কানাইঘাটে সুরমা নদীতে বালু উত্তোলনের অভিযোগ

57

সবুজ সিলেট ডেস্ক
কানাইঘাটের দলইকান্দীর সুরমানদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করে মিথ্যা মামলার আসামী হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন স্থানীয় লোকজন। উপজেলার ৭নং দক্ষিণ বানীগ্রাম ইউ/পি ভূমি তফসিলদার নুরুল আমিনের প্রত্যক্ষ মদদে দলইকান্দিতে জেলা জামায়াতের সমন্বয়ক ফরিদ চৌধুরী ভাতিজা তালবাড়ীর মৃত মাহমদ আলী মাষ্টারের ছেলে জাবির আশরাফ চৌধুরী, দক্ষিণ সুরমার মকসুদ আহমদ ও বালু আফতাব নামের কতিপয় ব্যক্তিরা কানাইঘাটের গাছবাড়ী, দলইকান্দি, তালবাড়ী, খালপার এলাকায় অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছেন দীর্ঘ দিন থেকে। যার জন্য সুরমার তীরবর্তী গ্রাম,হাট-বাজার,শিক্ষাপ্রতিষ্টান-মসজিদ নদীগর্ভে বিলিন যাচ্ছে।

বিভিন্ন অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কানাইঘাট থানার টিএনও তানিয়া সুলতানার নাম ভাঙ্গিয়ে ৭নং বানীগ্রাম ইউপির ভুমি সহকারী কর্মকর্তা নুরুল আমিন অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের সাথে গোপন চুক্তিকরে বালু উত্তোলনে সহযোগীতা করে যাচ্ছেন। টিএনও তানিয়া সুলতানার কাছে বারবার অভিযোগ করার পর কোন প্রতিকার পাচ্ছেনা স্থানীয় জনসাধারণ।

এদিকে গত ২৯ জুলাই জাবির আশরাফসহ তার সহযোগী গাছবাড়ী এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য রফিক মেম্বার উরফে কানা রফিক, সেলিম আহমদ, নাজিম উদ্দিনসহ একটি সঙ্গবদ্ধচক্র বালু উত্তোলন করে যাচ্ছিলেন। বার-বার অভিযোগ দেওয়ার পর টিএনও তানিয়া সুলতানা পুলিশসহ ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে ১টি ড্রেজার ও ১টি বলগেট জব্দ করেন। কিছুক্ষণপর ইউপি ভুমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা নুরুল আমিন ঘটনাস্থলে গিয়েই তার নিজ অফিসের কর্মচারীরাদের দিয়ে বিষয়টির মোড়ঘুরাতে ড্রেজারে আগুন ধরিয়ে দেন, তখন ড্রেজারে থাকা একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে ঘটনাস্থলে দুজন লোক আহত হন।

ইউপি ভূমি তফসিলদার নুরুল আমিন বালু উত্তোলনের সহযোগীর জন্য সাপ্তাহে ৩০ হাজার টাকা নিতেন জাবির আশরাফের কাছ থেকে। আর সপ্তাহে টিএনও তানিয়া সুলতানার নামে ৫০ হাজার টাকা বখরা নিতেন। তাই জাবির আশরাফের পক্ষ নিয়ে এ ঘটনায় ১৩ জনের নামউল্লেখ করে ১২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে কানাইঘাট থানায় মামলা নং ২৭ (৭)২০১৮ ইং দায়ের করনে। মামলার আসামী করা হয় ঐ এলাকার ছাব্বির আহমদ, আব্দুস শহিদ, সেলিম উদ্দিন,আফতাব উদ্দিনসহ নিরোপরাধ মানুষকে।

স্থানীয়রা বলেন,যারাই বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করেছিলেন তাদের করা হয়েছে ঐ মামলার আসামী। মামলার সব কিছুই করেছেন ইউপি ভুমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা নুরুল আমিন। নুরুল আমিনের অবৈধ কাজের জন্য বিগত ১৭/২/২০১৫ইং সালে সিলেট সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভুমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন সাময়িক ভাবে চাকুরি থেকে বহিষ্কার করে ছিলেন। যাহার স্বারক নং ৪২০(৭) তাং ১৭/২/১৫ইং। একই ভাবে ২০১২ সালে সুনামগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিলো। সদর থানার মামলা নং ২২(১০) ২০১২ ইং। এদিকে ২৯/৭/২০১৮ ইং তারিখের দায়ের করা কানাইঘাট থানার মামলাটি নিয়ে গত ৮/৮/২০১৮ ইং তারিখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। যেই অভিযোগে সাক্ষর করেছেন স্থানীয় সিলেট-৫ এর এমপি সেলিম উদ্দিন,সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট লুৎফুর রহমান, কানাইঘাট উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি লুৎফুর রহমান, জেলা পরিষদের ১৪ নং ওয়ার্ড সদস্য ইমাম উদ্দিন, স্থানীয় ৭নং দক্ষিণ বানীগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদ আহমদসহ এলাকার বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিরা। নুরুল আমিন সম্পর্কে খবর নিয়ে জানা যায়, তিনি কানাইঘাট উপজেলার ৭নং দক্ষিণ বানীগ্রাম ইউনিয়নের সহকারী ভুমি কর্মকর্তা হলেও বসবাস করেন সিলেট নগরীর সুবিদবাজারস্থ ঠিকানা টাওয়ারে। সিলেটে বসবাস করলেও তিনি কানাইঘাটের সেই অফিসে চাকুরী করেন। তবে অফিসে তিনি নিয়মিত হাজির না হলে পিয়ন দিয়ে সব কাজ সেরে নেন। সামান্য ভুমি কর্মকর্তা হয়ে চলেন রাজার হালে।

স্থানীয় ভুক্তভোগী আব্দুস শহিদ, আব্দুল মালিক, আবুল কালামসহ লোকজন অভিযোগ করেন খাজনা-পাতি আদায়কালে তিনি কাচাঁ রশিদ দিয়ে তিনগুন বেশী টাকা নিয়ে থাকেন। ১২ টাকার খাজনা হলে ৩ হাজার টাকা নিয়ে রশিদ দেন ১২ টাকার।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত নুরুল আমিন বলেন, আমি বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছার পর বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করি। তিনি এসে ড্রেজার, বলগেটটি জব্দ করে ভূমি অফিসের সহকারী আব্দুর রহমানের জিম্মায় দিয়ে চলে গেলে আমিও সেখান থেকে চলে আসি। আগুনের ঘটনা সম্পর্কে আমি আর তেমন কিছু জানিনা, তবে কি করে নিরোপরাধ মানুষকে আসামী করেছেন? সে বিষয়ে তিনি বলেন, এটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলতে পারবেন, আমি কিছু জানিনা।