ছাত্রদল নেতা রাজু হত্যায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন যারা : পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর

4611

স্টাফ রিপোর্টার
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর শোডাউনের শেষ পর্যায়ে এসে ছাত্রদলের এক গ্রুপের উপর আরেক গ্রুপের হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বর্তমান মহানগর ছাত্রদল ক্যাডারদের গুলি ও দায়ের কোপে ফয়জুল হক রাজু (৩২) নামে ছাত্রদল বিদ্রোহী গ্রুপের ১ কর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া গুরুতর আহত হয়েছেন আরো দুজন। এদিকে নিহত ছাত্রদল নেতা ফয়জুল হক রাজুর লাশ তার পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ হত্যাকান্ডের ব্যাপারে এখনো মামলা দায়ের হয়নি বা জড়িত কাউকে এখনো আটক করতে পারেনি পুলিশ। রোববার দুপুরে রাজুর লাশ সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তার গ্রামের বাড়ি বাড়ি মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার শাহপুর গ্রামে। লাশটি সেখানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে তার পারিবারিক সূত্র।

শনিবার রাত সাড়ে ৯ টায় নগরীর কুমার পাড়ায় নবনির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বিজয় মিছিল শেষে ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হন রাজুসহ ৩ ছাত্রদল কর্মী।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টায় হাসপাতালে সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক রাজুর মৃত্যু হয়। আহত জাকির হোসেন উজ্জল ও সালাহ লিটনকে হাসাপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। রাজুর শরীরে ২২টিরও বেশি ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। দাফণ শেষে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছেন রাজুর স্বজনরা।

জানা গেছে, শনিবার সিলেট সিটি কর্পোরেশনের স্থগিত ২ কেন্দ্রে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর আরিফুল হক চৌধুরীকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হলে তাকে নিয়ে নগরীতে শোডাউন বের করে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতা কর্মীরা। রাত সাড়ে ৮ টার দিকে আরিফের শোডাউন তাঁর কুমার পাড়ার বাসায় এসে শেস হয়। এরপর ছাত্রদলের বিদ্রোহী গ্রুপের নেতাকর্মীরা আরিফুল হকের বাসা থেকে বেরিয়ে কুমার পাড়া পয়েন্টে এসে পৌঁছালে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা মহানগর ছাত্রদলের নির্বাচিত কমিটির রকিব গ্রুপের কর্মীরা ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতাদের (বিদ্রোহী গ্রুপ) উপর অতর্কিত হামলা চালায়।

সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আজিজুল হোসেন আজিজ জানান, সাবেক ছাত্রদল নেতা আব্দুর রকিবের নেতৃত্বে মুক্তাদির গ্রুপের শেখ নয়ন, এনামুল হক, মোস্তাফিজুর রহমান, ফরহাদ আহমদ, জাবেদ আহমদ, পান্না, সলিট, মোর্শেদ, সাহেদসহ প্রায় ৩০/৩৫ জন একসাথে হামলা চালায়। এ সময় তারা ফাঁকা গুলি করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং রাজু, উজ্জ্বল ও লিটন নামের তিন কর্মীকে উপর্যুপরি কোপায়। তাদের দায়ের কোপে ও গুলিতে মহানগর ছাত্রদলের পদবঞ্চিত এই ৩ কর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মহানগর ছাত্রদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক ফয়জুল আনোয়ার রাজু, এবং অপর দুই ছাত্রদল কর্মী জাকির হোসেন উজ্জ্বল ও সালাউদ্দিন লিটন কে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। পরে হাসপাতালে ভর্তির কিছুক্ষণ পর ফয়জুল হক রাজুকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত বলেন, হামলায় ৩ জন আহত হলে হাসপাতালে নেয়ার পর ১ জন মারা গেছেন। তাদের ১ জনের গায়ে কোপ আছে এবং আরেকজন গুলিবিদ্ধ। হামলার ঘটনাটি পুলিশ খতিয়ে দেখছেন বলে তিনি জানান।