দিল্লিতে পুড়ে ছাই রোহিঙ্গা শিবির, সাহায্যে এগিয়ে এলেন স্থানীয়রা

37

আন্তর্জাতিক ডেস্ক::
রাজধানী দিল্লিতে রহস্যজনকভাবে পুড়ে ছাই রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির। রবিবার ভোর রাতে দক্ষিণ দিল্লির কালিন্দি কুঞ্জ এলাকায় রোহিঙ্গাদের শিবিরে আগুন লাগে। পুড়ে ছাই হয়ে যায় শিবিরের প্রায় ৪৪টি ঝুপড়ি। ওই শিবিরে প্রায় ২২৮ জন শরণার্থী রয়েছেন। এই ঘটনায় কার্যত দিশেহারা তাঁরা।

সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, দিশেহারা শরণার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও স্থানীয় মানুষজন। এক শরণার্থী জানান, “আমাদের সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। এই বিপদে স্থানীয়রা আমাদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন। পুলিশ ও প্রশাসন যথেষ্ট ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে আমাদের রাষ্ট্রসংঘের দেওয়া পরিচয়পত্র পুড়ে গিয়েছে। বুঝতে পারছি না কী করব।” আগুনে যদিও কারও মৃত্যু হয়নি, ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই ব্যক্তি। তবে তাঁরা চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন। আগুনে রাষ্ট্রসংঘের দেওয়া উদ্বাস্তু পরিচয়পত্র পুড়েছে অনেকের৷ তাঁদের একাংশ সন্দেহের চোখেই দেখছেন বিষয়টিকে

দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, এদিন ভোররাতে সওয়া তিনটে নাগাদ ক্যাম্পে আগুন লাগে৷ দমকলের ১২টি ইঞ্জিন প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন আয়ত্তে আনে৷ কিন্তু তার আগেই ৪৪টি ঝুপড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যায়৷ সময়মতো খবর দিলেও দমকল আসতে দেরি করে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন বাসিন্দারা। যদিও আগুন লাগার সঠিক কারণ জানা যায়নি, শর্টসার্কিট থেকেই আগুন লেগেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ঘটনাটির নেপথ্যে রহস্য রয়েছে বলেই মনে করছেন শরণার্থীদের একাংশ। তাঁদের দাবি পরিকল্পিতভাবেই আগুন লাগানো হয়েছে ক্যাম্পে।

ইতিমধ্যে, ভারত থেকে রোহিঙ্গাদের বিতাড়নে উদ্যোগী কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে চলা মামলায় অন্তর্বর্তী আবেদন করে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি উল্লেখ করা যায় কি না, তা নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গারা৷

উল্লেখ্য, ভারতে প্রায় ৪৪ হাজার রোহিঙ্গা রয়েছে। যাঁদের অনেকেই অবৈধভাবে প্রবেশ করেছেন। তাই অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠাতে তৎপর হয়েছে কেন্দ্র। মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে চলা সংঘর্ষের জেরে রোহিঙ্গারা ভারত, বাংলাদেশ ও নেপালে ঢুকে পড়ছে। তাঁদের ফিরিয়ে নিতে টালবাহানা করছে সু কি সরকার। ফলে ক্রমশই জটিল হয়ে উঠছে শরণার্থী সমস্যা।