ওই ছেলেটার ওপর আমার কোনো রাগ নেই: জাফর ইকবাল

53

নিউজ ডেস্ক::
ফয়জুর রহমান ওরফে ফয়জুল নামের যে যুবকের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দীর্ঘ ১১ দিন হাসপাতালের বিছানায় কাটাতে হয়েছে, তার ওপর কোনো রাগ নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

চিকিৎসা শেষে বুধবার দুপুরে নিজের কর্মক্ষেত্র শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ফিরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে জাফর ইকবাল বলেন, ‘আমার খুব ভালো লাগছে ক্যাম্পাসে ফেরত এসে। মনে হচ্ছিল প্রথমে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে-মেয়েদের নিজে এসে বলি যে, আমি ভালো আছি। এরপর ঢাকায় ফিরে গিয়ে বিশ্রাম নেব। এ দুর্ঘটনা না ঘটলে আমি কখনোই টের পেতাম না যে, বাংলাদেশের এত মানুষ আমাকে এত ভালোবাসে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি মৃত্যুর খুব কাছাকাছি থেকে ফেরত এসেছি তো, তাই আমার পারস্পেকটিভ চেঞ্জ হয়ে গেছে। এখন ব্যক্তিগতভাবে আমার কারও ওপর কোনো রাগ নাই। ওই ছেলেটার ওপর আমার কোনো রাগ নাই। বরং ওর জন্য আমার এক ধরনের মায়া হয়। এই সুন্দর পৃথিবীতে সে এত সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারত। কিন্তু তা না করে সে বিভ্রান্ত হয়ে এসব করেছে। আমি চাই, আর যেন কেউ বিভ্রান্ত না হয়।’

জাফর ইকবালের আগমন উপলক্ষে ক্যাম্পাসের ভেতরে কঠোর নিরপত্তা এবং বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা আগের চেয়ে জোরদার করা হয়েছে। ড. জাফর ইকবালের অফিস, বাসা, এমনকি তিনি যেখানে যাবেন সঙ্গে পুলিশ থাকবে। তাছাড়া ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ৫১ জন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এর আগে বেলা ১২টা ৪৫ মিনিটে নভোএয়ারের একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে জাফর ইকবালকে স্বাগত জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ মো. ইলিয়াস উদ্দীন বিশ্বাস, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. রেজা সেলিমসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকেরা।

বেলা দেড়টার দিকে স্ত্রী অধ্যাপক ইয়াসমিন হক, মেয়ে ইয়েশিম ইকবালকে নিয়ে ক্যাম্পাসে ফেরেন জাফর ইকবাল।

প্রসঙ্গত, গত ৩ মার্চ সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি অনুষ্ঠান চলাকালে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায় ফয়জুল হাসান নামে এক তরুণ। তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচার শেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে এয়ারঅ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়।