উৎসব হোক সমানে সমান : অনুবীক্ষনের ঈদের পোষাক পেয়ে খুশীতে আত্মহারা শিশুরা

27

কয়েকজন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা মিলে একটি সংগঠন দাঁড় করায়। আর সংগঠনের নাম দেয় অনুবীক্ষন। সমাজের যেখানেই সমস্যা তারা সেখানেই ছুটে যায়। কোন পরিবারে কি সমস্যা সেটি জেনে সেভাবেই তারা উদ্যোগ নেয়। উৎসব হোক সমানে সমান। ‘সমাজের সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষের জন্য জাগ্রত হোক ভালবাসা’ এবার শ্লোগানকে সামনে রেখে হত দরিদ্র এবং সুবিধা বঞ্চিত পরিবারের মধ্যে ঈদের পোষাক বিতরণ করে সামাজিক সংগঠন অনুবীক্ষন। গতকাল সোমবার সিলেট নগরীর বিভিন্নস্থানে ঈদ বস্ত্র বিতরণ করে অনুবীক্ষনের কর্মীরা। প্রথমে তারা সমাজের হত দরিদ্র পরিবারের খোঁজ নেয়। এরপর তারা যাচাই বাছাই করে সুবিধা বঞ্চিত পরিবারে বাড়িয়ে দেয় সহযোগিতার হাত।
বছর তিনেক সাধারন মানুষের কল্যাণে ধরে মাঠে ময়দানে কাজ করছে । গত শনিবার তারা সমাজের হত দরিদ্র লোকদের সঙ্গে ইফতার করে। তারা নিজ হাতে এসব লোকদের ইফতার পরিবেশন করে। যারা হাত দিয়ে খেতে পারছিলনা তাদেরকে নিজ নিজ হাতে খাইয়ে দেয় অনুবীক্ষনের কর্মীরা। রমজানের আগে অনেক বিদ্যালয়ে গিয়ে অসহায় দরিদ্র যেসব শিক্ষার্থী বেতন দিতে পারেনি তাদের বেতন পরিশোধ করে দেয়। পাশাপাশি অনেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে মৌসুমী ফল তারা বিতরণ করে। এভাবে তারা বেশ কিছু কর্মসূচী সফলভাবে সম্পন্ন করে। স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থীদের একটাই লক্ষ্য সমাজের কোন মানুষ যেন অবহেলিত না থাকে। তাই তারা সমাজের বৈষম্য দূর করতে নানা কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। কোন শিশু যাতে লেখাপড়ার সামগ্রীর কারনে যেন ছিটকে না পড়ে। সেজন্য তারা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ব্যাগ বিতরণ করে।
এবার তারা অসহায় শিশুদের মধ্যে ঈদ বস্ত্র বিতরণ করে। গতকাল সোমবার সকাল ১১ টা থেকে নগরীর শাহী ঈদগাহ, হাজারিবাগ, খাদিমপাড়া ও কল্লগ্রামসহ বিভিণœ এলাকায় তারা প্রায় ৫ শতাধিক শিশুদের মধ্যে ঈদের পোষাক বিতরণ করে। ছোট ছোট শিশুরা ঈদের পোষাক পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়ে। যেখানে নুন আনতে পান্তা ফুরায় সেখানে একটি ঈদের পোষাক পেয়ে অনেকেই আনন্দে কেদে ফেলেন।
কলÍগ্রাম এলাকার হাসিনা বেগম। তিন বছরের শিশুকে নিয়ে হাজির হন। অনুবীক্ষনের কর্মীরা শিশুর সাইজ মিলিয়ে মায়ের হাতে তুলে দেন লাল রংয়ের একটি ফ্রক। সেই ফ্রক হাতে পেয়ে শিশু আলীয়া বেগম হাসিতে আত্মহারা হয়ে পড়ে। শুধূ শিশূ আলীয়া নয় তার মত হাজারী বাগের মারুফ, মেহেদী, করিম, জাকিরসহ আরো অনেকেই ঈদের জামা পায়। আর একটি জামা পেয়ে তারা সকলেই আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়ে।
শিশু জাকিরের বাবা দিন মজুর আমিন মিয়া বলেন, সারাদিন খাটা খাটুনি করি। সামান্য টাকা পাই। চিন্তা করেছিলাম ছেলেকে আগামী দুদিন কাজ করে ছেলের জন্য জামা কিনব। তার আগেই আমার ছেলে একটি নতুন জামা পেয়েছে। এতে তিনি খুব খূশী বলে জানান আমিন মিয়া।
টাকা কিভাবে আসে এমন প্রশ্নের জবাবে তারা জানায় মা-বাবার কাছ থেকে বিভিন্ন সময় টিফিনের টাকা নতুবা সমাজের অসহায় দরিদ্রদের জন্য কিছু করার কথা বলে সচ্ছল মানুষের কাছ থেকে টাকা নেয়। ওই টাকা দিয়ে তারা বিভিন্ন স্কুল কলেজে ছুটে যায়।
অনুবীক্ষনের সভাপতি শফিকুর রহমান হিমু বলেন, আমরা যে হাসিটুকু চেয়েছিলাম সেটি পেয়ে গেছি। তিনি জানান, এসব অসহায় শিশুদের হাতে ঈদের জামা তুলে দিতে পেরে আমরা খুবই খুশী।
সংগঠনের সাধারন সম্পাদক বদরুল ইসলাম বলেন, এই সমাজ পরিবর্তন করতে হলে দলগত শক্তির প্রয়োজন। আমরা সবাই এক হলে সমাজে এ ধরনের অব্যবস্থাপনা থাকবেনা। একজনের বা সরকারের একার পক্ষে সবকিছু বদলে দেওয়া সম্বব নয়। তাই আমরা আমাদের সাধ্যমত কাজ করছি। যাতে সমাজে এ ধরনের অব্যবস্থাপনা না থাকে।
এসময় অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অণুবীক্ষনের সদস্য সামিহা জাহান, তৌহিদ আহাদ হৃদয়, সামিহা চৌধুরী, সুইটি, রুবায়েল, পারভেজ, মাহিম,আরিফ, শিপু প্রমুখ।-বিজ্ঞপ্তি