নবীগঞ্জে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী স্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে অনশন

24

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি
নবীগঞ্জে স্বামীর স্বীকৃতি দাবি করে এক তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর অনশন নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। যুবক-যুবতীর পক্ষের লোকজনদের মধ্যে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের আয়ফর উদ্দিনের পুত্র মো. ইকবাল হোসেন এর সাথে পার্শ্ববর্তী ইমামবাঐ গ্রামের মো. পাখি মিয়ার যুবতী কন্যা মুন্নী আক্তার জরিনা মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে উঠে। বছর খানেক প্রেমের সম্পর্ক চলার পর জরিনা জিবিকার তাগিদে সৌদি আরব চলে যায়। প্রায় দুই বছর পর সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে আসে। দেশে আসার পর তাদের এই প্রেমের পরিসমাপ্তি ঘটে চলতি বছরের ২ জুলাই হবিগঞ্জের নোটারী পাবলিকের কার্যালয়ে র হয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিয়ের পর যুবক ইকবাল জানতে পারে তার ভাল বাসার জরিনা এর পূর্বে আরেকটি বিয়ে হয়েছে এবং তার ঔরষজাত ৭ বছর বয়সী এক পুত্র সন্তান রয়েছে।
এমন অভিযোগে ভবিষ্যত জীবন চিন্তা করে গত ১৩ ই জুলাই হবিগঞ্জ নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ের মাধ্যেমে জরিনাকে তালাক দেয় ইকবাল। ইকবাল হোসেন জানান, বিয়ের পর জরিনাকে তার পরিবারের লোকজন মেনে না নেয়ায় তাকে বাড়িতে নেয়া হয়নি। তাই তার সাথে শারিরিক সম্পর্ক গড়ে উঠেনি।
অপরদিকে জরিনা ইকবালের ঐ তালাক কোন মতেই মেনে নিতে পারেনি। তাই গত ২ দিন যাবত স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি পেতে ইকবালের বাড়ির আশ-পাশে ঘুরাঘুরির এক পর্যায়ে গতকাল সোমবার অনশন করে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু সিদ্দিক, ইউপি সদস্য দিপ্তেন্দ্র দাশ বিধুসহ এলাকার গণ্যমান্য লোকজন গিয়ে বিষয়টি সুরাহা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরে ইকবালের পরিবারের পক্ষ থেকে নবীগঞ্জ থানায় সাধারন ডায়েরী করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে থানার এসআই সুজিত চক্রবর্তীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ যাবার পর জরিনা আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে তাকে উদ্ধার করে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভর্তি করে পুলিশ। তার এমন ঘটনায় এলাকাজুড়ে সমালোচনা দেখা দিয়েছে।