আবদুল আলীমের জন্মদিনে গাইবেন তার সন্তানেরা

14

বিনোদন ডেস্ক ::
পল্লীসঙ্গীত সম্রাট আবদুল আলীমের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী আজ। এ উপলক্ষে তার সন্তানেরা শোনাবেন গান। তার দুই সন্তান জহির আলীম ও নূরজাহান আলীম চ্যানেল আইয়ের ‘গানে গানে সকাল শুরু’তে সংগীত পরিবেশন করবেন। দুপুর ৩টায় দেশ টিভির ‘প্রিয়জনের গান’-এ এদের সঙ্গে যোগ দেবেন শিল্পীর আরেক সন্তান আসগর আলীম। এছাড়া রাত ১১টায় যমুনা টিভিতে ‘ছুটির রাতে’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে রফিকুজ্জামান ও আবু বকর সিদ্দিকীর সঙ্গে বাবাকে নিয়ে আলোচনা ও গান নিয়ে থাকবেন নূরজাহান আলীম।

এ ছাড়া আবদুল আলীম ফাউন্ডেশন আজ সকালে শিল্পীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবে বলে জানান আবদুল আলীমের ছেলে জহির আলীম। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে শিল্পীর ওপর বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে।

জহির আলীম বলেন, ‘এই দিনটাতে আমরা বাবাকে গানে গানে স্মরণ করি। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।’

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের তালিবপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৩১ সালের আজকের দিনে জন্মগ্রহণ করেন আবদুল আলীম। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন সঙ্গীতের প্রবল অনুরাগী। গ্রামোফোন রেকর্ডে গান শুনে তার গান গাওয়ার আগ্রহ জন্মে প্রাইমারি স্কুলে পড়ার সময়েই। গুরু ছিলেন সৈয়দ গোলাম আলী। এত অল্প বয়স হতেই বাংলার লোক সঙ্গীতের এই অমর শিল্পী গান গেয়ে সুনাম কুড়ান। ১৯৪৩ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে তার গান প্রথম রেকর্ড হয়। রেকর্ডকৃত গান দু’টি হলো ‘তোর মোস্তফাকে দে না মাগো’ এবং ‘আফতাব আলী বসলো পথে’।

পরবর্তীকালে তিনি কলকাতায় যান। সেখানে আব্বাসউদ্দিন ও কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়ে গান করেন। তিনি লোক ও শাস্ত্রীয় সংগীতের ওপর দীক্ষা নিয়েছেন বেদার উদ্দিন আহমেদ, ওস্তাদ মোহাম্মদ খসরু, মমতাজ আলী খান, আব্দুল লতিফ, কানাই লাল শীল, আব্দুল হালিম চৌধুরী প্রমুখের কাছে। লেটো দলে, যাত্রা দলেও কাজ করেছেন তিনি।

দেশ বিভাগের পর আবদুল আলীম ঢাকায় চলে আসেন। রেডিওতে স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবে গান গাইতে শুরু করেন। পরে টেলিভিশন সেন্টার চালু হলে সেখানেও সঙ্গীত পরিবেশন শুরু করেন তিনি।

এ ছাড়াও তৎকালীন বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এ প্রথম প্লে-ব্যাক শিল্পী হিসেবে কণ্ঠ দেন আবদুল আলীম। গুণী এ শিল্পীর ৫শ’ গান রেকর্ড হয়েছে। আবদুল আলীমের কণ্ঠে জনপ্রিয়তা পাওয়া উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে— নাইয়া রে নায়ের বাদাম তুইলা, সর্বনাশা পদ্মা নদী, হলুদিয়া পাখী, মেঘনার কূলে ঘর বাঁধিলাম, এই যে দুনিয়া, দোল দোল দুলনি, দুয়ারে আইসাছে পালকি, কেন বা তারে সঁপে দিলাম দেহ মন প্রাণ, মনে বড় আশা ছিল যাবো মদীনায় ও বন্ধুর বাড়ি মধুপুর।

১৯৭৪ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর বরেণ্য এই সঙ্গীতশিল্পী ইন্তেকাল করেন। আবদুল আলীম তার আধ্যাত্মিক ও মরমী মুর্শিদী গানের জন্য অমর হয়ে থাকবেন। সঙ্গীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন পূর্বাণী চলচ্চিত্র পুরস্কার ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার। বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৭ সালে তাকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করে।