‘নৌকাকে বিজয়ী করুন সব প্রত্যাশা পূরণ হবে’

32

সিলেট নগরীর ক্বীনব্রিজ এলাকায় সুরমা তীরে অনুষ্ঠিত হয়েছে সিলেট সিটি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের সর্বশেষ পথসভা। সভায় বক্তারা বদর উদ্দিন কামরানের নৌকা প্রতীকে ভোট আহ্বান করে নগরবাসীর উদ্দেশ্যে বলেছেন, নৌকা স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের প্রতীক। ৩০ জুলাই সিলেট সিটিতে নৌকাকে বিজয়ী করুন। আপনাদের সব প্রত্যশা পূরণ হবে ইনশাআল্লাহ।
গত শনিবার রাতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার কর্মী, সমর্থকদের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা পথসভায় বক্তব্য দেন। নেতাকর্মী-সমর্থকদের ‘নৌকা’-‘কামরান’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে সুরমার তীর। এর আগে নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে সভাস্থলে যোগ দেন নেতাকর্মী, সমর্থকরা।
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদের পরিচালনায় পথসভায় বক্তব্যে বদর উদ্দিন কামরান আবেগাপ্লুত কণ্ঠে সিলেট নগরবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমি আপনাদের সন্তান। ¯েœহ ভালবাসা দিয়ে তীলে তীলে আমাকে গড়ে তুলেছেন। আমি বিশ^াস করি, ৩০ জুলাই আপনাদের ভালবাসা দিয়ে, নৌকা প্রতীকে আপনাদের আমানত মূল্যবান ভোট দিয়ে আমাকে আবারো নগরের সেবক হওয়ার সুযোগ দেবেন।
তিনি বলেন, নৌকার মালিক জনগণ, শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের প্রতীক নৌকা। এই নগরবাসী যুগ যুগ ধরে শান্তি ও সম্প্রীতিকে ধারণ করে জীবনযাপন করছেন। আমি সকল ধর্মে, সকল শ্রেণির মানুষের সম্প্রীতির ধারাকে সমুন্নত রাখতে চাই। এই নগরীকে একটি আলোকিত, ডিজিটাল, পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও মডেল নগরী হিসেবে গড়ে তোলার আমার যে স্বপ্ন সেটা বাস্তবায়নে আপনাদের মূল্যবান ভোট অত্যন্ত জরুরি।
বদর উদ্দিন কামরান জীবনের শেষ বয়সে সিলেট সিটি নির্বাচনের শেষ পথসভায় দাঁড়িয়ে বলেন, আমার যথেষ্ট বয়স হয়েছে। জানি না আর কতদিন বাঁচব। হয়তো এটাই আমার জীবনের শেষ নির্বাচন। এই নগরের জনগণ শেষ জীবনে আমাকে অবমূল্যায়ন করবেন না- এটা আমি বিশ^াস করি। আমাকে আপনাদের আমানত ভোট দিয়ে বিজয়ী করুন, কথা দিচ্ছি আপনাদের পবিত্র আমানতের খেয়ানত করব না।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ জাতে মাতাল, তালে ঠিক। আর তাই এবারের সিলেট সিটি নির্বাচনে প্রচারণায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে কোন অবহেলা বা বিভক্তি নেই। ৩০ জুলাই সিলেট সিটি নির্বাচনকে তিনি রাজনৈতিক যুদ্ধ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, নির্বাচনে নৌকার বিজয়ের মাধ্যমে আগামী জাতীয় নির্বাচনে পূণ্যভূমি সিলেটের ১৯ আসনে বিজয়ের পথ প্রসারিত হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আমাকে দায়িত্ব দিয়ে বলেছেন- সিলেটে নৌকা বিজয়ী হলে নগরবাসীর সব প্রত্যাশা পূরণ হবে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, ৩০ জুলাই ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া, ভোট নিশ্চিত করার দায়িত্ব তোমাদের। ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার দায়িত্বও তোমাদের। যাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তা যথাযথভাবে পালন করতে হবে। নৌকার বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোন নেতাকর্মী ঘরে ফিরে যাবে না।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, বিগত দিনে সিলেটসহ সারাদেশে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, বোমাবাজি, জ¦ালাওপোড়াও করে যারা দেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে চেয়েছে, সিলেট নগরবাসী তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। এদের দূরভিসন্ধিতে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এমএস কিবরিয়াকে জীবন দিতে হয়েছে, হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার রক্তে রঞ্জিত হয়েছে, বৃটিশ হাই কমিশনার, আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের উপর গ্রেনেড হামলা হয়েছে।
তিনি সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও লুটপাটের বিরুদ্ধে দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও অগ্রযাত্রায় শামিল হতে নৌকাকে বিজয়ী করার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
ড. একে আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। নৌকা ছাড়া এতো উন্নয়ন কেউ করতে পারেনি। নৌকা বিজয়ী হলে নগরবাসীর সকল প্রত্যাশা আমরা পূরণ করবো।
তিনি বলেন, সিলেট নগরীতে বিগত সময়ে যত উন্নয়ন হয়েছে তা করেছেন শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি। কিন্তু সে উন্নয়ন হাইজ্যাক করে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। দুনিয়ার কোথাও কেউ এরকম করে পার পায়নি, সিলেটেও পাবে না।
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনী প্রচারণায় ঐক্যবদ্ধভাবে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা যেভাবে কাজ করেছেন নির্বাচনে বিজয়ের মুহূর্ত পর্যন্ত সেটা অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা আশাবাদি সিলেট নগরবাসী এবারে বিপুল ভোটে নৌকার প্রার্থী বদর উদ্দিন কামরানকে বিজয়ী করবেন।
সভায় আরো বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় শ্রম বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সিলেট জেলার সহ-সভাপতি, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, সাবেক সংসদ সদস্য মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, কমলগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুর রহমান, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র এএস ডেইজি সরওয়ার, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত পুরকায়স্ত, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কয়েছ গাজী, অ্যাডভোকেট শাহ ফরিদ আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিজিত চৌধুরী, অধ্যাপক জাকির হোসেন, সিলেট আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, নাসির উদ্দিন খান, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু জাহেদ, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন, জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট শাহ মোশাহিদ আলী, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, আজাদুর রহমান আজাদ, অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান, সৈয়দ শামীম আহমদ, রনজিত সরকার, মোস্তাক আহমদ পলাশ, এমাদ উদ্দিন মানিক, ময়নুল ইসলামসহ অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
পথসভা শেষে মিছিলসহকারে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারতে যান বদর উদ্দিন কামরান। মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে তিনি নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করেন।
এর আগে সন্ধ্যার পর নগরীর মদীনা মার্কেট, দক্ষিণ সুরমার কদমতলীতে নৌকার সমর্থনে পৃথক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।-বিজ্ঞপ্তি