বিয়ানীবাজার বছরে কোটি টাকার মোটর সাইকেল চুরি

32

মিলাদ জয়নুল, বিয়ানীবাজার
বিয়ানীবাজারে গত কয়েকমাস থেকে উদ্বেগজনক হারে মোটর সাইকেল চুরি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ক’দিনের ব্যবধানে পৌরশহর এবং উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রায় ২০টি মোটর সাইকেল চুরি হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।
একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট বিয়ানীবাজার থেকে মোটর সাইকেল চুরির ঘটনায় সক্রিয়ভাবে জড়িত। তারা বয়সে তরুণ। বিলাসবহুল জীবন যাপনে অভ্যস্থ তরুণরা মোটর সাইকেল চুরির সাথে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতেও তোলপাড় চলছে। সর্বশেষ শহরের উত্তরবাজার থেকে ব্যবসায়ী আব্দুল মতিনের মোটর সাইকেল মুহুর্তের মধ্যে চুরি হয়। এর আগে একটি বেসরকারী হাসপাতালের সামনে থেকে শফিুকুল হক রিপনের মোটর সাইকেল চুরি হয়। তিনি সিসি ক্যামেরায় বিষয়টি দেখে চোরদের পিছু নিলে মুরাদগঞ্জ এলাকা থেকে গাড়িসহ চোরদের আটক করা হয়। এছাড়াও প্রায় প্রতিদিন উপজেলার কোথাও না কোথাও মোটর সাইকেল চুরির খবর পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় অযথা বিড়ম্বনা এড়াতে বেশীরভাগ ভূক্তভোগী থানা পুলিশের দ্বারস্থ হননা।
এদিকে চুরি হওয়া মোটর সাইকেলের মালিকানা বদল নিয়ে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। মোটর সাইকেল চুরি হওয়ার পর প্রথম কিছুদিন বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে ইঞ্জিন নাম্বার, চ্যাসিস নাম্বার ও মোটর সাইকেলের বাইরের আবরণ কৃত্রিমভাবে পরিবর্তন করে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে অন্যত্র বিক্রি করে দেয়া হয়।
সূত্র জানায়, বিয়ানীবাজারে গত তিন বছরে প্রায় তিন শতাধিক মোটর সাইকের চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। চুরি হওয়া মোটর সাইকেলের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। বর্ষা মৌসুমকে টার্গেট করে মোটর সাইকেল চোরাচালানী চক্রের সদস্যরা বেপরোয়া হয়ে উঠে। এ সময় সীমান্তঘেঁষা বিয়ানীবাজারে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে তারা অবাধে ভারতীয় চোরাই মোটর সাইকেলগুলো বাংলাদেশে আমদানী করে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। বিয়ানীবাজার থেকে চুরি হওয়া মোটর সাইকেলও একই মৌসুমে সীমান্তের ওপারে চলে যায় বলে সূত্রটির দাবি। সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আমদানী করা মোটর সাইকেলের মধ্যে পালসার, ডিসকভারি, হিরো হোন্ডা ও বাজাজ কোম্পানির গাড়ি অন্যতম। এগুলো বিয়ানীবাজারে আনার সাথে সাথেই খুব দ্রুত হাত বদল করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
বিয়ানীবাজার পৌরশহরসহ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রায় দেড় হাজার মোটর সাইকেলের বৈধ কাগজপত্র ও রেজিস্ট্রেশন নেই। এগুলোর এক তৃতীয়াংশই ভারত থেকে চোরাই পথে আমদানী করা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ট্রাফিক পুলিশ জানান, বিয়ানীবাজার সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় এখানে ভারতীয় চোরাই গাড়ির সংখ্যা বেশি। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ইচ্ছা থাকা সত্বেও এসব গাড়িগুলো আটক করা সম্ভব হয় না। মোটর সাইকেল চুরি প্রসঙ্গে বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহজালাল মুন্সী জানান, মোটর সাইকেল চুরির বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি। বিভিন্নস্থানে নজরদারী বাড়ানো হয়েছে।