কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত ভারতীয় ধর্মগুরু আসারাম

39

আন্তর্জাতিক ডেস্ক::
পাঁচ বছর আগে রাজস্থানে নিজের আশ্রমে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে ভারতের স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপুর বিরুদ্ধে।বুধবার যোধপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে এক অস্থায়ী আদালতে আসারামকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দেন বিচারক মধুসূদন শর্মা, খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

আসারামের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজস্থানসহ ভারতের চারটি রাজ্যে নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বন্ধ রাখা হয়েছে যোধপুরের কেন্দ্রীয় কারাগার। গণমাধ্যমকর্মীদেরও সেখানে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।আসারাম ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণার আগে রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা ও দিল্লিতে আগাম সতর্কতা জারি করে ভারতীয় প্রশাসন।

ভারতজুড়ে আসারামের প্রায় ৪০০ আশ্রম ও বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ অনুসারী রয়েছেন।তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে রাজি হওয়া নয় জন প্রত্যক্ষদর্শী বিভিন্ন সময় হামলার শিকার হয়েছেন, তাদের মধ্যে তিন জন মারা গেছেন।এমনকি আশারামের ভক্তরা পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপরও হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিচারের রায়ে ৭৭ বছর বয়সী আসারাম বাপুকে ধর্ষণ, মানবপাচার এবং শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এসব অপরাধে অন্তত ১০ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাভোগ করতে হতে পারে তাকে।তার সঙ্গে যে চার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল, তাদের মধ্যে দুজন দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং অপর দুজনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

যে কিশোরীকে আসারাম ধর্ষণ করেছিলেন তার বাবা বলেছেন, আসারাম দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, আমরা বিচার পেয়েছি। এই লড়াইয়ে যারা আমাদের পক্ষে ছিলেন তাদের সবার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আশা করি, তার কঠোর শাস্তি হবে।তিন আরও বলেন, যে প্রত্যক্ষদর্শীরা খুন ও অপহরণের শিকার হয়েছিলেন তারাও সুবিচার পাবেন বলে আশা করছি।

আসারামের মুখপাত্র নীলম দুবে বলেছেন, আমাদের আইনজীবীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবো আমরা। দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর আমরা আস্থাশীল।

২০১৩ সালে যোধপুরের কাছে নিজের আশ্রমে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেছিলেন আসারাম।মামলার চার্জশিটে বলা হয়, ওই কিশোরীর ওপর অশুভ আত্মা ভর করেছে এবং আত্মা তাড়াতে তাকে ঝাঁড়ফুঁক করাতে হবে বলে আসারামের ছিনদ্বারা আশ্রমের সেবকরা জানিয়েছিলেন। ওই সেবকদের কথামতো কিশোরীর বাবা-মা তাকে আসারামের যোধপুর আশ্রমে নিয়ে গেলে কিশোরীকে ধর্ষণ করেন আসারাম।

২০১৩ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে জেলেই রয়েছেন আসারাম। ১২ বার জামিনের আবেদন করলেও প্রতিবারই আবেদন খারিজ হয়েছে।