সিসিক নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন : কামরানের প্রচারণায় আমলারা, আরিফের সাথে মামলার আসামী

49

সৈয়দ জেলওয়ার হোসেন স্বপন ::
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রচারণায় আচরণবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে বার বার। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করলেও নির্বাচন কমিশন থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে নির্বাচন কমিশন বলছে, অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট দফতরে প্রেরণ করা হয়েছে, তারা তদন্ত করে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেবেন। মেয়র প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে সিসিক নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সরকারি সুবিধাভোগী আমলারা আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। গত কয়েকদিন ধরে সিসিক নির্বাচনে সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের পক্ষে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে আমলারা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। অপরদিকে আরিফুল হক চৌধুরীর প্রচারণায় বিভিন্ন ধরণের নাশকতাসহ অন্যান্য মামলার আসামীরা প্রকাশ্যে অংশ নিচ্ছেন। অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী, মহানগর জামায়াতের আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের নির্বাচনী প্রচারণায় দীর্ঘদিন ধরে গা-ঢাকা দিয়ে থাকা নাশকাতা মামলার আসামী জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরাও প্রকাশ্যে মাঠে নেমেছে।
সিটি করপোরেশন নির্বাচন আচরণবিধির ২২ ধারার ১ নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে, ‘সরকারি সুবিধাভোগী অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী নির্বাচন-পূর্ব সময়ে নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণায় বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন না।’ ২২ ধারার ২ উপধারায় উল্লেখ রয়েছে, ‘নির্বাচন-পূর্ব সময়ে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তাহার পক্ষে কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান নির্বাচনী কাজে সরকারি প্রচারযন্ত্র, সরকারি যানবাহন, অন্য কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ এবং সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীগণকে ব্যবহার করিতে পারিবেন না।’
অনুসন্ধানে জানা যায়, সিসিক নির্বাচন আচরণবিধি ও চাকুরীবিধি লঙ্ঘন করে গত শনিবার রাতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের নির্বাচনী সভায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদ, কেমিকৌশল ও পলিমার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং সিন্ডিকেট সদস্য মো. মস্তাবুর রহমান অংশ নেন।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের একটি ধারায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের রাজনৈতিক মতামত প্রচার ও রাজনৈতিক সংগঠনে জড়িত হতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ‘চাকরির শর্তাবলী’ শিরোনামে ৫১ ধারার ২ উপধারায় লেখা আছে, ‘কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তার রাজনৈতিক মতামত পোষণের অধিকার ক্ষুন্ন না করিয়া তাহার চাকরির বিধানাবলী নির্ধারিত হইবে তবে শর্ত থাকে যে, তিনি তাহার উক্ত মতামত প্রচার করিতে পারিবেন না বা নিজেকে কোনো রাজনৈতিক দলের সহিত জড়িত করিতে পারিবেন না।’
গত ২৮ জুন বদরউদ্দিন কামরানের মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মুর্শেদ আহমদ চৌধুরী। এর আগে ১৮ জুলাই সিলেটের সিভিল সার্জন হিমাংশু লাল রায়ের সভাপতিত্বে এক সভায় অধ্যক্ষ মুর্শেদ আহমদসহ বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন ও নৌকা মার্কার পক্ষে ভোট চান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট আজিজুর রহমান, স্বাস্থ্য বিভাগের স্বাস্থ্য সহকারী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এম গৌছ আহমদ চৌধুরী।
একই দিন সন্ধ্যায় কামরানের বাসায় নির্বাচনী মতবিনিময়ে অংশ নেন শাবির রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন ও হিসাব পরিচালক আ ন ম জয়নাল আবেদীন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বদরুল ইসলাম সোয়েব ও শাবির প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান, শাবির সহকারী কলেজ পরিদর্শক তাজিম উদ্দিন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপরেজিস্ট্রার এ কে এম ফজলুর রহমান, শাবি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খন্দকার মমিনুল হক।
এদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলার আসামীদের সাথে নিয়ে প্রচারণা অভিযোগ তুলেছে আওয়ামী লীগ। তারা বলছে, বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামী আরিফের পক্ষে প্রচারণা করছে। পুলিশ আসামীদের ধরলে আরিফ তাদের ছাড়িয়ে নিতে অবস্থানের নামে নাটক করছেন। পুলিশ সুনির্দ্দিষ্ট মামলার প্রেক্ষিতে আসামী গ্রেফতার করলেও বিএনপিন্থীরা আওয়ামী লীগকে দায়ি করে অপপ্রচার করছে।
এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মহানগর জামায়াতের আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের নির্বাচনী প্রচারণায় প্রকাশ্যে মাঠে নেমেছে দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা নাশকতা মামলার আসামীরা। সম্প্রতি যুবলীগ নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলার মাধ্যমে নিজেদের জানান দিয়েছে শিবির।
সিসিক নির্বাচনের নির্বাচন কমিশনের তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা প্রলয় কুমার শাহা বলেন, এ পর্যন্ত আচরণবিধি লঙ্ঘণের অভিযোগে ১২টি অভিযোগ কমিশনে জমা হয়েছে। মেয়র প্রার্থীদের অভিযোগ তদন্ত করে পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। কোনো ধরণের আচরণবিধি লঙ্ঘণ মেনে নেওয়া হবে না।