৭ মেয়র প্রার্থীর ১৩ অঙ্গীকার

55

সবুজ সিলেট ডেস্ক ::
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সাতজন মেয়র প্রার্থী ১৩টি বিষয়ে অঙ্গীকার করেছেন। সুষ্ঠ নির্বাচন আয়োজনে সহায়তা, নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলা, ভোটের ফল মেনে নেওয়া, বিজয়ী হলে সবাইকে নিয়ে কাজ করাসহ ১৩টি অঙ্গীকার করেন তাঁরা।

বুধবার দুপুরে নগরীর চৌহাট্টায় মুহাম্মদ আলী জিমনেসিয়াম হলে সুজন- সুশাসনের জন্য নাগরিক সিলেট জেলা কমিটির মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে ‘জনগনের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে তাঁরা এসব অঙ্গীকার করেন।

অঙ্গীকারগুলো হলো-
আমি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কাজ করবো। নির্বাচনে টাকার প্রভাব খাটানো ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড থেকে দূরে থাকবো। অর্থ বা অন্য কিছুর বিনিময়ে ভোট কিনব না। নির্বাচনী আচরণ বিধিসহ সকল প্রকার বিধি-বিধান মেনে চলবো।

নির্বাচিত হলে আমি সিটি কর্পোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত, কার্যকর ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তুলবো। সকল নির্বাচিত কাউন্সিলারকে নিয়ে আমি যৌথ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সিটি কর্পোরেশন পরিচালনা করবো।

নির্বাচনে পরাজিত হলে গণরায় মাথা পেতে নেব এবং বিজয়ী মেয়রসহ নির্বাচিত পরিষদকে মহানগরের সার্বিক উন্নয়নে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করবো।

নির্বাচিত হলে আমি সিটি কর্পোরেশনের সম্পদ বৃদ্ধিসহ স্থানীয় সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করবো। উন্নয়ন কর্মকান্ডের পরিধি ও বিস্তৃতি বাড়ানোর জন্য শুধুমাত্র সরকারি বরাদ্দ ও অনুদানের উপর নির্ভর না করে সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব আয়ের উৎস সৃষ্টিতে সচেষ্ট হবো এবং কর আদায়ের উপর জোর দেব।

নির্বাচিত হলে আমি খাদ্য, বস্ত্র ,স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নিরাপত্তা প্রভৃতি মৌলিক মানবিক চাহিদা নিশ্চিত করতে এলাকার মানুষকে সংগঠিত করে সামাজিক পুঁজি গঠন তথা সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলবো। পাশাপাশি সন্ত্রাস ও মাদকাসক্তিসহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অপরাধ রোধে উদ্যোগ গ্রহণ করবো। আমাদের সমাজে বিরাজমান পারস্পরিক বিরোধিতার সংস্কৃতির পরিবর্তে পারস্পরিক সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সকল মেয়র প্রার্থীসহ সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে সাথে নিয়ে স্থানীয় উন্নয়ন নিশ্চিতকরণসহ স্থানীয় সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হবো।

নির্বাচিত হলে আমি স্থানীয় পরিকল্পনার ভিত্তিতে কাজ করবো। সিটি কর্পোরেশনকে প্রকৃত অর্থেই উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার লক্ষ্যে পাঁচ বছর মেয়াদী একটি কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়ন করবো। পাশাপাশি বছরভিত্তিকভাবে জনঅংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় জনগণের সমস্যা চিহ্নিতকরণসহ অগ্রাধিকার নির্ণয়পূর্বক বার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করবো। ৬ মাস পর পর কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে নতুন কর্মপদ্ধতি হাতে নেব। স্থানীয় ও জাতীয় কার্যক্রম এবং সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন উদ্যোগের সমন্বয় ঘটাতে সচেষ্ট থাকবো।

নির্বাচিত হলে আমি জনঅংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় প্রণীত বার্ষিক পরিকল্পনার ভিত্তিতে সিটি কর্পোরেশনের বাজেট প্রণয়ন করবো এবং উন্মুক্ত বাজেট অধিবেশনের আয়োজন করে বাজেট ঘোষণা করবো। প্রতি অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে অগ্রগতি পর্যালোচনা সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সংশোধিত বাজেট ঘোষণা করবো।

নির্বাচিত হলে আমি সকল কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবো। দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতি পরিহার করবো। জনগণের প্রকৃত চাহিদার ভিত্তিতে কাজ করবো। বছরে কমপক্ষে ১ বার কাজের জবাবদিহিতার জন্য জনগণের মুখোমুখি হবো।

নির্বাচিত হলে আমি নারীর অবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিটি কর্পোরেশনের সকল মানুষের সার্বিক জীবন মানের উন্নয়নের জন্য কাজ করবো। ইভটিজিং বন্ধসহ নারী নির্যাতন, বাল্য বিবাহ, বহু বিবাহ, যৌতুক, খুন, ধর্ষণ, এসিড নিক্ষেপসহ নারীর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলবো।

নির্বাচিত হলে আমি মুক্তিযোদ্ধা, অসহায় ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবার এবং প্রতিবন্ধীসহ সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করবো এবং তাদের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবো।

নির্বাচিত হলে আমি শিক্ষাবিস্তারসহ শিক্ষার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখবো এবং আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য বেকার যুবকদের সংগঠিত করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের আত্মনির্ভরশীলতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করবো এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবো। সরকারি-বেসরকারি সুযোগ কাজে লাগাতে তাদের সহযোগিতা করবো।

নির্বাচিত হলে আমি সিটি কর্পোরেশনের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষাসহ মহানগরের সৌন্দর্য বর্ধনে সচেষ্ট থাকবো। দখলকৃত ভূমিসহ সকল ধরনের জলাশয় দখলমুক্ত করবো। এ ব্যাপারে জনসচেতনতা গড়ে তোলা এবং যে কোন প্রকার পরিবেশ দূষণ রোধে প্রয়োজনীয় সকল উদ্যোগ গ্রহণ করবো।

নির্বাচিত হলে আমি প্রতিবছর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পদ, আয়-ব্যয় ও দায়-দেনার হিসাব প্রকাশ করবো।

এ অনুষ্ঠানে মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহম্মদ কামরান( আাওয়ামীলীগ), আরিাফুল হক চৌধুরী ( বি এন পি), এহসানুল মাহবুব জুবায়ের (স্বতন্ত্র), এহছানুল হক তাহের( স্বতন্ত্র), বদরুজ্জামান সেলিম(নাগরিক কমিটি), মোঃ আবু জাফর ( সিপিবি) ও ডাঃ মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন খান(ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন) অংশ নেন।