এ্যাকশনে নির্বাচন কমিশন : কামরান-জুবায়ের ও ডা. মুর্শেদ-হিমাংশুকে শোকজ

37

স্টাফ রিপোর্টার ::
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের শেষ সময়ে বাড়ছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। এ পর্যন্ত মেয়র কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে ১৫টি লিখিত অভিযোগ করেছেন। এছাড়া দৈনিক সবুজ সিলেটে আচরণবিধি লঙ্ঘণ করে সরকারি কর্মকর্তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ সংক্রান্ত সংবাদ আমলে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নানা অভিযোগে নড়েচড়ে বসেছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী, মহানগর জামায়াতের আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়েরকে শোকজ করা হয়েছে। এছাড়া সবুজ সিলেটের সংবাদ প্রকাশের পর সরকারি সুবিধাভোগ করেও নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ মুর্শেদ আহমদ চৌধুরী ও সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. হিমাংশু লাল রায়কে শোকজ করা হয়েছে। ৪ জনকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনের তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা প্রলয় কুমার শাহা বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ২ মেয়রপ্রার্থী ও ২ সরকারি কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়েছে।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী সরকারি সুবিধাভোগী অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী নির্বাচন-পূর্ব সময়ে নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণায় বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মুর্শেদ আহমদ চৌধুরী এবং হিমাংশু লাল রায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করার সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় তাদেরকে পৃথক পৃথক ভাবে এ শোকজ করা হয়েছে। শোকজে আগামী ৩ দিনের মধ্যে জবাব দেওয়ার জন্য তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ জুলাই সিলেটের সিভিল সার্জন হিমাংশু লাল রায়ের সভাপতিত্বে এক সভায় অধ্যক্ষ মুর্শেদ আহমদসহ বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। এ সময় তারা নৌকা মার্কার পক্ষে ভোট চান। পরে নৌকা মার্কায় কামরানকে ভোট দেওয়ার আহবান জানিয়ে নগরীর চৌহাট্টা ও ওসমানী মেডিকেল এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচারপত্র বিলি করেন।
কামরানের বিরুদ্ধে জুবায়েরের অভিযোগ : আসন্ন সিলেট সিটি নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগ করেছেন নাগরিক ফোরাম মনোনীত মেয়র প্রার্থী, জামায়াত নেতা এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। গত সোমবার এডভোকেট জুবায়েরের পক্ষে কমিশনের সিলেটস্থ আঞ্চলিক কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তাঁর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হাফিজ আব্দুল হাই হারুন।
অভিযোগে তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি ক্ষমতাসীন দলের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন কামরান প্রতিদিন নগরীতে নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘন করেই যাচ্ছেন। নৌকা প্রতীকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বাসা-বাড়ী ও গাড়ীতে স্টিকার লাগানো হচ্ছে। গত ২০ জুলাই ও ২১ জুলাই স্থানীয় তেররতন ও শাহী ঈদগাহ পয়েন্টে নৌকা সমর্থকরা স্টেইজ করে সমাবেশ করেছেন। ডায়না ট্রাক ব্যবহার করে নৌকা প্রতীকের কর্মীরা প্রতিদিন নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।
উপরোল্লিখিত অভিযোগ গুলো নির্বাচনী আচরণবিধির সুষ্পষ্ট লংঘন। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান এডভোকেট জুবায়েরের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হাফিজ আব্দুল হাই হারুন। নির্বাচন কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
তিন কাউন্সিলর প্রার্থীকে জরিমানা : সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় তিন প্রার্থীকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১ টার দিকে নগরীর ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডে সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদ মিয়ার নেতৃত্বে কোতোয়ালি পুলিশের একটি ফোর্সসহ এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
অভিযান পরিচালনার সময় ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী সলমান আহমদকে বড় ব্যানার লাগানোর কারণে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মুবিন আহমদকে দেয়ালে পোস্টার সাঁটানোর কারণে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং একই অভিযোগে মেয়রপ্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেনকে (হাতপাখা) আরও ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদ মিয়া বলেন, ‘১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডে গিয়ে তিন প্রার্থীকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা করে তা আদায় করা হয়েছে। তাদের সতর্ক করা হয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষ্যে এ অভিযান চলমান থাকবে। ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি ওয়ার্ড ঘুরে নির্বাচনী আচরণবিধি মানা হচ্ছে কিনা পর্যবেক্ষণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’