‘সিম সোয়াপ’ পদ্ধতিতে ধোঁকাবাজির গুরুত্বপূর্ণ ১০টি তথ্য।

22

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক::
ভারতে সম্প্রতি ‘সিম সোয়াপ’ পদ্ধতিতে ব্যাংকের তথ্য চুরি হচ্ছে অহরহ। এই ফাঁদে পড়লে কয়েক মিনিটের মাঝেই সাফ হয়ে যেতে পারে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। মূলত যারা মোবাইল ব্যাংকিং করেন, তাদেরই এই পদ্ধতিতে টার্গেট করা হয়। গ্যাজেটস নাওয়ের প্রতিবেদন থেকে জেনে নিন এই ধোঁকাবাজির গুরুত্বপূর্ণ ১০টি তথ্য।

১) পদ্ধতিটি খুবই সহজ

সিম সোয়াপ বা সিম এক্সচেঞ্জ পদ্ধতিটি আসলে খুবই সহজ। ভুক্তভোগীর ফোন নাম্বার দিয়ে তারা নতুন একটি সিম রেজিস্ট্রেশন করে ফেলে। তা করার পর আগের সিমটি ইনভ্যালিড হয়ে যায়। আগের সিমের সঙ্গে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক করা থাকলে নতুন সিমে সেই অ্যাকাউন্টের মেসেজ চলে যায়, ফলে তারা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে পারে, এমনকি কেনাকাটাও করতে পারে। বেশির ভাগ সময় তারা সিমটিকে থ্রিজি বা ফোরজিতে সহজে রূপান্তর করার কথা বলে ভুলিয়ে-ভালিয়ে সিম নম্বর নিয়ে নেয়।

২) সিম নম্বর যত্নে রাখুন

ফোন নম্বর নয়, বরং সিমের ২০ ডিজিটের নম্বরটিই তারা সংগ্রহের চেষ্টা করবে। তারা দাবি করবে, এই নম্বরটি শেয়ার করলে সিম থ্রিজি, ফোরজি বা অন্য কোনো সুবিধা পাবে।

৩) ১ চাপুন

ভুক্তভোগীর সিমটি বাতিল করে তাদের কাছে থাকা ভুয়া সিমটি চালু করতে তারা বলবে ‘১’ চাপুন। এ কাজটি করলে সার্ভিস প্রোভাইডার থেকেই আগের সিমটি বাতিল হয়ে যাবে।

৪) মোবাইল আর সিগন্যাল পাবে না

ভুক্তভোগীর সিম এ পর্যায়ে কাজ করা বন্ধ করে দেবে। ফলে মোবাইল আর সিগন্যালই পাবে না।

৫) টাকা লুট শুরু হবে

সাধারণত ফোন দেওয়ার আগেই ওই ব্যক্তির ব্যাংকের তথ্য বাগিয়ে নেয় এসব ধোঁকাবাজ। ব্যাংকের আসল ওয়েবসাইটের বদলে নকল ওয়েবসাইট তৈরি করে ফিশিংয়ের মাধ্যম এসব তথ্য সংগ্রহ করে ওই ধোঁকাবাজ চক্র। ভুলে ওই নকল সাইটে গিয়ে অনেকে নিজের ব্যাংকিং তথ্য দিয়ে দেন। এতে ওই ধোঁকাবাজরা তথ্য পেয়ে যায়।

৬) অনেক সময় ন্যাশনাল আইডি নম্বরও চাইতে পারে

ভারতের ন্যাশনাল আইডি নম্বরকে বলা হয় আধার নাম্বার। এই নম্বরটিও এসব ধোঁকাবাজ সংগ্রহ করার চেষ্টা করে। কিন্তু তা করলে ভুক্তভোগীর নাম করে অনেক অপরাধ করার সুযোগ পাবে তারা।

৭) ফোন অফ করে রাখলে তারা সুযোগ পেয়ে যায়

অনেক সময় ফোনে কথা বলার পরপরই সিম এক্সচেঞ্জ হয়ে যায় না। এতে চার ঘণ্টার মতো সময় লাগে। ধোঁকাবাজরা বারবার ভুক্তভোগীকে ফোন দিয়ে বিরক্ত করতে থাকে, এতে তিনি ফোন বন্ধ করে দেন। কিন্তু ফোন বন্ধ করে দিলেই আর তিনি টের পান না যে তার সিমটি বাতিল হয়ে গেছে।

৮) বয়স্ক মানুষ এর প্রধান শিকার

বয়স্ক মানুষরা ফোন ব্যবহার করলেও এর প্রযুক্তির ব্যাপারে তেমন একটা জানেন না তারা। এ কারণে তাদেরকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে এভাবে ধোঁকাবাজি করা সহজ।

৯) ব্যাংক ব্যালান্স নজরে রাখা প্রয়োজন

ব্যাংক ব্যালান্স নজরে রাখলে এবং নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যাংকিং পাসওয়ার্ড পাল্টালে অপরাধীদের কাজ কঠিন হয়ে যায়।

১০) পদ্ধতিটি আসলে অবৈধ নয়

সিম সোয়াপ বা সিম এক্সচেঞ্জ আসলে অবৈধ কিছু নয়। কিন্তু এ বৈধ প্রক্রিয়াটিরই সুযোগ নিচ্ছে এসব ধোঁকাবাজ।