নেতাকর্মীদের এলাকা ছাড়তে বলছে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন : সংবাদ সম্মেলনে আমির খসরু

69

স্টাফ রিপোর্টার ::
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, সিলেট সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন বিএনপি নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। ভয়ভীতি এমন পর্যায়ে গেছে যে, বলা হচ্ছে তোমরা (বিএনপি নেতাকর্মী) ৩০ জুলাই পর্যন্ত এলাকা ছেড়ে থাকো। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় সিসিক নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্বাচনকে দখলের যে প্রক্রিয়া, আওয়ামী লীগ আপাতদৃষ্টিতে শুরু করে দিয়েছে। আমরা আশা করি, জনগণ তাদেরকে সঠিক জবাব দেবে।
সংবাদ সম্মেলনে আমির খসরু আরো বলেন, সিলেটে মানুষ স্বাধীনতাকামী, গণতন্ত্রমনা। আগামী ৩০ জুলাইয়ের ভোটে সিলেটের মানুষ সরকারের নির্বাচনী প্রকল্প ভেঙে দিয়ে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করবে।
তিনি বলেন, মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন থেকে আজ পর্যন্ত যা ঘটেছে, তা রিভিউ করেছি। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বিশাল জনবল নিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন, যা আচরণবিধি লঙ্ঘন। নির্বাচনী প্রচারণার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু না হলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থনে শ্রমিকলীগ গুলশান সেন্টারে, মহিলালীগ জেলা পরিষদ মিলনায়তনে, উপশহরে একটি হোটেলে সভা করেছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন কোনো আপত্তি জানায়নি, বাধা দেয়নি। বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফ বিধিমালার প্রতি ‘সম্মান দেখিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন না’।
এছাড়া নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখানোর বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনকে গতকাল সোমবার অবহিত করা হলেও ‘কাজ কতোটুকু হবে’ তা নিয়ে ‘সন্দেহ’ পোষণ করেছেন বিএনপির ওই কেন্দ্রিয় নেতা।
সিসিক নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম ও ২০ দলীয় জোটের শরীক জামায়াতের মহানগর শাখার আমির এসহানুল মাহবুব জুবায়ের মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছেন, তাদের ব্যাপারে আমির খসরু বলেন, বিএনপির বিদ্রোহীর ব্যাপারে দল সিদ্ধান্ত নেবে। এছাড়া সিলেটসহ তিন সিটিতে যে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে, তা জোটে আলাপ-আলোচনা করেই দেয়া হয়েছে। কেউ যদি জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে প্রার্থী হন, তবে আমরা আশা করবো তার ব্যাপারে তার দল ব্যবস্থা নেবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রিয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন ও মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।