জগন্নাথপুরে রাণীগঞ্জ বাজারে দোকান চুরি : কিশোর নির্যাতনের অভিযোগে মামলায় ফাসানো হলো ১১ জনকে

245

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি ::
জগন্নাথপুর উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের রাণীগঞ্জ বাজারে দোকান চুরির সাথে জরিত ২ কিশোরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করায় উল্টো চোর আটক কারিদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলা দিয়ে হয়রানী করার ঘটনায় এলাকাবাসী নিন্দা জানিয়েছেন।গত ৪জুন সোমবার সন্ধ্যা রাতে রাণীগঞ্জ বাজারের ফ্যামিলি সপ দোকানে চুরির ঘটনায় সোলেমান (১৭) ও লেবু মিয়া (১৬) নামের ২ কিশোরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে চুরির ঘটনা স্বীকার করায় এবং চোরের সর্দারদের নাম প্রকাশ হওয়ায় কিশোর আটকের এক সপ্তাহ পর চুরির ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে চোর সোলেমানের পিতা শফিক মিয়া বাদি হয়ে চোর আটক কারী রইছ উদ্দিন সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে জগন্নাথপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ মামলার আসামী রাজিব তালুকদারকে গ্রেফতার করলে পর দিন আদালত থেকে তিনি জামিনে মুক্তি পান। গ্রামে গঞ্জে প্রবাদ আছে ‘চোরের মার বড় গলা’ আর সেই প্রবাদ বাক্যের একটুও ব্যতিক্রম ঘটেনি জগন্নাথপুর উপজেলার প্রাচিনতম ব্যবসা কেন্দ্র রাণীগঞ্জ বাজারে । দোকান চুরির সাথে জরিত থাকায় মালামাল উদ্ধার ও জড়িত অন্যান্য চোরদের তথ্য উদঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদ করায় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারনে আটক ঐ কিশোররা দোকান চুরির সাথে জড়িতদের নাম সহ গুরুত্ব পূর্ন তথ্য প্রকাশ করে। এতে একটি চক্র তাদের শত্রুতা মেটাতে শিশু নির্যাতনের এমন সাজানো ঘটনা সৃষ্টি করে রাণীগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বাগময়না গ্রামের বাসিন্দা বিশিষ্ট সমাজসেবী শালিষী ব্যাক্তি হাজি সুন্দর আলীর ছেলে শানুর মিয়া এবং ভাতিজা যুবলীগ কর্মী ব্যবসায়ী আকমল হোসেন কে জড়িয়ে ১১ জন সমাজ কর্মী ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে সুষ্টু তদন্তের মাধ্যমে দোকান চুরির ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।
একটি দুঃসাহসিক দোকান চুরির ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার হীণ উদ্দেশ্যে কু-চক্রিদের প্ররোচনায় শিশু নির্য়াতনের অভিযোগ সম্পুর্ন মিথ্যা বানোয়াট বলে দাবী করছেন রাণীগঞ্জ এলাকার ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল। এদিকে এলাকা বাসী দুঃখ প্রকাশ করে জানান দোকান চুরির সাথে জড়িত ২ কিশোর কে আটক করে চুরির তথ্য পাওয়ায় আটক কারিদের বিরুদ্ধে এ ধরনের একটি মামলার ঘটনায় এলাকাবাসী সকল বয়সী অপরাধীদের আটক থেকে বিরত থাকবে । এমন মন্তব্য করেছেন এলাকার বিভিন্ন বয়সী লোকজন।
গত ৪ জুন সোমবার সন্ধ্যা রাতে সাজু মিয়ার ফ্যামেলি শপ দোকানে চুরির ঘটনায় চোরেরা নগদ টাকা সহ ২ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে যায়। চুরির সাথে জড়িত রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের শফিক মিয়ার ছেলে সোলেমান মিয়া(১৭) ও রসুলপুর গ্রামের লেচু মিয়ার ছেলে লেবু মিয়া কে (১৬) আটক করা হয়।
ঐদিন রাতে গন্ধব্যপুর গ্রামের বাসিন্দা রাণীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইছরাক আলী ও রাণীগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ডা: ছদরুল ইসলাম সহ ব্যবসায়ীরা চুরির সাথে জড়িত আটক সোলেমান ও লেবু মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা চুরির সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জানায় চুরির সাথে রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের গন্ধব্যপুর গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে হাসিন মিয়া,রুকুম উল্লার ছেলে লায়েক মিয়া ও ভূট্রো মিয়ার ছেলে বদরুল মিয়া এবং টমটম চালক শাহজাহান মিয়া জড়িত রয়েছে। তারা এও জানায় প্রায় ১সপ্তাহ পূর্বে রাণীগঞ্জ বাজারে লিকছন মিয়ার দোকান ও একটি কামারের দোকান চুরি করেছে।
এদিকে রাত গভীর হওয়ায় বিষয়টি পরদিন সকালে স্থানীয় ভাবে নিস্পত্তির আশ্বাস দিয়ে ইউ পি সদস্য ইছরাক আলী আটক সোলেমান ও লেবু মিয়াকে বাগময়না গ্রামের রইছ উদ্দিনের বাড়িতে রাখার নির্দেশ দেন। পর দিন ৫ জুন সকালে থানায় জানানো হলে এ এস আই ফিরুজ মিয়া রাণীগঞ্জ বাজারে চুরি হওয়া দোকানটি পরির্দশন করেন। এসময় স্থানীয় লোকজন আটক সোলেমান ও লেবু মিয়াকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ঐদিন বিকেলে আটক সোলেমান ও লেবু মিয়ার পরিবারের লোকজন থানায় মুছলেখা দিয়ে নিয়ে আসেন।