ছেলেসহ রাগীব আলীর ১৪ বছরের কারাদন্ড বহাল

111

স্টাফ রিপোর্টার
সিলেটে জালিয়াতি মামলায় শিল্পপতি রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইয়ের ১৪ বছরের কারাদন্ড বহাল রেখেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ বিশেষ আদালতের বিচারক মফিজুর রহমান নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখার রায় দেন।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতির মাধ্যমে হিন্দু দেবোত্তর সম্পত্তি তারাপুর চা বাগান অবৈধ দখলের মামলায় ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামান হিরো পিতা পুত্রের কারাদন্ডাদেশ প্রদান করেন।

সিলেটের পিপি এডভোকেট মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, বিশেষ দায়রা জজ আদালত রাগীব আলী ও তার ছেলের ১৪ বছরের কারাদন্ড বহাল রেখেছেন। এ মামলায় আমার অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। আমি জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছি। ২০১৭ সালে আদালত রায় ঘোষণার সময় পর্যবেক্ষণে বলেছিলেন, মানবিক মুখোশ পরে অবৈধ প্রক্রিয়ায় জনসম্পদ আত্মসাতের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলার এই রায়। পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাই অর্থবিত্তে বলীয়ান দেশের অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি। এ ধরণের ব্যক্তিরা বর্তমান বাংলাদেশে তাদের অবৈধ প্রভাব ব্যবহার করে অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করছে। স্থানীয় পুলিশ, প্রশাসন এবং প্রসিকিউশন টিম মামলায় আনা অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।পিপি এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ আরো বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, তারাপুর চা বাগান দখলের ঘটনা একটি মহাজালিয়াতির ঘটনা। আর এ রায়ের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে, দেশের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন।

জানা গেছে, ২০০৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটের তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম আবদুল কাদের বাদী হয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতি ও সরকারের এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুটো মামলা করলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে নিষ্পত্তি করে পুলিশ। কিন্তু গত বছরের ১৯ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সুপ্রিমকোর্টের পূর্ণাঙ্গ একটি বেঞ্চ রায়ে মামলা দুটো পুনরুজ্জীবিত করে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দেন। ৪০ কার্যদিবসের মধ্যে আলোচিত এ মামলাটি নিষ্পত্তি হয়।

ওই বছরের ১০ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল হলে ১২ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ওইদিনই দেশ ত্যাগ করেন রাগীব আলী ও তার ছেলে। ২৩ নভেম্বর ভারতের করিমগঞ্জ ইমিগ্রেশন পুুলিশের হাতে রাগীব আলী এবং এর আগে ১২ নভেম্বর ভারত থেকে জকিগঞ্জ এসে আবদুল হাই গ্রেফতার হন। পরে তারা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন। পরবর্তীতে সাজাপ্রাপ্তরা আপিল মহানগর দায়রা জজ আদালতে।