বিলীন হয়ে যাচ্ছে বাঙালির ঐতিহ্য ঈদ কার্ড

24

স্টাফ রিপোর্টার ::
পবিত্র ঈদুল ফিতর দরজায় কাড়া নাড়ছে। আর মাত্র ক’দিন পরেই পবিত্র ঈদুল ফিতর। মুসলিম উম্মাহ প্রধান উৎসবের মধ্যে ঈদুল ফিতর একটি। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতেই ঈদ কার্ডের প্রচলন। ঈদকে সামনে রেখে শহর বা গ্রাম, একসময় সবখানেই ছিল ঈদ কার্ডের ব্যবসা। সম্রাট আকবর তার শাসন আমলে প্রথম ঈদ কার্ডের প্রচলন করেন। তখন বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্যের সাথে যায় ঈদ কার্ড।
শুভেচ্ছা বিনিময় করার জন্য একজন অন্যজনকে ঈদ কার্ড দিত। কিন্তু প্রযুক্তির কারণে বাঙালির এই ঈদ কার্ডের সংস্কৃতি আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। এক সময় বন্ধু-বান্ধব, কিংবা সুসম্পর্ক আছে এমন মানুষদের ঈদ কার্ড পাঠিয়ে শুভেচ্ছা জানাত। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একসময় ঈদ কার্ড কেনার প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যেত। কিন্তু কালক্রমে ডিজিটালাইজেশনের ধাক্কায় ঈদ কার্ডের হারিয়ে যাচ্ছে এই রীতিটা।
ঈদ কার্ডের বদলে মানুষ এখন অভিনব পদ্ধতিতে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে তার প্রিয় মানুষটিকে। কেউ মোবাইল ফোনের ক্ষুদে বার্তায়, কেউ ফেসবুকে, কেউ টুইটারে, আবার কেউ ইমেইলের মাধ্যমে জানাচ্ছে ঈদের আমন্ত্রণ।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ কার্ডের ব্যবসায় খরা পড়েছে। তবে বিবাহ কার্ডের ব্যবসা করে তারা মোটামুটিভাবে চালিয়ে নিচ্ছেন তাদের জীবন। একটা সময় আবেগ ভালোবাসার বার্তায় ঈদ কার্ডের মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানাত প্রিয়জনদের। সময়ের বিবর্তনে আমরা এখন এনালগের সীমানা পেরিয়ে ডিজিটাল যুগে বসবাস করছি।
দেশ সেরা কার্ড বিক্রির প্রতিষ্ঠান আজাদ প্রোডাক্টস সিলেট ব্রাঞ্চের ম্যানেজার আব্দুর রউফের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ‘বর্তমান ডিজিটাল ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে ঈদকার্ডের ঐতিহ্য। বর্তমানে ঈদ কার্ডের তেমন ব্যবসা নেই। কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠান, অফিস ও রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির পক্ষ থেকে কার্ডের অর্ডার আসে। তাও হাতেগোনা মাত্র। এছাড়া ঈদ কার্ডের তেমন কোনো বিক্রি নেই। দশ বছর আগেও এমন অবস্থা ছিল যে ঈদের এই সময়টাতে দম ফেলার সময় থাকত না। সারাদেশ থেকে পাইকারি ও খুচরা ক্রেতাদের আগমনে আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরব থাকত।
সিলেট জেলা বারের আইনজীবী এডভোকেট নুরুল আমিন বলেন, প্রযুক্তি ঈদ কার্ডের জায়গাটা দখল করেছে ঠিকই তবে ঈদ কার্ডের আবদার এখনো ফুরিয়ে যায়নি। কারণ ভার্চুয়াল জগৎটা মানুষকে কখনোই ম্যানুয়ালি আনন্দ দিতে পারবে না। তাই এখনও যারা শুভেচ্ছা জানানোর ধারা বজায় রেখেছেন।
ঈদ কার্ডের বদলে মোবাইল মেসেজ আর ফেসবুকেই সব বন্ধুদের ঈদের শুভেচ্ছা পাঠিয়ে দেন। বর্তমান ডিজিটাল ও আধুনিকতায় এভাবেই হারিয়ে যাচ্ছে নিজেদের ঐতিহ্য। ঈদ কার্ড যেভাবে বিলুপ্ত হচ্ছে তাতে করে আগামী প্রজন্ম হয়তো জানবেই না ঈদ কার্ড কী? সেদিন হয়তো আর বেশি দূরে নয়, ইতিহাস হয়েই থাকবে আবহমান গ্রামবাংলার সুদীর্ঘ সময়ের এ সংস্কৃতিটি। এক সময় গুগলে সার্চ করলে শুধু ঈদ কার্ডের বিভিন্ন ডিজাইন দেখা যাবে কিন্তু বাস্তবে এটা দেখা দুঃসহ হয়ে পড়বে।