এলিয়েন নয়, কলোডিয়ান শিশুপুত্র

37

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
এলিয়েন নয়, কলোডিয়ান শিশুপুত্র। বিরলতম চর্মরোগ নিয়েই জন্মেছে সে। তাকে বাঁচিয়ে রাখতে কোনওরকম চিকিৎসা সংক্রান্ত ত্রুটি রাখছেন না হাসপাতালের চিকিৎসকরা। তবে অসুস্থ সন্তানকে জন্ম দিয়ে ভেঙে পড়েছেন মা রেখা রায়। প্রথম সন্তানের এহেন শারীরিক সমস্যা যে তাঁকে মানসিকভাবে অসুস্থ করে তুলছে। গোটা ঘটনায় গ্রহের ছায়া দেখছে ওই গৃহবধূর পরিবার। স্বাভাবিকভাবেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন সন্তানকে আদৌ মেনে নেবে কিনা তা নিয়েও সংশয় রয়েছে রেখাদেবীর মনে। ঘটনাটি জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালের।

জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ি ব্লকের জল্পেশ এলাকার বাসিন্দা দুলাল রায়। তিনি পেশায় ট্রাক চালক। বছর খানেক আগে রেখাদেবীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। গত রবিবার সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানেই প্রথম সন্তানের জন্মদেন রেখাদেবী। জন্মেই অসুস্থ শিশুটিকে নিয়ে চিন্তার শেষ নেই ওই দম্পতির। শিশুটি বিরলতম চর্মরোগ হার্লেকুইন ইচথিয়োসিসে আক্রান্ত। এই রোগে চামড়ার উপরে একটি মোটা স্তর পড়ে যায়। এটি একটি জিনগত জটিল রোগ। এতে শুধুমাত্র সদ্যোজাতরাই আক্রান্ত হয়। তবে সমীক্ষা বলছে, আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কম। লাখে একটি শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়। তবে আক্রান্তের বাঁচার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। যদিও শিশুটিকে সুস্থ ও স্বাভাবিক করে তুলতে তৎপর জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালের চিকিৎসক থেকে শুরু করে নার্স ও অন্যান্য কর্মীরাও। ইতিমধ্যেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে হাসপাতালের তরফে। সেই কমিটিতে শিশু বিশেষজ্ঞের পাশাপাশি চর্মরোগ বিশেষজ্ঞও রয়েছেন। নিরন্তর চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে সদ্যোজাতকে সুস্থ করে তোলার প্রক্রিয়া চলছে।

অন্যদিকে বংশের উত্তরাধিকারীর এই অসুস্থতা নিয়ে দৃশ্যতই অসন্তুষ্ট রেখাদেবীর শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তাদের দাবি, নিশ্চয় গ্রহণের সময় নিয়ম ভেঙে খাওয়াদাওয়া করেছিলেন রেখাদেবী। তাই এমন সন্তানের জন্ম হয়েছে। খুশির বদলে অসন্তোষের ছায়া দেখে আরও ভেঙে পড়েছেন ওই গৃহবধূ। যদিও এসব গ্রহণের তত্ত্ব মানতে রাজি নন হাসপাতাল সুপার গয়ারাম নস্কর। তিনি বলেছেন, বিরলতম চর্মরোগে আক্রান্ত সদ্যোজাত। জিনগত রোগটি যে কোনও শিশুরই হতে পারে। শিশুটির চিকিৎসা চলছে হাসপাতালের সিক নিউবর্ন কেয়ার ইউনিটে।