কানাইঘাটে তীর খেলার টাকা নিয়ে দু’পক্ষের সংর্ঘষ, আহত ৩

26

কানাইঘাট প্রতিনিধি
কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউপি’র সুরইঘাট বাজারে ভারতীয় তীর খেলার টাকা নিয়ে দুই পক্ষের সংর্ঘষে ৩ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গুরুত্বর আহত সুনাতনপুঞ্জি গ্রামের মুসলিম উদ্দিনের পুত্র শামীম উদ্দিনকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর দুইজন বড়কান্দি গ্রামের আলা উদ্দিন ও নিরপেক্ষ ফার্ণিচার ব্যবসায়ী বশির আহমদ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। গত শনিবার রাত ৮টায় ভারতীয় তীর খেলার টাকা পাওনার জের ধরে নিজ চাউরা উত্তর (বড়কান্দি) ও সুনাতনপুঞ্জি গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাজারে আসে। এতে বাজারে আগত মানুষের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বেশ কিছু ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। খবর পেয়ে কানাইঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) লুসি কান্ত হাজং, থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল আহাদ, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নুনু মিয়া সহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

যথা সময়ে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়ায় সেখানে বড় ধরনের কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেনি বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরে তারা বাজার ও আশপাশ এলাকার শান্তি শৃংঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জেমস লিও ফারগুশন নানকা, সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ চৌধুরী সহ উভয় পক্ষের ৫ জন করে একটি বোড গঠন করে দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় নিজচাউরা উত্তর (বড়কান্দি) গ্রামের আলা উদ্দিনের পুত্র ইমরান আহমদ, পাশর্^বর্তী বাউরভাগ ১ম খন্ড গ্রামের সিদ্দেক আলীর পুত্র আব্দুস শুক্কুরের কাছে তীর খেলার কিছু টাকা পাওনা ছিল। এতে গত শুক্রবার রাত ৯টায় ইমরান তার টাকার জন্য চাপ দেয় ভারতীয় তীর খেলার মহরী আব্দুস শুক্কুরকে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে মধ্যস্থকারী হোসেন আহমদ সহ কয়েক জন লোক তাদের সরিয়ে দেন। খবর পেয়ে ইমরানের বাবা আলাউদ্দিন ঘটনাস্থলে এলে আবারো কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে সনাতনপুঞ্জি গ্রামের আব্দুল হান্নান, বাউরভাগ গ্রামের হুসন আহমদ, আশিক উদ্দিন, রেজওয়ান ও জামাল উদ্দিন সহ বেশ কিছু লোকজন মিলে আলাউদ্দিনকে মারধর করেন। এরই জের ধরে শনিবার বাজারে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আসলে বাজারে আগত মানুষের মাঝে উত্তোজনা ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার সাধারণ মানুষের মতে ভারতীয় তীর হোক কিংবা জুয়ার টাকা নিয়ে সংঘর্ষ হোক তারা উভয় অপরাধী।

সুরইঘাট বাজার থেকে মাদক ও জুয়া র্নিমুলের জন্য তারা প্রশাসনের প্রতি জোর অনুরুদ জানান। এ ব্যাপারে থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নুনু মিয়া জানান তদন্ত পুর্বক অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিহীত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।