সিসিক নির্বাচনে : জোট-মহাজোটে জট কাটছে না

19

স্টাফ রিপোর্টার ::
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জোট মহাজোটের প্রধান শরীকদের মধ্যে দুরত্ব কমছে না। ২০ দলীয় জোটের প্রধান শরীকদল জামায়াত স্বতন্ত্র প্রার্থী দিয়ে নির্বাচন করছে। অপরদিকে ১৪ দলীয় মহাজোটের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামেনি প্রধান শরীক দল জাতীয় পার্টি। ফলে নির্বাচনে জোট মহাজোটের নাম ব্যবহার হলেও মূলত বিএনপি ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে জোট মহাজোটের অন্যান্য ছোট ছোট দলগুলোকে মাঝে মধ্যে প্রচারণায় দেখা যায়।
সিসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ২০ দলের প্রার্থী নিয়ে নানা ধরণের নাটকীয়তা হয়। ঢাকায় জোটের সভা শেষে বিএনপি মহাসচিব আরিফুল হক চৌধুরীকে জোটের প্রার্থী বললেও প্রতিবাদ করে জামায়াত। নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর ১০ দিন পরও স্বতন্ত্র প্রার্থী সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়ের নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অপরদিকে বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী পোস্টারে কিংবা মাইকিংয়েও নিজেকে ২০ দলের প্রার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে জোটের প্রার্থী কে তা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে।
অপরদিকে তফসিল ঘোষণার পর থেকে সিসিক নির্বাচন নিয়ে জাতীয় পার্টি কোনো কার্যক্রমে নেই। মহাজোটের অন্যান্য শরীকদলগুলো নৌকা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণায় মাঝে মাঝে অংশ নিলেও জাতীয়পার্টি এ ব্যাপারে উদাসীন। মেয়র এমনকি কাউন্সিলর প্রার্থীও নেই তাদের। ২০০১ সালে সিলেট সিটি করপোরেশন গঠনের পর দুই মেয়াদে মেয়র প্রার্থী দিলেও এবারের নির্বাচনে দলটি কোন মেয়র প্রার্থীও দেয়নি।
গত ১৩ জুন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফশিল ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৩০ জুলাই সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১০ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট থাকলেও ১৪ দলের প্রার্থী হিসেবে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে নগরীর ওয়ার্ডে পাড়া মহল্লায় সিটি নির্বাচনী আমেজ। জোট-মহাজোটের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় বিভিন্ন দল অংশ গ্রহণ করলেও মহাজোটের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের পক্ষে জাতীয় পার্টিকে মাঠে দেখা যায়নি। অন্যান্য দল মাঠে-ঘাটে, রাস্তায়, পাড়া-মহল্লায় থাকলেও জাতীয় পার্টি না থাকার কারণ নয় বছরে সিলেটের জাতীয় পার্টি পাওয়া না পাওয়ার হিসাব কষছেন তারা। মহাজোট সরকারের নয় বছরে সিলেট জাতীয় পাটিকে অমূল্যায়ন, অসহযোগিতা ও সরকারের বিভিন্ন স্তরে জাতীয় পার্টিকে অংশগ্রহণ না করার কারণ বলে মনে করেন অনেকে। আর এর সুযোগ নিতে পারেন বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীরা। কিন্তু জাপার এ দুরে থাকার নীতির প্রভাব ১৪ দলের প্রার্থীর উপরে পড়বে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। অন্যদিকে এটাকে মহাজোটে ভাঙ্গন বলেও মনে করেন অনেকে।
সিলেট মহানগর জাপার আহবায়ক ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া এমপি বলেন, মহাজোটের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি। সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে এখনও আমাদের অংশগ্রহণ নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে দু-একদিনের মধ্যে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন বলেন, জাপা মহাজোটের অংশ। সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমাদের সাথে জাপা আন্তরিক রয়েছে। তাদের সাথে আমাদের আলাপ-আলোচনা চলছে। জোটে কোনো ভাঙ্গন নয়, দু-একদিনের মধ্যে তারাও মাঠে নামবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।