হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে আরিফ বিজয়ী

66

কেন্দ্র দখল, ভোট জালিয়াতি, ব্যালট ছিনতাই, গুলি বর্ষণ, দুই কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত
আরিফ ৯০,৮৯৬ ॥ ৮৫,৮৭০ কামরান

সৈয়দ বাপ্পী/জামিল আহমেদ/জুমান আহমদ ::
কেন্দ্র দখল, ভোট জালিয়াতি, ব্যালট ছিনতাই, গুলি বর্ষণ, ককটেল বিষ্ফোরণ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াসহ ব্যাপক জালিয়াতির পরও জনপ্রিয়তার উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ৯০ হাজার ৮৯৬ ভোট পেয়ে ২য় বারের মত মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৭০ ভোট।
গতকাল সোমবার শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ শুরু হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে পাল্টে যায় ভোট কেন্দ্রগুলোর দৃশ্যপট। ১৩৪ কেন্দ্রের মধ্যে ৪১টি কেন্দ্র দখলে নেয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা-এমন অভিযোগ বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর।
এদিকে কেন্দ্র দখলের অভিযোগে আতংক ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। কয়েকটি কেন্দ্রে ছাত্রলীগ-শিবির ও পুলিশের ত্রিমূখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এছাড়া ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের ঘটনায় ২টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
এদিকে নৌকার স্লোগান দিয়ে কেন্দ্র দখল করে ধানের শীষের প্রতীকে সিল দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সোমবার দুুপুরে কাজী জালাল উদ্দিন বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ব্যালট পেপার ছিনতাই করে কেন্দ্র দখল করে বলে অভিযোগ করেছে আওয়ামী লীগ।
এছাড়া কেন্দ্র দখল, গুলি বর্ষণ, ককটেল বিস্ফোরণ, ২ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত রাখার অভিযোগে সোমবার দুপুরে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী নির্বাচন বাতিল ও সিপিবি বাসদের প্রার্থী আবু জাফর নির্বাচন স্থগিতের দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছেন।
অপরদিকে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে আওয়ামী লীগের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় থেকে ফলাফল ঘোষণা স্থগিত করে দলটি। এর আগে রাত নয়টা পর্যন্ত মির্জাজাঙ্গালে আওয়ামীলীগের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছিল। রাত ৯টায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে ফল দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। এসময় দলীয় নেতাকর্মীদের সিলেট নির্বাচন কমিশনের আঞ্চলিক কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চাপ প্রয়োগের আহবান জানানো হয়।
গতকাল সোমবার সকালে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকাল ৮টা থেকে ভোটাররা লাইনে দাঁড়ান। সুন্দর পরিবেশে নারী পুরুষসহ বয়স্ক ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সকালের দিকে নারী ভোটারের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে তাদের উপস্থিতির হার বাড়তে থাকে। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবির টহলের পাশাপাশি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরাও দায়িত্ব পালন করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভোট বর্জন করেন হবিনন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টরা। ওই কেন্দ্রের এজেন্ট শিপু আহমদ বলেন, ছাত্রলীগের ৫০/৬০ জন নেতাকর্মী সাড়ে ১২টার দিকে কেন্দ্র দখল করে জালভোট দিতে থাকেন। প্রশাসন তাদের সহায়তা করে। এছাড়া আমাদের বের করে দেওয়া হয়। তাই আমরা ভোট বর্জন করেছি। এ সময় ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে। দুপুর ১২টার আগ পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ হয়েছিলো।
এর আগে সকাল ১১টার দিকে নগরীর কাজী জালাল উদ্দিন স্কুল কেন্দ্র একদল যুবক দখল করার চেষ্টা চালালে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে তাদের তাড়িয়ে দেয়। সিসিক নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ওই কেন্দ্রে গণ্ডগোল হয়েছে। পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়েছে। কে বা কারা ঝামেলা করেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর পাঠানটুলায় শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ছাত্রলীগ ও শিবিরের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। শিবিরকর্মীরা ওই কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালালে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সাথে তাদের সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে র‌্যাব পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ধাওয়া করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় আধাঘন্টা ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফের ভোট গ্রহণ শুরু হয়।
এর আগে সকাল পৌণে ১০টায় কদমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে একদল যুবক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় তা ভেস্তে যায়। এ সময় ভোটাররা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
প্রায় একই সময়ে নগরীর ৫নং ওয়ার্ডে এক কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকরা খাসদবীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জালভোট দেওয়ার চেষ্টা করলে আধা ঘন্টা ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে।
অপরদিকে আওয়ামী লীগ নেতাদের নেতৃত্বে কেন্দ্র দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, পুলিশের সহযোগিতায় আগ্নেয়াস্ত্র, দা নিয়ে কেন্দ্র দখল করা হচ্ছে। সকাল সোয়া ১১টায় নগরীর রায়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে এ অভিযোগ করেন আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার দলের সমর্থকরা সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে তিনি কেন্দ্রে যান। এ সময় ৩টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি ছোঁড়ে তার কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কিন্তু কেন্দ দখলকারীদদের কিছুই বলেনি। এ সময় ভোটগ্রহণ কিছু সময়ের জন্য বন্ধ ছিলো।
‘রাতেই পূর্ণ ব্যালট বাক্স’ দাবি আরিফের : সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী দাবি করেছেন, গত রোববার রাতের আধারে ১০, ২০ ও ২১ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন কেন্দ্রে ব্যালটে সিল দিয়ে বাক্স ভরিয়ে রাখা হয়েছে। তার এজেন্টদের বের করে দেয়া, ভোট জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার সকাল সোয়া আটটায় নগরীর রায়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন মা আমেনা খাতুন, স্ত্রী শ্যামা হক ও মেয়ে নাহিয়া হক চৌধুরী। ভোট দেয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ‘কাল (রোববার) রাতেই আমার কাছে খবর এসেছে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ব্যালটে সিল মেরে ১০, ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন কেন্দ্রে বাক্স ভরাট করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আগে থেকেই যদি এভাবে ব্যালট বাক্স ভরে রাখা হয়, তবে আমরা কীভাবে মেনে নেব?
এদিকে সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, নগরীর উপশহরের শাহজালাল একাডেমি ও শাহী ঈদগাহের এভারগ্রিন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রকাশ্যে জালভোট দেয়া হয়। এছাড়া এমসি কলেজ, নবীনচন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, কদমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রসহ ৪১ টি কেন্দ্রে এজেন্টদের কাজ করতে দেওয়া হয়নি। আমরা নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেছি।
সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান বলেন, সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে, দুটি কেন্দ্র স্থগিত করা হয়েছে।
নির্বাচন বাতিলের দাবি : সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। নির্বাচন স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন সিপিবি বাসদের প্রার্থী আবু জাফর। গতকাল সোমবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে সিসিক নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার আলীমুজ্জামানের সাথে দেখা করে এ দাবি জানান। এর আগে আবু জাফর লিখিতভাবে নির্বাচন স্থগিতের দাবি জানান। মেয়র পদে বিএনপি-মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী লিখিত আবেদনে ৪১টি কেন্দ্রের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেন। এদিকে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন সিপিবি-বাসদ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আবু জাফর। দুপুর ১২টায় সিসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আলীমুজ্জামানের নিকট অভিযোগ করে এ দাবি করেন তিনি। আবু জাফর অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনে সুষ্ঠুভাবে মানুষ ভোট দিতে পারছে না। এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। চলে কেন্দ্র দখলের মহোৎসব। দেয়া হয় জাল ভোট।
ইভিএমেও আরিফ এগিয়ে : সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে দুটি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছে। নগরীর ৪নং ওয়ার্ডের আম্বরখানা গার্লস হাইস্কুল এন্ড কলেজের দুটি কেন্দ্রের ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।
পুরুষ কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের প্রাপ্ত ভোট ৭৫১। নৌকা প্রতীকের প্রাপ্ত ভোট ৩৫১। এছাড়া মহিলা কেন্দ্রে ধানের শীষ পেয়েছে ৫৫৭ ভোট ও নৌকা প্রতীকে পেয়েছে ২১৫ ভোট। এ দুই কেন্দ্রের ফলাফলে আরিফের প্রাপ্ত ভোট ১৩০৮ ও কামরানের প্রাপ্ত ভোট ৫৬৬।
বিএনপি-জামায়াত কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ : সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই প্রার্থীর দুই ভাই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
১৯ নং ওয়ার্ডের বখতিয়ার বিবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জামায়াত সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী শওকত হামিদ তৌহিদ ও বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী দিনার খান হাসুর সমর্থকদের মধ্যে দুপুরের পর সংঘর্ষ বাধে। এতে তৌহিদের ভাই ফাহাদ ও হাসুর ভাই তালহা গুলিবিদ্ধ হন। তাদের দুজনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে নেওয়া হয়েছে।
২ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত : সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ব্যালট ছিনতাইয়ের অভিযোগে দু’টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল সোমবার দুপুরে নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের শাহগাজী সৈয়দ বোরহান উদ্দিন (রহ.) মাদ্রাসা (১১৬) ও ২৭ নং ওয়ার্ডের হবিনন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৩৪) কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেন সিসিক নির্বাচনের তথ্য কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা প্রলয় কুমার শাহা।
জানা যায়, শাহগাজী সৈয়দ বোরহান উদ্দিন (রহ.) মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ২ শত ২১ জন ও হবিনন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৫ শত ৬৬ জন।
নিজের কেন্দ্রেই হারলেন কামরান : সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে নিজের কেন্দ্রে হেরেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। তিনি সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোটার। এই কেন্দ্রের ভোটে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে ১৩০ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ছয়টায় নির্বাচন কমিশন ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে এ তথ্য জানা যায়।
সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকে আরিফুল হক চৌধুরী ভোট পেয়েছেন ৭৭৬টি, নৌকা প্রতীকে কামরান পেয়েছেন ৬৪৬ ভোট। এ ছাড়া জামায়াতের প্রার্থী (স্বতন্ত্র) এহসানুল মাহবুব জুবায়ের পেয়েছেন ২৬ ভোট।
প্রসঙ্গত, সিলেট সিটি করপোরেশনের ৯টি সংরক্ষিত নারী ও ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৭১ হাজার ৪ শত ৪৪ জন পুরুষ এবং ১ লাখ ৫০ হাজার ২ শত ৮৮ জন নারী ভোটার।
এবারের সিসিক নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৪টি। প্রিসাইডিং অফিসার ১৩৪ জন, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ৯২৬ জন ও পোলিং অফিসার ১৮৫২ জন দায়িত্বে ছিলেন।
সিসিক নির্বাচনে এবার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্ধীতা করেন ৬ প্রার্থী। এদের মধ্যে রয়েছেন,
এবার সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬ জন প্রার্থী। তারা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান (নৌকা), বিএনপি আরিফুল হক চৌধুরী প্রার্থী (ধানের শীষ), সিপিবি-বাসদের মনোনীত মেয়র প্রার্থী আবু জাফরের (মই), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন (হাতপাখা), নাগরিক ফোরামের প্রার্থী সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের (টেবিল ঘড়ি), সচেতন নাগরিক সমাজের মনোনীত প্রার্থী মো. এহছানুল হক তাহের (হরিণ)।