রচারপত্র বিলি, নদী বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। নদী নিয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে পুরষ্কার জিতে নেন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণকারীরা। সবশেষে নদীকে ভালবেসে নদীতে নেমে পরেন নদীকর্মীরা।
শুরুতে ‘বন্ধ করি নদী দূষণ, সুস্থ রাখি জনজীবন’ এই স্লোগান সম্বলিত ব্যানার এবং ফেস্টুন নিয়ে নদীর হাটু পানিতে দাঁড়িয়ে মানব্বন্ধন করেন নদীকর্মীরা। বাঁচতে চাইলে মহাশয়-রক্ষা করো জলাশয়’ মরলে নদী সবুজ শেষ-বাংলা হবে মরুর দেশ, খোয়াই নদী খনন চাই-সারা বছর পানি চাই, নদী আমার মা-ময়লা ফেলব না, খোয়াই নদী মুক্ত করো-পরিবেশ রক্ষা করো, বাঁচতে চাও যদি-রক্ষা করো নদী এরকম দাবী সম্বলিত ব্যানার ফেস্টুনে শোভা পায় নদীকর্মীদের হাতে। এসময় বাপা হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক ও খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল মুল বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, রোটারিয়ান তবারক আলী লস্কর, চৌধুরী জান্নাত রাখি, শাকের আমিন, মনসুর আহমেদ, আশিষ কুমার সানি, নাহিদা খান সুরমি, মুক্তাদির হোসেন, ওসমান গণি রুমি, আবিদুর রহমান রাকিব, সাইফুল ইসলাম, সি.এম রায়হান উজ্জ্বল, আফসানা জাহান, প্রিয়াঙ্কা চক্রবর্তী, তাসকিয়া তাবাসসুম বৃষ্টি, ফাহমিদা জাহান মিথিলা, সয়দা তাসলিম মুনতাহা, তানজি চৌধুরী, রিমা আক্তার, সোনিয়া আক্তার প্রমুখ।
সোহেল বলেন, আমাদের নদীগুলো সুস্থ নেই। প্রকৃত অর্থে নদীগুলো বিলীন হয়ে যাচ্ছে। খোয়াই, সুতাং ও পুরাতন খোয়াই নদীর উপর চলছে বিভিন্ন ধরনের অত্যাচার। একদিকে চলছে নদী দখল, অন্যদিকে শিল্পের নামে কলকারখানার বর্জ্য ফেলে দূষিত করা হচ্ছে নদীকে। খোয়াই নদী ও পুরাতন খোয়াই নানাবিধ সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে অত্যন্ত সঙ্কটজনক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। খোয়াই নদী ভারত কর্তৃক জল সীমিতকরণের আওতায় পড়ে ক্ষীণতোয়া হয়ে যাচ্ছে, অপরদিকে কিছু অপরিণামদর্শী মানুষের অসৎ ক্রিয়াকাজের ফলে দিন দিন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। নদী থেকে অপরিকল্পিত এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু উত্তোলন, নদীর ভিতরে অবকাঠামো নির্মাণ, নদী তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে দখল ও দূষণের ফলে নদীটির অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে মাধবপুর ও সদর উপজেলায় গড়ে ওঠা কলকারখানার বর্জ্যে এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। কলকারখানার বর্জ্যে সুতাং নদীসহ আশ-পাশের জলাশয়গুলো মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। শিল্পবর্জ্য দূষণে সুতাং নদীটি হয়ে পড়েছে মৎস্যশূন্য, নদীর পানি ব্যবহারকারীরা পড়েছেন মারাত্মক স্বাস্থ্যা ঝুঁকিতে। মারা যাচ্ছে হাঁস-মোরগ-গবাদিপশু। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে চর্মরোগসহ নানা অসুখে। মাঠে ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে।
আমাদের পরিবেশ-প্রতিবেশের প্রতি লক্ষ্য রেখে এখনই দখল ও দূষণ প্রক্রিয়া রোধসহ দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাা নিয়ে খোয়াই, সুতাংসহ অন্যান্য নদী-জলাশয়ের সুস্থ স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।-বিজ্ঞপ্তি