ছাতকে ভিজিএফর চাল ক্রয়-বিক্রয়ে সক্রিয় সিন্ডিকেট চক্র

26

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে দরিদ্র ও অসাহায় মানুষের জন্য দেয়া সরকারী ভিজিএফ চাল ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি পরিচিত চাল সিন্ডিকেট চক্র। সিন্ডিকেট চক্রের সাথে প্রত্যক্ষও পরোক্ষভাবে উপজেলা খাদ্য অধিদপ্তর ও খাদ্য গোদামের কতিপয় দূর্নীতিবাদ কর্মকর্তা-কর্মচারীর জড়িত রয়েছেন। অর্থলোভী কতিপয় ইউপি চেয়ারম্যান বরাদ্দ পাওয়ার আগেই সিন্ডিকেট চক্রের সাথে আতাত করে অগ্রিম অর্থ নিয়ে হত-দরিদ্রদের সরকারী চালের ডিও অপেক্ষাকৃত কম মুল্যে বিক্রি করে যাচ্ছেন। আর এসব ডিও নিয়ে গোদামে গিয়ে গোদাম কর্মকর্তার সাথে দফারফার মাধ্যমে হত-দরিদ্রদের হক ছিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছে চাল সিন্ডিকেট চক্র। গত রোববার জনৈক এক ইউপি চেয়ারম্যান তার বরাদ্ধের ৩২ মেট্রিক টন চাল সিন্ডিকেট চক্রের কাছে বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এভাবেই সিন্ডিকেট চক্র, সংশিষ্ট কর্মকর্তা ও কতিপয় জনপ্রতিনিধি কাবিখা, টিআর ও ভিজিএর চাল নিয়ে লরিরলুটে মেতে উঠেছেন এখানে। জানা যায়, আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে হত-দরিদ্রদের জন্য ভিজিএফর সরকারী চাল এখানে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়। উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নে ৬৪১.৪ মেট্রিক টন বরাদ্দকৃত চালের মধ্যে পৌরসভা ৮০ মেট্রিক টন ও ১৩ ইউনিয়নে ৫৪১.৪মেট্রিক টন বরাদ্দ দেয়া হয় জনসংখ্যার ভিত্তিতে। ৩২ হাজার ৭০টি কার্ডের বিপরীতে প্রত্যেককে ২০কেজি করে চাল বিতরণের নির্দেশনা রয়েছে সরকারী পরিপত্রে। ইতিমধ্যে পৌরসভায় বরাদ্দকৃত ৮০ মেট্রিক টন চাল ৪হাজার কার্ডধারী হত-দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলার ১৩ ইউনিয়নের মধ্যে এখনো ভিজিএফর এসব চাল বিতরণের কোন খবর পাওয়া যায়নি। তবে রোববার কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান চালের ডিও জমা দিয়ে চাল উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন বলে গোদাম কর্মকর্তা জানিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি চেয়ারম্যান তার বরাদ্দের ৩২টন চাল সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন।

২ আগষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবেদা আফসারী স্বাক্ষরিত এক পরিপত্র থেকে জানা যায়, পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে বন্যাক্রান্ত, দুর্যোগক্রান্ত, দুঃস্থ ও অতিদরিদ্র পরিবারকে ভিজিএফ খাদ্যশস্য সহায়তা প্রদান কর্মসূচীর আওতায় উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে ২ হাজার ৫০৯টি কার্ডের বিপরীতে ৫০.১৮০ মেট্রিক টন, নোয়ারাই ইউনিয়নে ৩হাজার ২০৫টি কার্ডের বিপরীতে ৬৪.১০০ মেট্রিক টন, ছাতক সদর ইউনিয়নে ৮৭৭টি কার্ডের বিপরীতে ১৭.৫৪০ মেট্রিক টন, কালারুকা ইউনিয়নে ২হাজার ৫০১টি কার্ডের বিপরীতে ৫০.০২০ মেট্রিক টন, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নে ১ হাজার ৬১৭টি কার্ডের বিপরীতে ৩২.৩৪০ মেট্রিক টন, উত্তর খুরমা ইউনিয়নে১হাজার ৫৬৯টি কার্ডের বিপরীতে ৩১.৩৮০ মেট্রিক টন, দক্ষিন খুরমা ইউনিয়নে ১ হাজার ৯৪০টি কার্ডের বিপরীতে ৩৮.৮০০ মেট্রিক টন, চরমহলা ইউনিয়নে ১হাজার ৮৪১টি কার্ডের বিপরীতে ৩৬.৮২০ মেট্রিক টন, ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নে ২হাজার ১৯৮টি কার্ডের বিপরীতে ৪৩.৯৬০ মেট্রিক টন, জাউয়া বাজার ইউনিয়নে২হাজার ৫৯৯টি কার্ডের বিপরীতে ৫১.৯৮০ মেট্রিক টন, সিংচাপইড় ইউনিয়নে ১হাজার ৯২৮টি কার্ডের বিপরীতে ৩৮.৫৬০ মেট্রিক টন, দোরারবাজার ইউনিয়নে২হাজার ৫৪৯টি কার্ডের বিপরীতে ৫০.৯৮০ মেট্রিক টন ও ভাতগাঁও ইউনিয়নে ২হাজার ৭৩৭টি কার্ডের বিপরীতে ৫৪.৭৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বিতরণকৃত তালিকার মধ্যে শতকরা ৭০ভাগ মহিলাকে অন্তর্ভূক্ত করার নির্দেশনা রয়েছে এ পরিপত্রে। বরাদ্দকৃত চাল ৮ আগষ্টের মধ্যে উত্তালন ও ঈদের পূর্বে ট্যাগ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বিতরণ কার্যক্রম শেষ করার নির্দেশনাও রয়েছে। কিন্ত ৮ আগষ্টের মধ্যে চাল উত্তোলনের সরকারী নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও এখনো অধিকাংশ চাল উত্তোলন ও বিতরণ করা হয়নি। তবে সিন্ডিকেট চক্রের তৎপরতায় হত-দরিদ্রদের ভাগ্যের ছিখা ছিড়ে পড়ার আশংকা করছেন অনেকেই। সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যরা সম্প্রতি গোদামে ও গোদাম কর্মকর্তার টেবিলে বসেই চাল কেনা-বেচায় মত্ত হয়ে পড়েছে। অফিস চলাকালীন সময়ে অর্থের বিনিময়ে চালের ডিও হাত বদল হলেও পড়ন্ত বিকেলে অনেকটা নিরিবিলি পরিবেশে গোদাম থেকে চাল বোঝাই করে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সিন্ডিকেট সদস্যরা। পরে এসব চাল তাদের নিজস্ব গোদামে নিয়ে বস্তা বদল করে তোলা হয় তাদের শো-রুমে। এ বছর হত-দরিদ্রদের জন্য সরকার সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়ে থাকলেও উপকারভোগীদের ভাগ্যে কতটুকু রয়েছে- এ প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র। সরকারীভাবে কঠোর নজরধারী না থাকলে গরীবের এ হক সিংহভাগই চলে যাবে সিন্ডিকেট, সংশিষ্ট কর্মকর্তা ও কতিপয় জনপ্রতিনিধির পেটে। এ ব্যাপারে গোদাম কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, কয়কজন ইউপি চেয়ারম্যান চাল উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন। চাল কেনা-বেচার সুযোগ এখানে নেই।