সিলেটে বিএনপি কর্মীদের গ্রেপ্তারের অভিযোগ আরিফের

35

বিশেষ প্রতিবেদক ::

বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী দাবি করেছেন, পুলিশ সোমবার ভোররাতে তাদের বেশ কয়েকজন কর্মীকে কোনো কারণ ছাড়াই ধরে নিয়ে গেছে। সিলেটের নির্বাচন কর্মকর্তাকে জানিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। তবে- আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান জানিয়েছেন- দাগী আসামি, সন্ত্রাসী ও অস্ত্রবাজদের নিয়ে যারা প্রচারণায় নামছে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ তাদের কাজ করছে। সেখানে আওয়ামী লীগের নূন্যতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

সোমবার (২৩ জুলাই) দুপুরে সিলেট বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী নগরীর কাজিটুলায় তার নির্বাচনী প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ ও সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

এ সময় তিনি বলেন- পুলিশ ভোররাতে সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সাঈদ আহমদ ও তার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুর রাজ্জাকের ছেলেকে ধরে নিয়ে গেছে। এছাড়া আরো কয়েকজনের বাসায় তল্লাশী চালিয়েছে।

আরিফ দাবি করেন- পুলিশের কিছু সংখ্যক কর্মকর্তার এ আচরন সিলেটের নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে যাচ্ছে। এই অবস্থা চললে তিনি প্রয়োজনে ঢাকায় গিয়ে প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে নালিশ জানাবেন। তিনি বলেন- এবারের নির্বাচনের শুরু থেকে তিনি সহ তার সমর্থকদের পুলিশ হয়রানি করলে নির্বাচন কমিশন থেকে কোনো সহযোগিতা পাচ্ছেন না। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু সহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে আরিফের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরন বিধি লংঘনের অভিযোগ জানিয়ে দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে- বিএনপির প্রার্থীর বক্তব্যকে মিথ্যাচার বলে অভিহিত করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। নগরীর সোনারপাড়া এলাকায় গণসংযোগের সময় তিনি দাবি করেন- বিএনপির প্রার্থী দাগী আসামি, সন্ত্রাসী ও অস্ত্রবাজদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। এতে করে পুরো নির্বাচনের পরিবেশ ঘোলাটে করে তোলা হচ্ছে। পুলিশ যে কাজ করছে সেখানে তার কিংবা আওয়ামী লীগের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

কামরান দাবি করেন- সিলেটে রাজনৈতিক সম্প্রতি চমৎকার। এখানে সব প্রার্থী সমানভাবে প্রচারণা ও নির্বাচনী কার্যক্রমের সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু বিএনপি প্রার্থী শুরু থেকে নানা কথা বলে সিলেটের দীর্ঘদিনের সম্প্রীতির পরিবেশে আঘাত করতে চাচ্ছেন। সিলেটবাসী এ ব্যাপারে সচেতন। কোনো নাটকীয়তা চালিয়ে জনগনকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। বিএনপির প্রার্থী দেখতে পাচ্ছেন নৌকার জোয়ারের কাছে তিনি অসহায় হয়ে পড়েছেন। এ কারনে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানা ফন্দি আটছেন বলে দাবি তার।

বিএনপির তরফ থেকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ করা হলে সিলেট জামায়াতের নেতা ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গ্রেপ্তার সম্পর্কে কোনো অভিযোগ দেননি। তিনি সারাবাংলার কাছে জানিয়েছেন- একটি মহল নির্বাচনী পরিবেশকে ‘গরম’করে তুলছে। এতে করে ভোটারের কাছে শঙ্কাও নেমে এসেছে।

এদিকে- সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আলিমুজ্জামান বিএনপির প্রার্থীর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন- যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা মোটেও সত্য নয়। এরই মধ্যে যত অভিযোগ এসেছে সব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একটি অভিযোগে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কামরানকে শো-কজ করা হয়েছে। তিনি জবাবও দিয়েছেন।

তিনি দাবি করেন- আমরা সব প্রার্থীকে সমান চোখে দেখছি। বিশেষ মহলকে প্রাধান্য দেওয়ার যে অভিযোগ সেটি সত্য নয়। নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে তিনি প্রার্থীদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।