বিয়ের আসর থেকে উদ্ধার নাবালিকা মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী, পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠাল পুলিশ

31

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মাধ্যমিক পরীক্ষার মাঝেই মেয়ের বিয়ের ঠিক করে ফেলেছিলেন বাড়ির লোকেরা। বুধবার, ভুগোল পরীক্ষার দিন বিয়ে হওয়ার কথা ছিল মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর। কিন্তু, নাবালিকার বিয়ে রুখে দিল পুলিশ। বিয়ের আসর থেকে উদ্ধার করে ওই কিশোরীকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠালেন পুলিশকর্তারা। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজারে।

মন্দিরবাজারের কৃষ্ণরামপুর এলাকার বাসিন্দা সংগীতা নস্কর। স্থানীয় রঘুনাথপুর হাইস্কুলের ছাত্রী সে। এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে সংগীতা। বাবা নিতাই নস্কর পেশায় শ্রমিক। অভাবের সংসার। মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীনই মেয়ের বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। পাত্র শ্রীকান্ত মণ্ডল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঘুঁটিয়ারি শরিফের বাসিন্দা। বুধবার গোধুলি লগ্নে শ্রীকান্ত ও সংগীতার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। সকালে মেয়ের বাড়িতে চলছিল গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান। ফুল ও মালা দিয়ে সাজানো হয়েছিল বাড়ি। কিন্তু, শেষরক্ষা হল না। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী নাবালিকার বিয়ে খবর পৌঁছে যায় মন্দিরবাজার থানায়। বিয়ের দিন সকালে পাত্রীর বাড়িতে হাজির হয় পুলিশ। অপ্রাপ্তবয়সে বিয়ের হাতে রক্ষা পায় ওই কিশোরী। শুধু বিয়ে রুখে দেওয়াই নয়, সঙ্গীতার যাতে পরীক্ষা দিতে পারে, সে ব্যবস্থা করেন পুলিশকর্তারা। বিয়ের আসর থেকে তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় পরীক্ষাকেন্দ্রে। মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে পেরে খুশি সংগীতা নস্কর। ওই কিশোরী জানিয়েছে, পড়াশোনা করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে চায় সে। এই বিয়েতে তার মত ছিল না। কিন্তু, বাড়ির লোকের চাপে বাধ্য হয়েই বিয়ে করতে হচ্ছিল।

সোমবার কলকাতায় বিপাকে পড়েছিল এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। ভুল পরীক্ষাকেন্দ্রে চলে গিয়েছিল সে। বিষয় যখন ওই পরীক্ষার্থী বুঝতে পারে, তখন পরীক্ষা শুরু হতে মাত্র ১০ মিনিট বাকি। শেষপর্যন্ত, ওই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ও অভিভাবককে বাইকে চাপিয়ে সঠিক পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেন কলকাতা পুলিশের এক ইনস্পেক্টর। শহরের রাজপথে গ্রিন করিডর তৈরি করে ট্রাফিক পুলিশ। সোমবার থেকে শুরু হয়েছে মাধ্যমিক। সোমবার ও মঙ্গলবার ছিল প্রথম ও দ্বিতীয় ভাষার পরীক্ষা। বুধবার ভুগোল পরীক্ষা দিল মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা।