বসুন্ধরা ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের ‘ব্লক রেইড’

11

সবুজ সিলেট ডেস্ক
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাসহ আশেপাশের এলাকায় কয়েক ঘন্টা ধরে চলা ‘ব্লক রেইড’ সমাপ্ত ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

বুধবার সন্ধ্যা থেকে ‍শুরু করে প্রায় রাত বারোটা পর্যন্ত এ অভিযান চলে। তবে অভিযানে কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।

অভিযানের আগেই ঘটনাস্থলে আনা হয় পুলিশের বিশেষ সাঁজোয়া যান, কমান্ডিং কারসহ অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদি।

এর আগে সন্ধ্যা থেকেই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বিভিন্ন প্রবেশ পথ দিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল পরিমাণ সদস্য ভেতরে প্রবেশ করে। প্রতিটি মোড়ে মোড়ে তারা অবস্থান নিয়ে তল্লাশি করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুরো এলাকায় কয়েক হাজার পুলিশ টহল দিচ্ছে। এতে পুরো এলাকায় গ্রেফতার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আশপাশের দোকানদাররা ভয়ে দোকান বন্ধ করে চলে গেছে।

ভাটার থানার ওসি এস এম নুরুজ্জামান জানান, মাদক, সন্ত্রাসীসহ সব ধরণের অপরাধীদের গ্রেফতারের জন্য এ বিশেষ অভিযান চালানো হয়।

ওসি আরও জানান, পুরো বসুন্ধারা আবাসিক এলাকার ভেতরে ও গুলশানের কালাচাঁদপুরসহ আশপাশে একযোগে এ অভিযান শুরু হয়, এ মাস পুরোটা অভিযান চলবে।

এর আগে সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে ডিএমপির গুলশান বিভাগ, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও রিজার্ভ পুলিশের প্রায় এক হাজার সদস্য কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় জড়ো হন।

ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, অতিরিক্ত-কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায়, অতিরিক্ত কমিশনার ডিবি আবদুল বাতেন, যুগ্ম কমিশনার শেখ নাজমুল আলম, গুলশান বিভাগের উপকমিশনার মুস্তাক আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে আসেন। তারা পুলিশ সদস্যদের ব্রিফ করেন। পরে পুলিশ সদস্যরা ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ হয়ে অভিযান শুরু করেন।

গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার আবদুল আহাদ বলেন, ভাটারা থানা এলাকার বিভিন্ন বাসা ও মেসে ব্লক রেইড শুরু হয়েছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ডিএমপি পুলিশ নিয়মিতই এ ধরনের অভিযান চালায়।

পুলিশ জানায়, এ এলাকায় তিনটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ নানা ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী এ এলাকায় মেস ভাড়া করে থাকেন। তাদের মধ্যে ছদ্মবেশে কিছু দুর্বৃত্ত এ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে বলে গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য রয়েছে। বিভিন্ন ইস্যুতে তারা রাজপথে নেমে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের ওপর হামলা করে।

সর্বশেষ সোমবার নিরাপদ সড়কের দাবিতে নামা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে ওই সব দুবৃর্ত্ত সড়কে নেমে ব্যাপক ভাংচুর ও পুলিশের ওপর হামলা চালায়।