সিন্ধু সভ্যতা কি ধ্বংস হয়েছিল পানির অভাবে?

29

আন্তর্জাতিক ডেস্ক::
বিশ্বের প্রাচীনতম তিন সভ্যতার সর্ববৃহৎ সিন্ধু সভ্যতা শুরু হয়েছিল আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৩৩০০ সালে। ইতিহাস বলে, এই সভ্যতার শেষ হয় খ্রিস্টপূর্ব ১৩০০ সালে দিকে।ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ মর্টিমার হুইলারের বলেছিলেন, সিন্ধু সভ্যতার পতনের মূল কারণ ছিল মধ্য এশিয়ার আর্য-আক্রমণ। কিন্তু সম্প্রতি এক অবাক করা তথ্য প্রকাশিত হয়েছে যেখানে বলা হয়, সিন্ধু সভ্যতা শেষ হয়েছিল পানির অভাবে। এমনই দাবি ভারতের আইআইটি বিজ্ঞানীদের।

বলা হয় নদীকেন্দ্রিক সিন্ধু সভ্যতার থেকে তার নাগরিকরা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে গিয়েছিলেন বর্তমান ভারতের নানা স্থানে। সিন্ধু নদীর পাড় ঘেঁষেই বেড়ে উঠেছিল প্রাচীন এই সভ্যতা।তবে প্রকৃতির নিয়মে এক সময়ে এই নদী তার পথ বদলায়। ইতিহাসে আরো দুইটি নদীর কথা উল্লেখ আছে যার নাম ঘাগর ও হাকরা। যে নদী দুইটি পরিপূর্ণ হয়ে উঠত বর্ষাকালে।

গবেষকদের মতে, টানা প্রায় ৯০০ বছর অল্প পরিমাণ বৃষ্টির ফলেই খরা দেখা দিয়েছিল সিন্ধু সভ্যতার। এবং তা বিশাল আকার নেয় শেষ ২০০ বছরে।আইআইটি বিজ্ঞানীরা গত ৫০০০ বছরের বৃষ্টিপাতের রেকর্ড নিয়ে গবেষণা করছেন। কোন সময়ে বৃষ্টির পরিমাণ কম ছিল, তা নিয়ে গবেষণায় উঠে এসেছে নানা তথ্য।

সেখান থেকেই জানা গিয়েছে যে, আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ২৩৫০ থেকে ১৪৫০ সাল পর্যন্ত বৃষ্টির সমস্যায় ভুগতে হয়েছিল সিন্ধুবাসীদের।আইআইটি এর ভূতত্ত্ব বিভাগের প্রধান গবেষক অনিলকুমার গুপ্ত জানিয়েছেন, ওই খরার ফলেই সিন্ধু নদের মানুষ চলে আসেন ভারতের গঙ্গা-যমুনা উপত্যকায়।