ঈদে ছেলেদের পছন্দের তালিকায় পাঞ্জাবি

28

নিজাম উদ্দিন টিপু ::
আর মাত্র ক’দিন বাকী ঈদের। এবার ঈদকে ঘিরে নগরীতে জমে উঠছে উৎসব মুখর কেনাকাটা। ঈদে বরাবরই ছেলেদের পছন্দের তালিকায় প্রথমে থাকে পাঞ্জাবি। এ যেন বাঙ্গালীর ঐতিহ্য। তাই তো ঈদকে সামনে রেখে নিত্যনতুন পাঞ্জাবির কালেকশনে এখন সরগরম সিলেটের প্রতিটি ফ্যাশন হাউসগুলোতে।
কাটিং, কাপড় ,প্যার্টান সবকিছুতেই পরিবর্তন করে পাঞ্জাবির ভিন্ন কালেকশন সাজিয়েছে ফ্যাশন হাউসগুলো। কারণ, এখন তরুণদের প্রথম পছন্দ ভিন্ন ডিজাইন। সিলেটের শপিংমলগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন রং ও ডিজাইনের মনকাড়া সব আকর্ষণীয় পাঞ্জাবি।
গরমের ভিন্ন এই আবহাওয়ার সঙ্গে মিল রেখে পাঞ্জাবিতে ব্যবহার হয়েছে রঙিন সব কাপড়। এর মধ্যে অন্যতম লাল, নীল, সবুজ, কমলা, বেগুনী, কালো, সাদা, ছাই, ইত্যাদি। এক রঙের পাঞ্জাবি রয়েছে ছেলেদের পছন্দের শীর্ষে।
কাপড়ের মান ও এর কাজকে প্রাধান্য দিয়ে ঈদের পাঞ্জাবি কিনছেন তরুনরা। কাপড়ের মধ্যে রয়েছে খাদি, মটকা, সুতি, রাজশাহী সিল্ক, আদি মহিশুর সিল্ক, অ্যান্ডি সিল্ক, কাতান, প্রিন্স সামসী, কুশান, কাসিস, খানশা, শাহজাদা আদি, জয়শ্রী সিল্ক, অ্যান্ডি কটন, ইন্ডিয়ান সিল্ক, জাপানি ইউনিটিকা, মাইসরি কটন, তসর, সামু সিল্ক, ধুতিয়ান, ইন্ডিয়ান চিকেনসহ আরো নানা ধরনের কাপড়।
এ ছাড়া লিলেন কাপড়ের ওপর গর্জিয়াস কাজের পাঞ্জাবি আজকাল বেশি চলছে। লং, সেমিলং পাঞ্জাবির মধ্যে কারচুপি, এমব্রয়ডারি ও স্ক্রিনপ্রিন্টের কাজ করা হয়েছে। এ ছাড়া শেরওয়ানি স্টাইলের পাঞ্জাবিরও কদর রয়েছে বেশ।
নগরীর অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র আল-হামরা, শুকরিয়া, সিটি সেন্টার, প্লাজা, মধুবন, মিলিনিয়াম, মানরু, ব্লু ওয়াটার, হাসান মার্কেট, কাজি ম্যানসন, মনিপুরী শোরুম, আড়ং, শী, কাশিস, মনোরম, মেগাবাজার, কুশিয়ারা, নাজরানায় পাঞ্জাবি কিনতে সব বয়সের পুরুষের ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করার মত।
এছাড়া সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মহাজনপট্টীর ব্যবসালয়গুলোতে পুরুষের জন্য রয়েছে বিভিন্ন কোয়ালিটির পাঞ্জাবী ও যাকাতের জন্য পণ্যসামগ্রী। হাসান মার্কেটে রয়েছে সাধ ও সাধ্যের মধ্যে নারী পুরুষের ঈদ উপযোগী পণ্য সামগ্রী। এর মধ্যে দেশী-বিদেশী পাঞ্জাবীর সমাহার রয়েছে প্রায় প্রতিটি দোকানে।
এছাড়া জিন্দাবাজারে প্লাজা মার্কেট, শুকরিয়া মার্কেট, সিলেট মিলেনিয়াম, ব্লু-ওয়াটার শপিং সিটি, সিলেট সিটি সেন্টার এবং আল হামরা শপিং সিটির মতো মার্কেট ও বিভিন্ন শপিংমলগুলো রকমারি ও বাহারী কেনাকাটায় উৎসব মুখর হয়ে উঠছে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে আমরা সারা বছর ব্যবসা করছি এবং প্রতি বছরে ঈদুল ফিতর ফিরে আসে। রমজান মাসে ক্রয়-বিক্রয়ের হার সারা বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পায়।
সাধারণত ১৫ রমজানের পর থেকে ব্যবসা জমে উঠে এবং ঈদের চার-ছয় দিন পূর্ব থেকে নগরীর দোকানগুলোতে উপচেপড়া ভিড় থাকে। সব শ্রেণির মানুষের সুলভ মূল্যে ক্রয় ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য রয়েছে সিলেট নগরীর সুরমা মার্কেটের সম্মুখ থেকে কোর্ট পয়েন্ট, বন্দর বাজার, জিন্দাবাজার ও চৌহাট্টা পর্যন্ত ফুটপাতে নানা রকম পসরা ও পাঞ্জাবী।
বলা যায় স্বল্প আয়ের সববয়সী মানুষের জন্য সিলেট শহরের ফুটপাত কেনাকাটার জন্য বিশাল পরিসর।
ঈদে নগরীর ভিতরে ক্রেতা সাধারণ ছাড়াও শহরতলী ও বিভিন্ন উপজেলার গ্রাম অঞ্চলের ক্রেতা সাধারনও ভিড় করছেন শহরের দোকানগুলোতে। এবারে ভারতীয় পোষাকের বিশেষ আকর্ষন রয়েছে ক্রেতাদের নিকট এমনটাই জানান সিলেট নগরীর অনেক ব্যবসায়ী। এবার ছেলেদের নজর কাটছে সুলতান দবির পাঞ্জাবী। এছাড়াও ক্রেতাদের নিকট পাকিস্তানীসহ দেশি-বিদেশী বিভিন্ন কোয়ালিটি সম্পন্ন পাঞ্জাবীর আকর্ষন রয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে এবারে ঈদের কেনাকাটায় দেশি-বিদেশী পাঞ্জাবীর মধ্যে রাজশাহী সিল্ক, এনডি সিল্ক, খদ্দর পাঞ্জাবী, কাবুলী সেট, শার্ট কলার, অর্গেন্তি সুতি, ধূতি সুতি, জাপানী ইউনিটিকা, ইন্ডিায়ান আদি পাঞ্জাবী, রাইস কাবুলি সেট, জয়পুরি সিল্ক, জয়শ্রী সিল্ক।
বড়দের পাশাপাশি ছোটদের জন্য রয়েছে বিশেষ আকর্ষনীয় পাঞ্জাবির কালেকশন এমনটাই জানান শুকরিয়া মার্কেটের ‘কারুণ্য শপের’ ব্যবসায়ী এম.ডি নাসিম আহমেদ, ছয় মাসের বাচ্ছাদের জন্য আকর্ষনীয় পাঞ্জাবী ৬৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৭৫০০ টাকা পর্যন্ত।
জিন্দাবাজার পয়েন্টে ব্লু-ওয়াটার শপিং সিটির পাঞ্জাবী ব্যবসায়ী ভি.আই.পি আড়ং এর জুয়েল তালুকদার বলেন, আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এবারে ক্রেতাদের চাহিদা হচ্ছে দেশি প্রিন্ট পাঞ্জাবীর উপর। দোকানে বিভিন্ন ধরনের পাঞ্জাবীর মধ্যে ২৫০ টাকাথেকে শুরু করে ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত মূল্যের পাঞ্জাবী রয়েছে।
ঈদ বাজার করতে আসা শাহজালাল উপশহর হাইস্কুল এর শিক্ষক দেলওয়ার হোসেন বলেন, এ বছর ঈদের জন্য আমি ক্রয় করেছি সাদা ইউনিটিকা ১ হাজার ২শ টাকা এবং ইন্ডিয়ান মুদিকটন ৪ হাজার ৩শ ৮০ টাকা মূল্যের।
বন্দর বাজারের হাসান মার্কেটের ফাতেমা ক্লথ স্টোরের ব্যবসায়ী আকিক আলী জানান, এবছর ঈদ উপলক্ষ্যে ব্যবসার পরিস্থিতি ভাল। ২৮০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দেশি পাঞ্জাবী এবং এর চেয়ে আরও বেশি মূল্যের বিদেশী পাঞ্জাবী রয়েছে। ক্রেতাদের চাহিদা পাঞ্জাবীর প্রতি লক্ষণীয়। কারণ পাঞ্জাবী ছাড়া ঈদের আনন্দ অকল্পনীয়। সিলেট শহরের প্রাণকেন্দ্র বন্দর বাজার ও জিন্দাবাজার হকারদের ঈদ উপলক্ষ্যে রকমারী পসরার সমাহার লক্ষনীয়। এর সাথে স্বল্প মূল্যের বিভিন্ন ধরনের পাঞ্জাবী সাটানো ও মুখে মুখে হকার ব্যবসায়ীদের হাকডাক একদাম একরেইট ক্রেতাদের নজর কারে। পুরানলেনে আলী ম্যানশন এর সামনে ফুটপাতে পাঞ্জাবী ব্যবসায়ী হারুনুর রুশীদ জানান- ৪শ ৫০ টাকা এক মুল্যে পাঞ্জাবী বিক্রয় করছি সাথে পায়জামাও। দাম সস্তা বিদায় দেশি সুতি পাঞ্জাবীগুলোর কাস্টমার আমরা বেশি পাচ্ছি। আল্লাহর রহমতে বেচা-বিক্রি ভাল। ঈদ যত ঘনাবে বেচা-বিক্রি আরও বাড়বে।
এদিকে সিলেট নগরীর জনবহুল ও নন্দিত মার্কেট শুকরিয়া আধুনিক বিপনী কেন্দ্রের ‘ব্লাক মোর’ পাঞ্জাবী হাউজের ব্যবসায়ী হুমায়ুন আহমদ মাসুক জানান, পাঞ্জাবী বেচাকেনা এবং ঈদ উপলক্ষ্যে সার্বিক ক্রয়-বিক্রয় ভাল। সবধরনের ক্রেতাদের উপস্থিতি অন্যান্য মার্কেটের চেয়ে সারা বছরই তুলনামুলক বেশি থাকে আমাদের এখানে। আর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা এলেতো কথাই নেই ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় থাকে। ঈদ উপলক্ষ্যে আমি দেশি বিদেশী পাঞ্জাবী ক্রয় করেছি। দামও সাধ্যের মধ্যে। ঈদ উপলক্ষ্যে পাঞ্জাবী বিক্রয়ের পরিমান মোটামুটি ভালই হচ্ছে।