এইডেড স্কুলে পড়েও ‘স্বশিক্ষিত’ আরিফ

54

নুরুল হক শিপু ::
সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের হলাফনামায় মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর অধিকাংশই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়েও ‘স্বশিক্ষিত’। হলফনামায় অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে শুরুতেই চাওয়া হয়েছে প্রার্থীর সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার বর্ণনা ও সনদ। সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করতে গিয়ে কয়েকজন মেয়র ও কাউন্সিলরপ্রার্থী ‘তথ্য গোপন’ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। নয়জন মেয়রপ্রার্থীর মধ্যে দুজন নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতার উল্লেখ না করে লিখেছেন তারা ‘স্বশিক্ষিত’। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী জসিমউদ্দিনের মনোনয়নপত্র প্রাথমিক বাছাইয়ে বাতিল ঘোষণা করা হয়। অন্য প্রার্থী হলেন সদ্য সাবেক মেয়র ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী।
এ বিষয়ে স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী বদরুজ্জামান সেলিম বলেন, জানি না কোন কারণে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর ‘তথ্য প্রতারণার’ বিষয়টি নির্বাচন কমিশন এড়িয়ে যাচ্ছে। আরিফ সিলেট এইডেড স্কুলের ৭৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০১২ সালে যে স্কুল ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয় তাতে তার ছবিসহ পরিচয় আছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করে তিনি রাষ্ট্রের কাছে নিজেকে স্বশিক্ষিত দাবি করতে পারেন না। এখানে জ্ঞানের কথা বলা হয়নি, সহজভাবে শিক্ষাগত যোগ্যতার কথা বলা হয়েছে। তার যদি সেটি না থাকে তাও তিনি বলতে পারতেন। নির্বাচন কমিশনের উচিত তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা।
রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা ও সনদগ্রহণের পর রাষ্ট্রের প্রয়োজনে তথ্য দিতে গিয়ে নিজেকে ‘স্বশিক্ষিত’ দাবি করা প্রকৃত তথ্য গোপন করা কিনাÑ এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে সিলেট সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান এমন কোনো অভিযোগ পাননি বলে জানান। বিষয়টি নির্বাচনী আইনসিদ্ধ কিনা, জানতে চাইলে তিনি কোনো আইনজ্ঞের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর এমাদউল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহীন বলেন, সরাসরি ‘তথ্য গোপন’ না বললেও এটি অবশ্যই অসম্পূর্ণ তথ্য। অসম্পূর্ণ তথ্য গ্রহণ করবেন কিনা, এটা নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার।
বিষয়টিকে ‘প্রকৃত তথ্য গোপন’ হিসেবে দেখছেন সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি মোহাম্মদ লালাও। তিনি বলেন, যদিও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় না, কিন্তু এটি অবশ্যই প্রকৃত তথ্য প্রদান থেকে সরে আসা। ন্যূনতম শিক্ষা হলে তাকে ‘অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন’ বলা যেত।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরীর মতে, এটি সরাসরি তথ্য গোপন এবং নির্বাচন কমিশনের উচিত বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে দেখা। সিলেটে নির্বাচন কমিশনের কার্যকলাপ নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সম্প্রতি দেখলাম একজন প্রার্থীকে সময়ের আগে প্রচারের জন্য শোকজ করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত ভালো কাজ হয়েছে। কিন্তু অন্য প্রার্থীদের ব্যাপারে তাদের কোনো নড়াচড়া নেই। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা হলেও কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। সময়ের আগে প্রচার চলছেই।
কোনো বিধিভঙ্গ বা অনিয়মের ব্যাপারে স্বপ্রণোদিত হয়ে নির্বাচন কমিশনে তথ্য প্রদানে জনসাধারণের প্রতি নির্বাচন কমিশনের আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, তাদেরও উচিত প্রতিদিনের কার্যকলাপ জনগণকে জানানো। নয়জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে নয়টি টিম করা হয়েছে বলে জানি, কিন্তু তারা কী করছেন তা এখনো জানা গেল না। তারা প্রতিদিনের একটি আপডেট দিলে ভালো হতো। অনেক প্রার্থীর প্রদত্ত তথ্যেই অসঙ্গতি রয়ে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।