শাল দুধ শিশুর জীবনের প্রথম টিকা

28

সবুজ সিলেট ডেস্ক
শাল দুধ শিশুর জীবনের প্রথম টিকা, শাল দুধের মাধ্যমে ৩১ শতাংশ শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমানো সম্ভব। মায়ের দুধে এন্টিবডি বেশি থাকে যা শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এমনকি জন্ডিসের আশঙ্কাও কমায়।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত মাতৃদুগ্ধের উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বক্তারা।

সারা দেশের মতো সিলেটেও মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেটের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. সোহরাওয়ার্দী বলেন, যেসব কারণে শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায় তার মধ্যে অন্যতম শিশুকে জন্মের ছয় মাসের মধ্যে গুঁড়ো দুধ ও কৃত্রিম শিশুখাদ্য খাওয়ানো। এতে করে শিশুর ঘন ঘন ডায়রিয়া, কান পাকা, শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ, অপুষ্টিজনিত রোগ, দীর্ঘস্থায়ী রোগ, বুদ্ধিমত্তা হ্রাস পাওয়া, রক্তস্বল্পতা, অস্টিওপোরোসিস, স্থূলতা এমনকি মৃত্যু ঝুঁকি থাকে। এছাড়া শিশুকে দুধ না খাওয়ানো নারীদের জরায়ু ও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

তিনি বলেন, দেশের মানুষকে এ ক্ষেত্রে সচেতন করে তুলার দায়িত্ব আমাদের-আপনাদের। কেননা, বাজারে বিভিন্ন ধরনের গুঁড়ো দুধ বিক্রি করা হয়। চিকিৎসকও ব্যবস্থাপত্রে গুঁড়ো দুধ লিখে দেন, ফার্মেসি এমনকি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে হাসপাতালে বিক্রি ও প্রদর্শন বিপণন নিয়ন্ত্রণ আইনের ২০১৩ এর বিধি অনুযায়ী অপরাধ। এটা নিয়ন্ত্রণে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম।

‘মায়ের দুধ পান সুস্থ জীবনের বুনিয়াদ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় কর্মকর্তা সজিব চৌহান মাতৃদুগ্ধের উপকারিতা, গুঁড়ো দুধের ক্ষতিকারক দিক মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে তুলে ধরেন।

তিনি মাতৃদুগ্ধের উপকারিতা, গুঁড়ো দুধের ক্ষতিকারক দিক বর্ণণা করে বলেন, ফার্মেসি বা দোকানে বিক্রিত কোম্পানির আর্টিফিসিয়াল শিশুখাদ্য মাতৃদুগ্ধের বিকল্প হতে পারে না। বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশুর বাড়তি খাদ্যের ব্যবহারে সরঞ্জামাদি বিপণন নিয়ন্ত্রণ আইনের অপরাধ।যদিও মানুষের নজরকাড়ার জন্য বিজ্ঞাপন, লিফলেট ও চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্রের দ্বারা তা বিক্রি করা হয়।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সিলেটের বিভাগীয় স্বাস্থ্য সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মো. আনিছুর রহমানসহ বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

১৯৯২ সাল থেকে বাংলাদেশে প্রতিবছর ১-৭ আগস্ট বিশ্বমাতৃ দুগ্ধ সপ্তাহ পালিত হয়ে আসছে। ২০১০ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ জাতীয়ভাবে পালন করা হয়।