খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতে আশাহত বিএনপি

25

নিউজ ডেস্ক::
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টে দেয়া জামিন আপিল বিভাগে স্থগিত করা রায়ে ক্ষুব্ধ, দু:খিত ও আশাহত হয়েছে বিএনপি। এ কথা জানান, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত প্রসঙ্গে মওদুদ আহমদ বলেন, এটা বাংলাদেশে কখনো শুনবো বা দেখাবো। সেটা ভাবি নাই। বেগম খালেদা জিয়ার হাইকোর্টের জামিন দেয়া রায় আপিল বিভাগে স্থগিত করে আমাদের সকলকে বিস্মিত করেছে। সারাদেশে মানুষ দেশের উচ্চ আদালতের কাছে যা প্রত্যাশা করে নাই, সেটাই আজকে ঘটেছে। মামলা শুনানির সময় দুদুকের আইনজীবীর বক্তব্যে উপস্থাপনের পর, বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের কোন বক্তব্য না শুনে হাইকোর্টের দেয়া জামিনের আর্দেশটি রোববার পর্যন্ত স্থগিত করার আদেশ দেয়া হয়েছে। এত তাড়াহুড়া করে অপর পক্ষকে না শুনে এ ধরনের একটি রায় প্রত্যাশা করি নাই!

“এই একতরফা সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। দু’পক্ষের কথা শুনে দেশের উচ্চতর আদালত যে কোন আদেশই দিতে পারেন। কিন্তু একপক্ষের বক্তব্যে শুনে এধরনের আদেশ দেয়া মোটেই যুক্তিসংগত হয়নি। এতে উচ্চতর আদালতের ঐতিহ্য ও ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে বলে আমরা মনে করি।”

তিনি বলেন, একটি মামলায় জামিন পেলো, আর আরেকটি মামলায় শ্যোন আরেষ্ট দেখানো সম্পূর্ণ বেআইনী। সুপ্রিম কোর্ট বলে, এটা একেবারেই বেআইনী। কিন্তু তারপরও তারা করছেন। কারা করছেন? যারা নিন্ম আদালতে কর্মকর্তা, কর্মচারি এবং বিচারক যারা আছেন, তাদের এখন দায়-দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা হলো, নির্বাহী বিভাগের কাছে।

নিম্ন আদালত আজকে সম্পূর্ণভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে মন্তব্য করেরে মওদুদ বলেন, আইনগতভাবে সেটা তারা (সরকার) করে নিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নাল আবদীন বলেন, আমি কিছুক্ষণ আগেও আদালত প্রাঙ্গণে বলেছি অন্তত আমাদের ধারণা ছিল আমাদেরকে শুনে দেশের সর্বোচ্চ আদালত রায় দেবেন। সবসময় এটা হয়ে থাকেন আদালতে। কিন্তু আজকে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে সেই বিবেচনা টুকু পেলেন না। এজন্য আপনাদের সামনে বক্তব্য রাখার ভাষা আমি হারিয়ে ফেলেছি।

দেশে আইনের শাসন হুমকির সম্মুখীন- বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে। শুধু মাত্র আমাদের আইনজীবীদের উপরে ভরসা করলে এই সরকারের অগণতান্ত্রিক ও অমানবিক কর্মকাণ্ডে বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যাবে না। সকলে মিলে আজকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে, আইনের শাসন রক্ষার জন্য এবং বিচার ব্যবস্থা রক্ষার জন্য। এই অবস্থা যদি চলতে দেয়া হয় তাহলে দেশে বিচার ব্যবস্থা থাকবে না। সাধারণ মানুষ কোন বিচার পাবে না।

তিনি আরও বলেন, যে আদালত থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্র ও গণমানুষের নেত্রী বিচার পায় না, সেখানে সাধারণ মানুষ বিচার পাবে বলে আমি অন্তত বিশ্বাস করি না। তাই আমি দেশবাসীকে অনুরোধ করবো আসুন সময় এসেছে, এই অগণতান্ত্রিক সরকার, যারা বিচার বিভাগের ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা সকলেই আন্দোলন গড়ে তুলি।