ভারতকে হারিয়ে এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের মেয়েরা

38

স্পোর্টস ডেস্ক::
বহুজাতিক টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলেও শিরোপার স্বাদ পাওয়া হয়নি বাংলাদেশ জাতীয় পুরুষ ক্রিকেট দলের। সেই আক্ষেপ এবার ঘুচালো সালমা-রুমানারা। নারী এশিয়া কাপের ফাইনাল জিতে ইতিহাস গড়ল তারা।

রোববার এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস এক ম্যাচে ৩ উইকেটে জিতে যায় বাংলাদেশ। ফলে এশিয়ার মেয়েদের ক্রিকেটের চ্যাম্পিয়ন খেতাব জিতলো সালমা-রুমানারা।

কুয়ালালামপুরের কিনরানা ওভাল স্টেডিয়ামে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১১২ রান করে ভারত। এই রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ৭ উইকেট হারিয়ে প্রথমবারের মত এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশের মেয়েরা।

জয়ের জন্য ১১৩ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হলেও মাঝে বেশ চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে চতুর্থ উইকেটে ২৮ রানের জুটিতে দলকে জয়ের পথে ফেরান রুমানা আহমেদ ও নিগার সুলতানা। জয়ের জন্য শেষ ৫ ওভারে ৩১ রান দরকার ছিল বাংলাদেশের। আর হাতে ছিল ৭ উইকেট।

এমন পরিস্থিতিতে পরের ওভারেই নিগারকে ২৭ রানে তুলে নেন পুনম। বাংলাদেশের তখন ৪ উইকেটে ৮৩ রান। এসময় ভারতও করছিল দারুণ বোলিং। একবার ম্যাচের ভাগ্য ভারতের দিকে ছুটছিল, আরেকবার বাংলাদেশের দিকে। শেষপর্যন্ত লাল-সবুজের জার্সিধারী ব্যাটারদের দৃঢ়তায় ভারতীয় মেয়েরা আর টিকতে পারেনি। সেটা শেষ ২ ওভারেই দেখা গেল। এই ২ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ১৩ রান। ভারতের দীপ্তি শর্মার করা ১৯তম ওভারের মাত্র ৪ রান আসে বাংলাদেশের।

এরপর শেষ ওভারটা করতে আসেন ভারতের অধিনায়ক হারমনপ্রীত কাউর। তার প্রথম বলে ১ রান নেন সানজিদা। দ্বিতীয় বলে বাউন্ডারি মেরে পেন্ডুলামের মত দুলতে থাকা ম্যাচটা নিজেদের দিকে টেনে আনেন রুমানা। পরের বলে তিনি ১ রান নেন। চতুর্থ বলে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হন সানজিদা। সমীকরণটা নেমে আসে ২ বলে ৩ রান। ওভারের পঞ্চম বলে ১ রান নিলেও দুই রান নিতে গিয়ে রানআউট হন রুমানা (২৩)। জয়ের জন্য শেষ বলে দরকার ২ রান।

রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত। কি করবে বাংলাদেশ? এই সময় ব্যাট করছিলেন জাহানারা আলম। ডাউন দা উইকেটে এসে তিনি শট নিলেন। বল মিড উইকেটে চলে যায়। পড়িমরি করে দ্রুত দুটি রান। নিজেকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন জাহানারা। মাটিতে শুয়ে নিজেকে বাঁচিয়ে রান নেন। তারপর তো ইতিহাস! জয়ের আনন্দে উড়তে থাকে বাংলাদেশ।

২১ বছর আগে মালয়েশিয়ায় আইসিসি ট্রফি জিতে নতুন উচ্চতায় উঠেছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট। সেই মালয়েশিয়াতেই রচিত হলো আরেকটি ইতিহাস। বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে এক সোনালি অধ্যায়ের জন্ম দিল সালমাদের দল।

প্লেয়ার অব দ্যা ফাইনাল হয়েছেন বাংলাদেশের রুমানা আহমেদ।