ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের ১৮তম বার্ষিক সাধারণ সভা সম্পন্ন

9

সবুজ সিলেট ডেস্ক::
ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের (এমবিএল) ১৮তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) গত বুধবার র‌্যাডিসন ব্লু-ওয়াটার গার্ডেন, ঢাকা হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এমবিএল হচ্ছে শীর্ষস্থানীয় এফএমসিজি ও এমএনসি কোম্পানিগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি। বর্তমানে বাংলাদেশে পারসোনাল্ কেয়ার, বিউটি ও ওয়েলনেস পণ্য বিপণনের ক্ষেত্রে এমবিএল একটি অত্যন্ত বিশ্বস্ত নাম।
ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের বার্ষিক সাধারণ সভায় কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সৌগত গুপ্ত সভাপতিত্ব করেন। সভায় ম্যারিকো বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নবীন পান্ডে, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের মধ্যে সঞ্জয় মিশ্রা, ভিভেক কারভি ও স্বতন্ত্র পরিচালক মিসেস রোকিয়া আফজাল রহমান, মাসুদ খান ও আশরাফুল হাদি সহ কোম্পানির ঊর্দ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) কোম্পানির বিপুলসংখ্যক শেয়ারহোল্ডার উপস্থিত ছিলেন। সভায় কোম্পানির পক্ষ থেকে উপস্থাপিত সবগুলো এজেন্ডা সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। এজিএমে অনুমোদিত উল্লেখযোগ্য এজেন্ডাগুলো ছিলÑ কোম্পানির পরিচালকমন্ডলীর প্রতিবেদন ও অডিটর রিপোর্ট বা নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুমোদন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের অডিটেড ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্ট বা নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন ও ম্যারিকো বাংলাদেশের অনুমোদিত মোট লভ্যাংশের ঘোষনা, পরিচালকগণের নির্বাচন/পুনঃনির্বাচন এবং স্বতন্ত্র অডিটর বা নিরীক্ষক নিয়োগ অনুমোদন। ২০০৯ সালে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এটি হলো ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের ৯ম এজিএম।
এজিএম থেকে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ (প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ১০ টাকা করে) অনুমোদন করা হয়েছে। এর আগে কোম্পানির বিগত অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য অন্তর্বর্তীকালিন ৫০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ (প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ৫০ টাকা) ঘোষণা ও বিতরণ করা হয়েছে। ফলে চলতি ২০১৮ সালের ৩১ মার্চে সমাপ্ত অর্থবছরে ম্যারিকো বাংলাদেশের অনুমোদিত মোট লভ্যাংশের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬০০ শতাংশ (প্রতি শেয়ারে ৬০ টাকা)।
সভায় বক্তব্য প্রদানকালে ম্যারিকো বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সৌগত গুপ্ত কোম্পানির কার্যক্রমের সফলতা তুলে ধরে বলেন, আলোচ্য অর্থবছরে ম্যারিকো বাংলাদেশ কর-পরবর্তী নিট মুনাফা অর্জন করেছে ১৬৪ কোটি টাকা। আর মোট আয় হয়েছিল ৭৮১ কোটি টাকা। আলোচ্য বছরে ম্যারিকো বাংলাদেশের শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএসের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫২.১৫ টাকা।
সভায় জানানো হয়, বিগত অর্থবছরে ম্যারিকো বাংলাদেশ কর, মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) ও ডিউটি বা শুল্ক বাবদ সরকারের কোষাগারে মোট ২২৮ কোটি টাকা জমা দিয়েছে। আলোচ্য বছরে ঢাকা আহসানিয়া মিশনের (ডিএএম) সহযোগিতায় ম্যারিকো বাংলাদেশ তার সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর কার্যক্রমও অব্যাহত রাখে। এর আওতায় জামালপুর উপজেলায় ৩ হাজারেরও বেশি সুবিধা বঞ্চিত ও স্কুলে না যাওয়া শিশুকে বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ করে দিতে ৭৫টি চিল্ড্রেন লার্নিং সেন্টার (সিএলসি) স্থাপন করেছে।
গুপ্ত আরও জানান, ২০১৭ সালে ”প্যারাসুট এ্যাডভান্সড” বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ হেয়ার ওয়েল ব্র্যান্ড হিসেবে পুরস্কার অর্জন করেছেন এবং ১০টি শ্রেষ্ঠ ব্র্যান্ডের মধ্যে অন্যতম হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সেইসাথে কধহঃধৎ এষড়নধষ চধহবষ ”প্যারাসুট” ব্র্যান্ডকে বাংলাদেশের শীর্ষ ৫ ঋগঈএ ব্র্যান্ড এর মধ্যে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাছাড়া, টেকসই উন্নয়নকে আমরা আমাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গ্রহন করে গত বছর জ্বালানী খরচ ৯.৯% ও পানির খরচ ১২৮৫ কিলোলিটার কমিয়ে এনেছি। ব্যবসাকে স্থিতিশীল রাখতে আমরা খরচ কমানোর দিকে লক্ষ রাখছি । উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে ভাল ব্যবসার প্রতি আমি আশাবাদী কারন এদেশের তরুন সমাজের বড় একটি অংশ এই ব্যবসার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত তাদের জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন করে যাচ্ছে।
ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড (এমবিএল) সম্পর্কে : ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড, বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে তাদের ১৭টি ব্রান্ড দিয়ে প্রতি ২ জনের ভেতর ১ জন বাংলাদেশীর জীবন ছুঁয়েছে। এর মধ্যে হেয়ার নারিসমেন্ট, ওয়েলনেস, ফুডস, মেল গ্রুমিং ও স্কিন কেয়ারের ব্রান্ড; যেমন প্যারাসুট, যা বাংলাদেশের ‘১০টি সর্বোচ্চ বিশ্বস্ত ব্রান্ড’ এর একটি এবং ভ্যালু এডেড হেয়ার অয়েল এর পোর্টফোলিওতে আরও আছে প্যারাসুট এ্যডভান্সড, নিহার শান্তি বাদাম আমলা, প্যারাস্যুট অ্যাডভান্সন্ড এক্সট্রা কেয়ার, প্যারাস্যুট অ্যাডভান্সন্ড আয়ুর্বেদিক গোল্ড। এছাড়াও ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড হেয়ার ডাই বাজারে তাদের হেয়ার কোড ব্রান্ড নিয়ে এগিয়ে আছে। সম্প্রতি কিছু নতুন ব্র্র্র্র্যান্ড এবং পণ্য মার্কেটে নিয়ে আসার পরে কোম্পানি তাদের পণ্যে বৈচিত্র্য নিয়ে এসেছে; এর মধ্যে সাফোলা অ্যাকটিভ এডিবেল অয়েল,সেট ওয়েট ডিওডোরেন্টস, হেয়ার জেলস, মেনস ক্রিম, হেয়ার এন্ড কেয়ার ফ্রুট ওয়েল এবং প্যারাস্যুট অ্যাডভান্সড বডি লোশন। ম্যারিকো বাংলাদেশ লি. এর মূল লক্ষ্য হলো তাদের সামঞ্জস্যপুর্ন আর্থিক কর্মক্ষমতা দিয়ে লাভজনক হারে ব্যবসাকে বৃদ্ধি করা। তাই ২০০৯ সাল থেকে নিট মুনাফায় ১৪.৯% সিএজিআর হিসেবে তালিকাবদ্ধ রয়েছে।