সিসিক নির্বাচন : জোট-মহাজোটে ভাঙ্গনের শঙ্কা আরো ঘনীভূত হচ্ছে

48

জুমান আহমদ
চলমান সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফল নিয়ে জোট-মহাজোটে চলছে হিসাব নিকাশ। আগামী ১১ আগষ্ট শেষ হবে চুড়ান্ত হিসাব। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এগিয়ে থাকা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীই হচ্ছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কি এতো সহজেই হাল ছেড়ে দিচ্ছে? এমন প্রশ্ন কিছুটা ভাবাচ্ছে সাধারণ ভোটারদের। গত জুলাই অনুষ্ঠিত সিসিক নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগে দুটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। আগামী ১১ আগস্ট এ দুটি কেন্দ্রে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
মহাজোট তথা আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ফলাফলে এখনও পর্যন্ত পিছিয়ে রয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী ফলাফলে এগিয়ে রয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে জোট-মহাজোটে চলছে হিসাব নিকাশ। ফলাফলে পিছিয়ে থাকা মহাজোট ও আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের পক্ষে নেতাকর্মীরা অভিযোগের তীর ছুড়ছেন শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের দিকে। নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নানা ধরণের লেখালেখি করছেন। তারা মনে করেন সিলেটের শীর্ষ নেতারা নির্বাচনে অসহযোগিতার কারণে মহাজোট ও আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর ভরাডুবি হয়েছে। আবার মহাজোটে থাকা জাতীয় পার্টির ভোট কোথায় এ প্রশ্নও তাদের।
তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলেন, গণমাধ্যমে জাতীয় পার্টি মহাজোটকে সমর্থন দিলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যায় জাতীয় পার্টির এক নেতা তার কর্মী নিয়ে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আরিফের পক্ষে ধানের শীর্ষের প্রচারপত্র বিলি করছেন। তারা বলেন, নেত্রী তদন্ত করে এসব নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের।
তবে বিপরীত অবস্থা ২০ দলীয় জোটের। বিএনপির সঙ্গী জামায়াত এ নির্বাচনে ছাড় দেয়নি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে গিয়ে ও বিএনপিকে চাপে রাখতে সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মেয়র প্রার্থী হন। পরে স্থানীয় শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় বিএনপির শীর্ষ নেতারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান জুবায়েরকে। কিন্তু তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাড়ান নি। এতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় ও ফাটল দেখা দেয় সিলেটে ২০ দলীয় জোটে। নির্বাচনের ফলাফলে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের জামানত হারান।
সিলেটে বিএনপির নেতাকর্মীরা ২০ দলীয় জোট থেকে জামায়াতকে বের করার জন্য নীতি নির্ধারকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তারা জামায়াতকে ছাড়ার জন্য বিভিন্ন কারণ উপস্থাপনও করেন। এবং আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতের গুরুত্ব ও বর্হিবিশ্বে জামায়াত নিয়ে নানা কথা রয়েছেও বলে জানান নীতিনির্ধারকদের।
সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন নেতাকর্মীদের আনিত অভিযোগ বাজে এবং এ বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করেতে অপারগতা জানান।
সিলেট মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক ইয়াহইয়া চৌধুরী এমপি বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনে জাতীয় পার্টি মহাজোটের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু ব্যক্তি বিশেষ কেউ যদি অন্য প্রার্থীকে সহযোগিতা করে তাহলে জাতীয় পার্টি দায়ী নয়। এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। এতে মহাজোটে কোন সমস্যা দেখছেন না তিনি।
সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর ও ২০ দলীয় জোটের সদস্য সচিব হাফিজ আব্দুল হাই হারুন বলেন, ২০ দলীয় জোট গঠন হয়েছে সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে স্থানীয় নির্বাচন নয়। গত উপজেলা নির্বাচনে দক্ষিণ সুরমায় আমরা প্রার্থী দিয়েছিলাম। তখন বর্তমান সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ প্রার্থী হয়েছিলেন। কই জোট ভাঙ্গেনি। সিলেট সিটি নির্বাচন স্থানীয় নির্বাচন এটা কোন সমস্য নয়। জামানত হারানোর বিষয়ে তিনি বলেন, বরিশাল সিটি নির্বাচনে ২০ দলীয় প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। কিন্তু সিলেটে যে নির্বাচন হয়েছে এটা সরকারের কূট কৌশলের কাছে জামায়াত জামানত হারিয়েছে এটা কোন সমস্যা নয়। ২০ দলীয় জোটে ভাঙ্গন নিয়ে তিনি বলেন, কে কি বলেন জানিনা তবে সিলেটে বিএনপির অনেক নেতার সাথে কথা হয়। সব জায়গায় ২০ দলীয় জোট আছে, সিলেটেও থাকবে।
সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, সিলেট সিটি নির্বাচনে জামায়ত তাদের সিদ্ধান্ত সঠিক নয় সেটা বুঝতে পেরেছে। জামায়াত নিয়ে আলোচনা হতে পারে, তবে ২০ দলীয় জোট ভাঙ্গার কোন কারণ নেই। বর্তমানে দেশের স্বার্থে দেশকে রক্ষা করতে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। আওয়ামী লীগ ছাড়া দেশে যত রাজনৈতিক দল আছে দেশকে রক্ষা করতে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা চলছে।