ওয়েস্ট ইন্ডিজে সিরিজ জয় বাংলাদেশের

23

স্পোর্টস ডেস্ক ::
টানা দুই বছরের সিরিজ জয়ের খরা কাটিয়েছে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাদের মাঠেই তিন ম্যাচ সিরিজে ২-১ এ জিতেছে মাশরাফির দল। ম্যাচ জয়ের ব্যবধান ১৮ রানের।

২০১৬ সালের ইংল্যান্ড-বধের পর দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয় পাচ্ছিল না বাংলাদেশের। সেন্ট কিটসে অবশেষে এলো স্বস্তির জয়। আর বিদেশের মাটিতে এই জয়ের ইতিহাস ছিল আরও পুরনো। সেই ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জিতেছিল বাংলাদেশ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে করে ৩০১ রান। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস গিয়ে থামে ৬ উইকেটে ২৮৩ রানে।

জবাবে দারুণ শুরু করে গেইল ও লুইস। ভয়ংকর হয়ে উঠছিল সেই জুটি। তবে সে পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান মাশরাফি। দলীয় ৫৩ রানে লুইসকে (১৩) ফিরিয়ে দেন তিনি।

দ্বিতীয় উইকেটে হোপকে নিয়ে এগোতে থাকেন গেইল। গেইলকে থামান রুবেল। মিরাজের তালুবন্দি হয়ে গেইল ফেরার আগে টি-টোয়েন্টি মেজাজে ৬৬ বলে ৬ চার ও ৫ ছক্কায় ৭৩ রান করেন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান বিস্ফোরক ব্যাটার। এটি তার ৪৯তম ওয়ানডে ফিফটি।

পরে হেটমায়ারকে নিয়ে এগিয়ে যান হোপ। জমাট বেঁধে গিয়েছিল তাদের জুটি। মিরাজ দুর্দান্ত এক কুইকারে বোল্ড করে দেন গত ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান হেটমায়ারকে (৩০)। এর পরই যৌথ প্রচেষ্টায় কাইরনকে (৪) রানআউটে কেটে ক্যারিবীয়দের চেপে ধরেন মাশরাফি-মিরাজ। সেই চাপের মধ্যে হোপকে (৫৬) সাকিবের ক্যাচ বানিয়ে ম্যাশ ফেরালে ধুঁকতে শুরু করে তারা।

একে একে ফিরলেও একপ্রান্ত আগলে থেকে যান রোভম্যান পাওয়েল। টাইগার বোলারদের ওপর রীতিমতো স্টিম রোলার চালাতে থাকেন তিনি। তবে তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি হোল্ডার। মোস্তাফিজের শিকার হয়ে ফেরেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক।

পাওয়েল শেষ পর্যন্ত ৭৪ রানে অপরাজিত থাকেন। এই রান করতে তার লাগে মাত্র ৪১ বল, যেখানে ছিল চারটি ছক্কা ও পাঁচটি চারের মার।

বাংলাদেশের পক্ষে মাশরাফি ছিলেন সফল বোলার, তিনি নেন ২টি উইকেট। একটি করেন উইকেট নেন রুবেল, মোস্তাফিজ ও মিরাজ।

এরআগে, অঘোষিত ফাইনালে সেন্ট কিটসের ওয়ার্নার পার্কে টস জিতে প্রথমে ব্যাট নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ফের ব্যর্থ এনামুল হক। ১০ রান করেই ফেরেন তিনি। দ্বিতীয় উইকেটে সাকিবকে নিয়ে প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ওঠেন তামিম। আবারো জমে উঠে তাদের জুটি। ৩৭ রান করে নার্সের স্পিন ভেলকিতে ফিরে যান সাকিব। তার আগে তামিমের সঙ্গে ৮১ রানের জুটি গড়েন তিনি। আগের দুই ম্যাচের ফর্মটা এ ম্যাচে টেনে আনতে পারেননি মুশফিক। ১২ রান করেই সাজঘরের পথ ধরেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল।

সঙ্গীরা যাওয়া-আসা করলেও থেকে যান তামিম। পরে তাকে যোগ্য সমর্থন দেন মাহমুদউল্লাহ। বিশুর শিকার হয়ে ফেরার অগে ১২৪ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় ১০৩ রানের ইনিংস খেলেন তামিম।

ক্যারিয়ারে ১১তম সেঞ্চুরির পথে একাধিক রেকর্ড গড়েছেন তামিম। বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে দুটি ভিন্ন সিরিজে একাধিক শতক হাঁকানোর কীর্তি গড়েন তিনি। এছাড়া তিন ম্যাচ সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সফরকারী দলের হয়ে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড করেন এ ওপেনার। এর আগে রেকর্ডটি ছিল অস্ট্রেলিয়া ব্যাটসম্যান ড্যারেন লেহম্যানের (২০৫) দখলে।

ব্যাটিং লাইনআপে পরিবর্তন এনে সব হিসাবনিকাশ পাল্টে দেন মাশরাফি। সাব্বির-মোসাদ্দেককে বসিয়ে তিনিই নামেন মাঠে। ইনিংসের টার্নিং পয়েন্টে ৩৬ রানের ক্যামিও খেলে দলকে ৩০০ রানের পথ দেখান ম্যাশ।

পরে ঝড় তোলেন মাহমুদউল্লাহ। শেষ ৪ ওভারে আসে ৪৮ রান। এতেই ৩০১ রান তোলে সফরকারীরা, যা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। এর আগে গেইলদের বিপক্ষে টাইগারদের সর্বোচ্চ দলীয় রানের রেকর্ড ছিল ২৯২।

মাহমুদউল্লাহ ৪৯ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৬৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। এটি তার ক্যারিয়ারের ১৯তম ফিফটি। ৫ বলে ১১ রানে অপরাজিত থাকেন মোসাদ্দেক। এর আগে ১২ রান করে ফেরেন সাব্বির।