সিসিক নির্বাচন : অনলাইন প্রচারণায় সরগরম সিলেট

61
সবুজ সিলেট ডেস্ক ::
সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে দুই বড় দলের মেয়র প্রার্থী, স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী ও কাউন্সিলরদের। নির্বাচনী আচরণ বিধিকে পাশ কাটিয়ে বেশিরভাগই ব্যস্ত প্রচার-প্রচারণার কাজে। আচরণবিধির কারণে লুকোচুরিও কম করতে হচ্ছে না তাদের। নির্বাচন কমিশনের ভয়ে অনেক প্রার্থী গোপনে চালাচ্ছেন প্রচারণা। কোন কোন প্রার্থী তোয়াক্কাই করছেন না বিধিনিষেধ। প্রকাশ্যে প্রচারণার চেয়ে পুরো সিলেট নগরী একটু বেশিই ব্যস্ত রয়েছে ভার্চুয়াল বা অনলাইন প্রচারণায়।
মেয়র প্রার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ও নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ভার্চুয়াল প্রচারণায়। নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর ছবি ও পোস্টার জুড়ে দিয়ে সমর্থকরা চালাচ্ছেন ভার্চুয়াল প্রচারণা। ফেসবুকে দেয়া নির্বাচনী পোস্টগুলোকে অর্থের মাধ্যমে প্রমোট করিয়ে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে বেশি মানুষের কাছে।
ভার্চুয়াল লড়াইয়ে মেয়র প্রার্থীদের সমর্থকরাই বেশি এগিয়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জুড়ে যেনো নৌকা আর ধানের শীষের জমজমাট লড়াই। বিভিন্ন জনে ফেসবুক টাইমলাইন ঘুরে দেখাগেছে, নৌকার কোন সমর্থক যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ কিংবা ছাত্রলীগ নেতাকর্মী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের ছবি বা পোস্টার প্রকাশ করেছেন; ঠিক নিচে কমেন্টের মধ্যে বিএনপি-ছাত্রদল নেতাকর্মীরা গিয়ে জুড়ে দিচ্ছেন ধানের শীষের ছবি। কিংবা বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর ছবি জুড়ে দিচ্ছেন। নাগরিক কমিটি মনোনীত প্রার্থী বদরুজ্জামান সেলিমের সমর্থকরা ভার্চুয়াল প্রচারণায় ব্যস্ত। কেউ কাউকে ছাড়িয়ে নয়। শুধু পোস্টার বা ছবি প্রকাশ করেই তারা ক্ষান্ত নেই। প্রার্থীদের বিগতদিনের ইতিবাচক ও নেতিবাচক কথাবার্তাও তুলে ধরছেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর সমর্থনে একটি ফেসবুক পেজ থেকে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে একটি ভিডিও। যেটিতে তুলে ধরা হয়েছে বিগত দিনে আরিফুল হক চৌধুরীর কর্মকান্ড ও তার সময়কালে বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সংবাদপত্রগুলোতে প্রকাশিত পত্রিকার ‘কাটিং’।
এছাড়া প্রার্থীদের সমর্থনে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে লাইভ ভিডিও দেয়া হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। প্রার্থীদের রেকর্ডকরা বক্তব্যের ভিডিও দিয়ে গোপনে চালানো হচ্ছে মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে প্রচারণা। মেয়র-কাউন্সিলরদের সমর্থনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে চালানো হচ্ছে ‘পাবলিক গ্রুপ’।
সাধারণ নাগরিকদের মতে নির্বাচন কমিশনের বিধিনিষেধের কারণে ১০ জুলাই থেকে শুরু হবে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা। একারণে এর আগে থেকেই নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে প্রার্থীরা আশ্রয় নিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর।
বিভিন্ন ওয়ার্ডের নাগরিকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, সকল মেয়র প্রার্থী, প্রায় সকল ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী, নারী কাউন্সিলর প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা ফেসবুকসহ অন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচারকাজ। আর এটি চলছে বিগত প্রায় ৬ মাস সময় ধরে। কোন কোন প্রার্থী ভার্চুয়াল প্রচারণায় ব্যস্ত আছেন বছরখানেকেরও বেশি সময় ধরে।
অনেকের মতে, এই ভার্চুয়াল বা অনলাইন মাধ্যমের প্রচারণা সিলেট সিটি নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। অনেক ভোটাররা এমন প্রচারণার মাধ্যমেই নিজেদের প্রার্থীদের পছন্দ করে নিতে পারেন।
এদিকে কাউন্সিলরদের প্রতীক এখনো ঠিক না হলেও রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন পাওয়া মেয়র প্রার্থীদের প্রতীক ইতোমধ্যেই নির্ধারিত হয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে তারা একটু বাড়তিই সুবিধা পাচ্ছেন। অন্যপ্রার্থীরা যখন প্রতীকের অপেক্ষায় তখন তারা ভোটারদেরকে চিনিয়ে দিতে পারছেন নিজেদের প্রতীক। নির্বাচন আচরণ বিধির ১১ এর ২ ধারা মতে রয়েছে তফসিল ঘোষণা পর থেকে নির্বাচনী এলাকাতে কোনরকম মিছিল-সমাবেশ, প্রচারণা চালানো বেআইনী।
নির্বাচনী তফসিল মতে আগামী ৯ জুলাই মনোনয়ন প্রত্যাহার করা যাবে। আর প্রতীক বরাদ্দ ১০ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল ঘোষণার সময় জানানো হয়েছিল ‘১৩ জুন থেকে প্রতীক বরাদ্দের আগ পর্যন্ত; কোনও প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না।’ এর আগে নির্বাচন কমিশনের কাছে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন ৯ জন মেয়র প্রার্থী, ১৩৭ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনে ৬৩ নারী প্রার্থী।