পুকুর খুঁড়তেই মিললো দুই-টন ওজনের মিসাইল বোমা!

48

আন্তর্জাতিক ডেস্ক::
মিসাইল বোমা, তাও আবার একটা নয় দুটো! লম্বায় প্রায় পাঁচ থেকে ছয় ফুট। সঙ্গে ভর্তি বিস্ফোরক। শুধুমাত্র বিস্ফোরকের ওজনই প্রায় পাঁচশ পাউন্ড। সিলিন্ডার সহ তা কমপক্ষে এক টন। দু’টি বোমার আনুমানিক ওজন দু’টনের কাছাকাছি।

ঘটনাস্থল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়ার হাঁসখালি থানার ছোটচুপুরিয়া গ্রাম। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, সেগুলো কোনো বোমারু বিমান থেকে ছোঁড়া বোমা। জেলা পুলিশ সুপার সন্তোষ পাণ্ডে জানিয়েছেন, হতে পারে বোমা দু’টি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এরোপ্লেন থেকে ফেলা হয়েছিল। সেনাবাহিনীর বম্ব স্কোয়াডের লোকজন দেখে গিয়েছে। দেখা যাক, ওরা কী বলে। বোমা দু’টি এখন মাটি চাপা দিয়ে রাখা আছে। সারাক্ষণ পুলিশ পাহারা রয়েছে।

বোমা দু’টির সিলিন্ডারের গায়ে কিছু লেখা থাকলেও তা অস্পষ্ট। তবে অনেকেরই অনুমান বোমা দু’টি সম্ভবত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কালীন। হয়তো ছোঁড়া হয়েছিল, কিন্তু ফাটেনি। এত বছর ধরে মাটির নিচে চাপা থাকায় বোমা দু’টি এখনও সক্রিয় কি না, তা সোমবার রাত পর্যন্ত স্থানীয় পুলিশের কাছেও স্পষ্ট নয়।

এদিন ভারতীয় সেনাবাহিনীর বম্ব স্কোয়াডের লোকজন বোমা দু’টি খতিয়ে দেখে গেলেও তারা স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি। শুধু দেখে জানিয়ে গিয়েছেন, পরীক্ষা চলছে, পরে জানানো হবে। এই মুহূর্তে বোমা দু’টি হাঁসখালি থানা এলাকার একটা ফাঁকা জায়গায় মাটি খুড়ে পুঁতে রাখা রয়েছে। ওপরে বালি চাপা দেয়া হয়েছে। তার ওপর রাখা রয়েছে বালির বস্তা। ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আশেপাশে কাউকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।

জানা গেছে, ছোটচুপুরিয়া গ্রামে প্রায় আড়াই কাঠা একটি পুরনো পুকুর সংস্কারের কাজ চলছিল। সংস্কারের কাজের সময় শনিবার জেসিবি মেশিনের চালক সোম মল্লিকের গাড়িতে একটা শক্ত কিছু বাধে। সেদিন কাউকে কিছু না বলে সে পরদিন ফের মাটি কাটতে থাকে। রোববার বিকালে মাটি কাটার সময় মেশিনে বাধে দু’টি সিলিন্ডার।

পুলিশ সূত্রে খবর, গুপ্তধন মনে করে কাদামাখা সিলিন্ডার দু’টি বাড়ি নিয়ে যায় মেশিন চালক। বাড়িতে গিয়ে মাটি ধুয়ে ফেলতেই তার কাছে সিলিন্ডার দু’টি অন্য জাতীয় কিছু বলে সন্দেহ হয়। ততক্ষণে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায় গ্রামের লোকজনের মধ্যেও। খবর যায় হাঁসখালি থানার পুলিশের কাছে।

পুলিশ গিয়ে মিসাইল দুটিকে সাবধানে উদ্ধার করে নিয়ে আসে থানায়। এরপর অতি সাবধানে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয় বোমা দু’টি। সেগুলি আদৌ এখনও সক্রিয় কী না, তা নিয়ে পুলিশ কর্মীদের মধ্যেও রয়েছে আতঙ্ক। কখন কী হয়, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না পুলিশকর্মীদের।
যে পুকুরের মাটি কাটতে গিয়ে বোমা দু’টি মিলেছে, সেই পুকুরটি বোমাপুকুর নামেই খ্যাত। তাই সেই পুকুরে এমন বোমা মেলায় প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়েছে মানুষের মধ্যে।

পুকুর সংস্কারের জন্য সোমবার ফের মাটি খোঁড়া শুরু হলে তড়িঘড়ি তা বন্ধ করে দেয়া হয়। গ্রামের মানুষের ধারণা, বোমা দু’টি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের হতে পারে। তবে তা এখনই নিশ্চিত নয়। তাদের আরও ধারণা ওই পুকুরে আরও এমন বোমা থাকতে পারে।

জেসিবি মেশিন চালক সোম মল্লিকের বক্তব্য, মেশিন চালানোর সময় শক্ত কিছু একটা বাধে। কী জিনিস বুঝতে না পেরে বাড়ি নিয়ে যাই। পরে সিলিন্ডার জাতীয় জিনিস দেখে ভয় লাগে। পুলিশ ওই দু’টি বোমা নিয়ে গিয়েছে।

জমির মালিক আনিসুর রহমান জানান, শুনলাম, ওগুলি বোমা। তবে এত বড় বোমা হয় ধারণা ছিল না।