কে নেবে রাজীবের দুই ভাইয়ের দায়িত্ব?

37

নিউজ ডেস্ক::
মাথার ওপরের ছাদটা সরে গেছে। নিভে গেছে একমাত্র আশার আলো। এই সময় তো শোকে পাগল হয়ে যাওয়ার কথা তাদের। কিন্তু তাদের চোখে এক ফোঁটাও জল নেই। শোকে হতবিহ্বল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দুই কিশোর। বলছিলাম গত সোমবার দিবাগত রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া রাজীবের ছোট দুই ভাইয়ের কথা। ভাইয়ের মৃত্যুতে এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তাদের ভবিষ্যৎ। এখন কি হবে, কোথায় যাবে এসব কিছুই জানে না তারা।

মঙ্গলবার ঢামেকের মর্গের সামনে দাঁড়িয়েছিল রাজীবের ছোট দুই ভাই। তারা পড়ে যাত্রাবাড়ী এলাকার তামিরুল মিল্লাত দাখিল মাদ্রাসায়। একজন ষষ্ঠ ও অন্যজন সপ্তম শ্রেণিতে। এই দুই ভাইয়ের পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য পড়ালেখার ফাঁকে একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ করতেন রাজীব। তাদের বাবা-মা নেই। তাদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাঁশবাড়ি গ্রামে। একসময় সেখানেই থাকত পরিবারটি।

রাজীব তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় মা এবং অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় মারা যান তাদের বাবা। এরপর ছোট দুই ভাইকে নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন রাজীব। ঢাকার মতিঝিলে খালার বাসায় থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন। এরপর ভর্তি হন সরকারি তিতুমীর কলেজে। স্নাতকের (বাণিজ্য) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন রাজীব। গত ৩ এপ্রিল দুই বাসের রেষারেষিতে ডান হাত হারান রাজীব। ঢামেকে ৭ দিন কমায় থাকার পর কাল রাতে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। তার মৃত্যুতে চোখে মুখে অন্ধকার দেখছে কিশোর দুটি।

রাজীবের মেঝ ভাই মেহেদী হাসান সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা এই কিশোর জানায়, ‘এখন তো আর ভাইয়া নেই। কী হবে জানি না।’ তবে তাদের আশা কেউ না কেউ হয়ত তাদের দায়িত্ব নেবে। নইলে রাস্তায় নামতে হবে রাজীবের দুই ভাইকে।