ছাতকের গুলিবিদ্ধ ছোরাব আলী মামলা করে বিপাকে

9

ছতক প্রতিনিধি ::
ছাতকে প্রতিপক্ষের ছুঁড়া গুলিতে আহত চরমহল্লা ইউনিয়নের আহারগাঁও গ্রামের বৃদ্ধ ছোরাব আলী মামলা করে বিপাকে পড়েছেন। মামলার ৩ আসামী পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেও অন্যান্য আসামী ও সহযোগীদের হুমকীতে পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন ছোরাব আলী। গত ৯জুলাই রাতে হত্যার উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষরা তাকে লক্ষ করে পর-পর তিনটি গুলি করলে তা পায়ে লেগে ছোরাব আলী গুরুতর আহত হয়। এ ঘটনায় ছোরাব আলী বাদী হয়ে ১৩ জুলাই ১৩ জনের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় একটি মামলা(নং-১৫)দায়ের করলে পুলিশ মামলার এজাহারভুক্ত আসামী চান্দালী মিয়া, মঈন উদ্দিন ও সোনাই মিয়াকে গ্রেফতার করে। এতে ক্ষীপ্ত হয়ে ১৯ জুলাই আসামীপক্ষের কামরাঙ্গি গ্রামের মৃত আলতাব আলীর পুত্র কয়েছ মিয়া ও তার লোকজন হামলা চালিয়ে তার পক্ষের অন্তত ২০ ব্যক্তিকে আহত করেছে বলে ছোরাব আলী অভিযুগ তুলেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ইউপি সদস্য কয়েছ মিয়া ও ছোরাব আলী পক্ষদ্বয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে আধিপত্য ধরে রাখার প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছে একটি পক্ষ। গ্রাম-পঞ্চায়েত, সালিশসহ প্রশাসনের নিষেদাজ্ঞা অমান্য করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে একটি পক্ষ গ্রামের সাধারন মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। তাদের নির্যাতনের ভয়ে অনেকে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। ওই পক্ষের বিরোধিতা করলেই হামলা-মামলা ও শারীরীক নির্যাতনের শিকার হতে হয় গ্রামবাসীকে। ইতিমধ্যেই পক্ষে-বিপক্ষে অন্তত ১০-১৫টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। গুলিতে আহত ছোরাব আলীর দায়েরী এজাহার থেকে জানা যায়, এলাকায় একক আধিপত্য ধরে রাখতে কয়েছ মিয়া ও তার পক্ষের লোকজন কামরাঙ্গি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে যাচ্ছে। প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে এলাকায় সৃষ্টি করে যাচ্ছে আতংক। পুলিশ আসার আগেই তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ চলে গেলে আবারো রামরাজত্বে ফিরে এসে সমহিমায় আবির্ভুত হয় তারা। মামলার বাদী ছোরাব আলী জানান, আইনের প্রতি বিন্দুমাত্র ভয়-শ্রদ্ধা নেই কয়েছ মিয়া, চান্দালী মিয়া, আব্দুল অদুদ, আকিক মিয়া, ময়না মিয়াদের। গ্রামে তাদের আইন, হুকুম তামিল না করলে তার মতো পরিনতি ভোগ করতে হয়। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে অন্তত ১শ’ পরিবার গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। আবার অনেকেই ঘর থেকে সরকারী সড়কেও বের হতে পারছে না তাদের ভয়ে। চাঁদা আদায়, লুটপাট, দখলদারীত্ব ও অরাজকতাসহ সব ধরনের অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে তারা। এসব অপকর্মের কারনে তাদের বিরুদ্ধে ১৪-১৫টি মামলা বিচারধিন থাকলেও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড থেকে তারা সরে আসেনি। জানা গেছে বিরোধ নিস্পত্তি করে এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে উপজেলা চেয়ারম্যান, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ইউপি চেয়ারম্যান ও পুলিশ প্রশাসনের লোকজন চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। সম্প্রতি ওসি আতিকুর রহমান ও ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত গ্রামের মসজিদে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিলেও কোন সফলতা আসেনি । গ্রামের সাধারন মানুষ সব সময়ই একটি অজানা আতংকে কাটাচ্ছেন। এ ব্যাপারে জানতে ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসনাতের সাথে ফোনে যোগাযোগ রে তাকে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল জানান, বিরোধটি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। বিভিন্নভাবে নিস্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু একটি পক্ষে অসহযোগিতার কারনে তা সম্ভব হচ্ছে না।