‘রেফারিকে কত টাকা দিয়েছে রিয়াল?’

18

স্পোর্টস ডেস্ক::
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষে রেফারিদের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। এই তো কদিন আগে শেষ ষোল’র প্রথম লেগেও রেফারির বিরুদ্ধে রিয়ালের পক্ষে বাঁশি বাজানোর অভিযোগ তুলে পিএসজি। গত মৌসুমের সেমিফাইনালে একই অভিযোগ তুলেছিল বায়ার্ন মিউনিখও। অতীতের ধারাবাহিকতায় রিয়াল মাদ্রিদ আবারও রেফারির পক্ষপাতিত্বের কাঠগড়ায়। এবার শুধু অভিযোগ নয়, জুভেন্টাসের বর্ষিয়ান ডিফেন্ডার এই প্রশ্নও তুলেছেন, রিয়াল মাদ্রিদের কাছে কত টাকায় বিক্রি হয়েছেন রেফারি? রেফারিকে কত টাকা দিয়েছে রিয়াল?

কিয়েলিনি প্রশ্নটা তুলেছেন ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে তাদের বিরুদ্ধে পেনাল্টি দেওয়ার ক্ষোভ থেকে। যে পেনাল্টি গুঁড়িয়ে দিয়েছে জুভেন্টাসের সেমিফাইনাল স্বপ্ন। সম্ভাবনা জাগিয়েও জুভরা লিখতে পারেনি রূপকথার গল্প। উল্টো শঙ্কার মেঘ ফুড়ে সেই পেনাল্টি রিয়াল মাদ্রিদকেই তুলে দিয়েছে সেমিফাইনালে। পেনাল্টি থেকে গোল করে রিয়ালকে সেমির টিকিট এনে দিয়েছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো।

গত ৩ এপ্রিল নিজেদের ঘরের মাঠের প্রথম লেগে ৩-০ গোলে হেরে যায় জুভেন্টাস। ফলে সেমিফাইনালে উঠতে হলে গতকাল ফিরতি লেগে জুভেন্টাসকে জিততে হতো অন্তত ৪-০ গোলে। ম্যাচটাকে অতিরিক্ত সময়ে টেনে নিতে হলেও জিততে হতো অন্তত ৩-০ গোলে। রিয়ালের ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় এই সমীকরণটা প্রায় মিলিয়েই ফেলছিল জুভেন্টাস।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট পেরিয়ে ম্যাচে তখন যোগ করা বা ইনজুরি সময়ের খেলা চলছে। তখনো পর্যন্ত সফরকারি জুভেন্টাস ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে। মানে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-৩ সমতা। ম্যাচটা অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গড়াচ্ছে, এটাকেই তখন মনে হচ্ছিল নিয়তি। ঠিক তখনই রেফারির সেই পেনাল্টির বাঁশি। বল নিয়ে জুভেন্টাসের ছোট বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েন রিয়ালের ফরোয়ার্ড লুকাস ভাজকুয়েজ।

বিপদ বুঝে তাকে পেছন থেকে হাত দিয়ে ধাক্কা দেন জুভেন্টাস ডিফেন্ডার বেনাতিয়া। সঙ্গে সঙ্গেই পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। অন্য সময় হলে হয়তো রেফারির এই পেনাল্টি সিদ্ধান্ত নিয়ে জুভেন্টাসের খেলোয়াড়েরা এতোটা প্রতিবাদী হতো না। রেফারির বিরুদ্ধে এতোটা প্রতিক্রিয়া দেখাতো না।

কারণ, যেভাবে পিঠে ধাক্কা দিয়ে ভাজকুয়েজকে ফেলে দেন বেনাতিয়া, তাতে পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়ে রেফারি মাইকেল অলিভিয়ের মহাভারত অশুদ্ধ করেননি! পেনাল্টির সিদ্ধান্তটা যুক্তি সংগতই। তবে চাইলে তিনি পেনাল্টি নাও দিতে পারতেন। পেনাল্টি দেওয়া না দেওয়ার সিদ্ধান্তটা একান্তই তার ছিল। তিনি যেটা ভালো মনে করেছেন, সেটাই করেছেন।

নিজেদের বিপক্ষে গেলে রেফারির পেনাল্টির সিদ্ধান্ত প্রতিটা দলই প্রশ্ন তুলে। সেখানে কাল বার্নাব্যুতে তো পেনাল্টিটা দেওয়া হয়েছে ম্যাচের অন্তিত সময়ে। সেই পেনাল্টিই আবার গড়ে দিয়েছে ম্যাচের ভাগ্য, সেমিফাইনাল ভাগ্য। স্বাভাবিকভাবেই পেনাল্টির প্রতিবাদে রেফারির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান জুভেন্টাসের খেলোয়াড়েরা।

কিয়েলিনি থেকে শুরু করে অধিনায়ক জিয়ানলুইজি বুফন, সবাই তেড়ে যান রেফারির দিকে। জুভেন্টাসের খেলোয়াড়েরা বাগ-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন রিয়ালের খেলোয়াড়দের সঙ্গেও। তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অধিনায়ক-গোলরক্ষক বুফন তো লালকার্ডও পেয়েছেন। মাঠেই কিয়েলিনি প্রশ্ন ছুড়ে দেন, রেফারিকে কত টাকা দিয়েছে রিয়াল?

শুধু মাঠেই তীব্র প্রতিক্রিয়া-প্রতিবাদ জানানো নয়। ম্যাচ শেষেও রেফারির বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝেড়েছেন জুভেন্টাস খেলোয়াড়েরা। ম্যাচ শেষে ইতালিয়ান টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিয়েলিনি রেফারির পেনাল্টি সিদ্ধান্তকে আখ্যায়িত করেছেন ‘ডাকাতি’ বলে!

সরাসরিই বলেছেন, ‘আমার ক্যারিয়ারে এটাই সবচেয়ে বড় ডাকাতি। এটা স্পষ্ট যে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়াল মাদ্রিদ সব সময়ই বিশেষ সুবিধা পায়। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি।’ গত মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে সেই ম্যাচের উদাহরণও টেনেছেন কিয়েলিনি, ‘গত বছর কি ঘটেছিল, সেটা এখনো বায়ার্ন মিউনিখ মনে রেখেছে।’

জুভেন্টাসের আরেক খেলোয়াড় মিরালেম পিজানিচ নিজের তীব্র প্রতিক্রিয়া অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন ইনস্টাগ্রামে এক শব্দের এক পোস্টের মাধ্যমে। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘লজ্জা।’ বুফন তো পশুর সঙ্গেই তুলনা করেছেন রেফারিকে। বলেছেন, ‘ম্যাচের ৯৩ মিনিটে পেনাল্টি দেওয়াটা পশুর কাজ।’ জুভেন্টাস কোচ মাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রিও রেফারির সিদ্ধান্ত হতবাক।

শুধু রিয়াল নয়, স্পেনের আরেক ক্লাব বার্সেলোনার পক্ষেও রেফারিদের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আছে ভুরিভুরি। ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে এই কথাটা প্রচলিতই হয়ে গেছে, স্পেনের দুই জায়ান্টকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জেতানোর মিশন নিয়েই মাঠে নেমেছে উয়েফা। ইউরোপিয়ান ফুটবল সংস্থাটি নিজেদের সেই ইচ্ছা মাঠে পূরণ করেন রেফারিদের দিয়ে! গতকালের ঘটনা, সেই গুঞ্জনকেই আরও জোরালো করল। যদিও রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ওটা আসলেই পেনাল্টি ছিল। রেফারি সঠিক সিদ্ধান্তই দিয়েছেন।

পেনাল্টি থেকে নায়ক বনে যাওয়া ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো যেমন বলেছেন, আমি বুঝতে পারছি না, পেনাল্টি নিয়ে জুভেন্টাস কেন এমন প্রতিবাদ জানাল। এটা সত্যিকার অর্থেই পেনাল্টি ছিল। ভাজকুয়েজকে ধাক্কা না দিলে ওটা গোলই হতো।’