পানিবন্দি কয়েক লাখ মানুষ

40

সবুজ সিলেট ডেস্ক ::
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের চার জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। বন্ধ হয়ে পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কয়েকটি স্থানে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এতে জনদুর্ভোগ আরো বেড়ে গেছে।

সুনামগঞ্জ, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও জামালপুরে কয়েকটি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যাজনিত সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের স্বার্থে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব রকম ছুটি বাতিল করেছে।

নীলফামারী : তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলা ও উপজেলার প্রায় ২০টি চর গ্রাম হাঁটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, ডিমলা উপজেলার তিস্তা অববাহিকার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা, ঝুনাগাছ চাঁপানী, চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার ২০টি চর ও গ্রামের পরিবারগুলো বন্যাকবলিত।

ঝুনাগাছ চাঁপানী ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যে ৭টি পরিবারের বসতঘর হুমকির মুখে পড়ায় তাদের নিরাপদে স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জ : উত্তর খুরমা, দক্ষিণ খুরমা, ইসলামপুর, নোয়ারাই, চরমহল্লা, জাউয়াবাজার, দোলারবাজার, ছৈলা আফজলাবাদ ও ছাতক সদর ইউনিয়নের প্রায় ৫ শতাধিক গ্রামে বন্যার পানি ঢুকেছে।

দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজ বলেন, উপজেলা সদরের মাঝেরগাঁওয়ের পাশে সুরমা নদীর ভাঙন সংলগ্ন এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পানি ওঠায় দোয়ারাবাজার-ছাতক সড়কে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এদিকে ছাতক উপজেলা সদরের সঙ্গেও অন্যান্য স্থানের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দেড় শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি প্রবেশ করায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

কুড়িগ্রাম : ধরলা, বারোমাসিয়া, নীল কমলসহ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে চলা সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তীরবর্তী এলাকায় হু হু করে পানি প্রবেশ করছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব এলাকার শত শত বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পানিতে তলিয়ে গেছে ধরলা সেতুর পূর্বপাড়ের বেড়িবাঁধটিও। ফলে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ধরলার পানি বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।

জামালপুর: উজানের ঢলে যমুনা-ব্রহ্মপুত্র নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পানির প্রচণ্ড স্রোতে ডেবরাইপ্যাঁচ এলাকায় ব্রিজ ও রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় চিনাডুলী ইউনিয়নের দক্ষিণ চিনাডুলী গ্রামের সঙ্গে উপজেলা সদরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

SHARE
Previous article
Next article