ঈদ উৎসবে রঙ্গিন নগরীর ফ্যাশন হাউজগুলো

14

সুবর্ণা হামিদ ::
ঈদ মানে নতুন পোষাকের ঘ্রাণ, ঈদ মানে রঙিন ও বাহারি নকশার পোশাকের সমাহার। রমজানের শুরু থেকে সেই রংয়ে যেন সেজে উঠেছে সিলেট নগরী। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বেশ কিছু কাল থেকে সিলেট শহরে গড়ে উঠেছে ছোট বড় অনেক ফ্যাশন হাউজ। ঈদ কে সামনে রেখে উৎসবের রংয়ে রঙ্গিন নগরীর সব গুলো ফ্যাশন হাউজ। নিজেদের বাহারি ডিজাইনের চমক নিয়ে ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে নানা ধরনের পোষাকের পশরা সাজিয়ে বসেছেন ফ্যাশন হাউজের বিক্রেতারা। এসব হাউজ গুলোর মধ্যে আড়ৎ, মাহা, মনোরম, শী, তুলনা, সহ আরো অনেক ফ্যাশন হাউজ রয়েছে। যারা ক্রেতাদের জন্য রুচিশীল, আরামদায়ক পোষাক তৈরি করে থাকেন, এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। দাম সহনীয় পর্যায়ে রেখে এবারের ঈদ কালেকশনে দেশি পোশাকের পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশী পোশাকের কালেকশনও রাখা হয়েছে ফ্যাশন হাউজগুলোতে। মেয়েদের জন্য নতুন নতুন ডিজাইনের শাড়ি, থ্রি-পিস, ফ্লোরটাচ গাউন, সিঙ্গেল কামিজ, লেডিস কুর্তি, স্কার্ট-টপস এবং ছেলেদের পাঞ্জাবি, শেরওয়ানি, জেন্টস কুর্তা, ফতুয়া, শার্ট, টি-শার্ট, পায়জামা, ধুতি, চুড়িদার ও প্যান্টের বিশাল সমাহার। এছাড়াও শিশুদের বৈচিত্রময় পোশাকসহ নানা উপহার সামগ্রী, মেয়েদের অর্নামেন্টস, ব্যাগ ও ঘর সাজানোর নানা অনুষঙ্গ পাওয়া যাচ্ছে।
ফ্যাশন হাউজ গুলোর নিত্য নতুন বাহারি ডিজাইনের পোষাকের জন্য ক্রেতারা বিদেশের তৈরি পোষাক বাদ দিয়ে আবারও দেশীও পোষাকের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন বলেন জানান ব্যবসায়ীরা। বিক্রেতারা আরো জানান শেষ মুর্হুতে জমে উঠেছে ফ্যাশন হাউজে ঈদ বাজার। এ ব্যাপারে নগরীর অভিজাত ফ্যাশন হাউজ মনোরম এর স্বত্ত্বাধিকারী চৌধুরী মোহাম্মদ সুহেল জানান বিগত বছরের তুলনায় এবার ঈদ বাজার মোটামোমুটি ভালো। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন এ বছর বৈশাখের ধান ঠিকমত কৃষকের গোলায় ওঠার পাশাপাশি দেশের পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকায় ক্রেতা উপস্থিতি ভালো। তবে অন্যান্য বছর তুলনায় এবার প্রবাসী ক্রেতার উপস্থিতি একেবারে কম বলে জানান তিনি। রমজান এগিয়ে আসায় এবার প্রবাসী ক্রেতারা দেশে আসেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি প্রবাসীরা দেশে আসতে তাহলে এবারের ঈদ বাজার আরো জমজমাট হতো। তবে প্রবাসীদের ছাড়াও তাদের ঈদের বাজারে ক্রেতা উপস্থিতিতে সন্তুষ্ট তারা।
নগরীর অন্যতম ফ্যাশন হাউস মাহা’র স্বত্তাধিকারী মাহি উদ্দিন সেলিম জানান, প্রতিবছরই তারা ঈদ কালেকশনে ক্রেতা চাহিদার কথা বিবেচনা করে পোষাক এবং অন্যান্য ফ্যাশন সামগ্রী সংগ্রহ করেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দেশী পোশাকের পাশাপাশি বিদেশী পোষাকের বিপুল সংগ্রহ রয়েছে তাদের। যার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে কাপড় ও প্রসাধনী সামগ্রী। যেগুলোর প্রতি ক্রেতাদেও আকর্ষণ বেশী। ক্রেতা উপস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় অনেক ভালো। তবে প্রবাসী আসলে সেটা আরো ভালো হতো। কিন্তু প্রবাসীদের ছাড়াও এবারের ঈদ বাজার বেশ জমজমাট বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নগরীর অন্যান্য ফ্যাশনহাউজগুলোর বিক্রয় কর্মীদেও সাথে কথা বলেও জানা গেলো একই তথ্য। এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় তাদেও সবারই বেচা-বিক্রি ভালো। পোষাকের দামও ক্রেতাদেও নাগালের মধ্যে। উদাহরণ হিসেবে তারা তুলে ধরেন অন্যান্য বছর যেখানে ৫ হাজারের নীচে ভালো একটি শাড়ী পাওয়া যেতো না এবার সেখানে ২ থেকে তিন হাজারের মধ্যে ভালো মানের শাড়ী পাওয়া যাচ্ছে। অনুরুপ ভাবে অন্যান্য পোষাকের ক্ষেত্রেও দাম সহনশীল রয়েছে বলে জানান তারা। তবে
ক্রেতাদের সাথে কথা বলেও এবার তাদেও সন্তুষ্টির কথা জানা গেলো। ব্যাংক কর্মকর্তা শিউলী বেগম জানান, তিনি সুতির কাপড় পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং এখন যেহেতু গরম তাই তার প্রথম পছন্দ সুতীর শাড়ী কিংবা কামিজ। তাই ঈদ বাজারে তিনি এমন কাপড় পছন্দ করেছেন এবং কিনেছেনও। এবারের ঈদে ফ্যাশন হাউসগুলোর কালেকশনের কাপড়ের রঙ এবং নকশা তার কাছে রুচিসম্মত বলে মনে হয়েছে উল্লেখ কওে বলেন, দামও মোটামুটি সহনীয় পর্যায়ে।