শিক্ষার ব্যয় খরচ নয়, ভবিষ্যতের বিনিয়োগ : প্রধানমন্ত্রী

15

সবুজ সিলেট ডেস্ক ::

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শিক্ষার ব্যয়টাকে আমি খরচ হিসেবে দেখি না, এটাকে ভবিষ্যতের বিনিয়োগ হিসেবে দেখি। আজ আমরা যাদের পেছনে বিনিয়োগ করছি তারাই একদিন বিশ্ব দরবারে দেশকে তুলে ধরবে। বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৭’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে সম্ভাব্য সবকিছুই করছি। বিশ্বের কাছে দেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে তুলে ধরেছি। এজন্য আমরা শিক্ষাকে বেশি বেশি গুরত্ব দিতে চাই এবং দিয়েছি। শিক্ষাকে বহুমখী করতে নানা ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি। উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণাকে গুরুত্ব দিয়েই মূলত আমাদের শিক্ষা নিয়ে ভাবনার জায়গা। পিএইচডি শিক্ষার্থীদের ভাতা বাড়ানো হয়েছে। গবেষণাগারগুলো ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে। আশরা ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসাহিত করছি, সুযোগ দিচ্ছি। সবকিছুই করছি মেধা বিকাশের জন্য, দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমাদের মেধা, জ্ঞান ও কর্মের ফলে দেশের উন্নয়নে অধিক গতি সঞ্চারিত হবে ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়তে শিক্ষিত জাতি ও মেধাবী জনগোষ্ঠীর বিকল্প নেই। আর দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মানব সম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করবো।’

তিনি বলেন, এবার ১৬৩ জন স্বর্ণপদক পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ১০১ জন নারী। ছেলেদের চেয়ে ভালো করছে মেয়েরা। মেয়েদের অভিনন্দন জানাই।

তিনি আরো বলেন, ছেলেদেরও পড়াশোনায় আরো মনোনিবেশ করতে হবে। আমরা চাই সমানে সমান থাকুক। লেখাপড়ার যে সুযোগ আমরা করে দিয়েছি ছেলেরা তা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাক। ছেলেরা পিছিয়ে থাকবে কেন?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা সময় মেয়েদের অবহেলা করা হতো, মেয়েরা পিছিয়ে ছিলো। এখন সেটা নেই। সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে তারা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আজকের ছেলে-মেয়েরা আগামী দিনে নেতৃত্ব দেবে, প্রধানমন্ত্রী হবে, দেশ পরিচালনা করবে।

বর্তমান সরকারের আমলে নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের কথাও তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ৮৪টি পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক ও গবেষকরা ইউজিসি ডিজিটাল লাইব্রেরির মাধ্যমে বিশ্বের ১৩টি সুপ্রতিষ্ঠিত প্রকাশকের ৩৪ হাজারেরও অধিক ই-রিসোর্স এক্সেস সুবিধা পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক সহায়তায় ‘উচ্চশিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়। এই প্রকল্পের অর্থায়নে ৪২২টি রিসার্চ প্রজেক্ট, ২টি টেকনোলজি ট্রান্সফার অফিস, ৮টি ফ্যাবল্যাব, ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পকারখানার মধ্যে যৌথ গবেষণা, ৬৯টি কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল, ১৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজিটাল লাইব্রেরি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৩টি ভার্চুয়াল ক্লাস রুম, ১৯টি ক্যাম্পাস নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ফলে গবেষণার প্রকৃত আবহ তৈরি হয়েছে।

অনুষ্ঠানে দেশের ৩৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১৬৩ জন কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে স্বর্ণপদক তুলে দেন হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।