কোরবানীর পশু বিকিকিনি শুরু : মৌসুমী ব্যবসায়ীরা পশুর হাটের ক্রেতা

44

ছবি : ইদ্রিছ আলী

জুমান আহমেদ
আর মাত্র পাঁচদিন পরে মুসলমানদের অন্যতম ঈদ ঈদুল আযহা। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষে এ ঈদে পশু কুরবানির মধ্যেমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করেন। এ উপলক্ষে শুরু হয়েছে সিলেটের বিভিন্ন বাজারে ক্রেতাদের আনা-গোনা। নিজের পছন্দের পশু কিনতে ছুটছেন বিভিন্ন পশুর হাটে। আর এ সকল ক্রেতাদের মধ্যে মধ্যস্বত্বভোগী অর্থাৎ মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বেশি সক্রিয়। তারা ঈদের কয়েকদিন আগেই বাজার থেকে দেশি পশু সংগ্রহ করে রাখছেন। ঈদের দু’একদিন আগে ফের চড়া দামে বিক্রি করার কৌশল নিয়েছেন। শুধুমাত্র পশুর হাটে এই সময়ে বিকিকিনি প্রকৃত ক্রেতাদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সিলেট নগরীর কাজিরবাজার পশুর হাট একমাত্র স্থায়ী হাট। দেশী-বিদেশী এবং দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে খামারি ও ব্যাপারিরা এ বাজারে তাদের পশু বিক্রয় করেন। মুসলমানদের অন্যতম উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষে পশু কুরবানির করেন তারা। সুন্দর, সুস্থ পশুই ক্রেতাদের টার্গেট। আবার অনেক ক্রেতারা সুন্দর, সুস্বাস্থ্য পশু বেশী দাম দিয়ে ক্রয় করেন। আর ঐ ঈদকে পুঁজি করে কিছু মৌসুমী ব্যবসায়ী বাজারের মধ্যেই হাত বদলের মাধ্যমে অধিক মুনাফার লোভে বাজারের নিয়ন্ত্রন নেন। খামারিদের কাছ থেকে কম টাকায় পশু ক্রয় করে বেশী দামে হাত বদলের মাধ্যমে বিক্রয় করেন। এর কারণে সাধারণ ক্রেতারা সহজেই পশু ক্রয় করতে বেগ পেতে হয়। ক্ষেত্র বিশেষে দ্বিগুণ দামে পশু ক্রয় করতে হয় কোরবানীদাতাদের। এতে খামারিদের লাভের অংশটা মৌসুমী ব্যবসায়ীদের পকেটে চলে যায়।

সরেজমিনে কাজিরবাজার পশুর হাটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতার সংখ্যা কম থাকলে হাটে পশুর সমাগম রয়েছে। দেশি পশুর পাশাপাশি ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানী, নেপালী, হল্যান্ডের অর্থাৎ শংকরায়িত পশু অন্যতম। দেশের খামারিরা বিভিন্ন জেলা থেকে তাদের পশু বিক্রয়ের জন্য বাজারে এসেছেন। এখনও ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পশু নিয়ে আসতে দেখা যায়। বিদেশি পশু বর্তমানে বিক্রয় কম হলেও দেশি গরুর চাহিদা ক্রেতাদের কাছে বেশি। কিন্তু এই সুযোগ নিচ্ছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। তারা খামারিদের কাছ থেকে হাত বদল করে অধিক মুনাফার জন্য পশু ক্রয় করেন। কিন্তু অসহায় খামারিরা খরচের দায় থেকে মুক্ত হতে সামান্য লাভে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রয় করছেন তাদের পশু।

কুষ্টিয়া থেকে আসা খামারি আবুল কালাম বলেন, কুষ্টিয়া থেকে লাভের আশায় সিলেট কাজিরবাজার পশুর হাটে তার পশু নিয়ে আসেন। তার পরেও ঈদে বেশি লাভের আশায় সিলেটে এসেছেন। তিনি বলেন, আগের চেয়ে বর্তমানে গো’খাদ্যের দাম অনেক বেশী। আগে যে জায়গায় কুড়ার দাম কেজি প্রতি ১০/১৫ টাকা ছিল এখন প্রতি কেজি ২০/২৫ টাকা। তার পরও সরকারের সুযোগ সুবিধার জন্য এ পেশায় আছি। সব কিছু মিলিয়ে কিছু লাভের আশায় সিলেট আসেন। কিন্তু এখানে এসে পড়েছেন মধ্যে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের খপ্পরে।

স্থানীয় পশু ব্যবসায়ী ছালিক মিয়া বলেন, তিনি ৩’শত দেশী গরু নিয়ে কাজিরবাজারে আসেন। কিন্তু এর মধ্যে ১’শত গরু ইতিমধ্যে বিক্রয় করেছেন। এত পশু কিভাবে কোথায় থেকে এনেছেন জানতে চাইলে তার কোন উত্তর দেননি। পরে বিক্রেতা নেই এর মধ্যে ১’শত গরু কিভাবে বিক্রয় করলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাতে ক্রেতারা আসেন। তাই তিনি রাতে পশুগুলো বিক্রয় করছেন।

স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন যুবক কাজিরবাজারে তাদেরকে পাওয়া গেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, ভাই কি আর করব, সারা বছর তো আমরা এখানে আসিনা। বিশেষ করে ঈদুল আযহা উপলক্ষে কিছু লাভের আশায় খামারিদের কাছ থেকে পশু ক্রয় করেন। পরে ঈদের দু’একদিন আগে বেশী দামে বিক্রয় করেন। কিন্তু খামারিদের জোর বা কোন ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয় না। খামারিদের কিছু লাভ দিয়েই তারা পশু ক্রয় করেন।

কাজিরবাজার পশুর হাটের ম্যানেজার শাহাদাৎ হোসেন লোলন বলেন, এখানে কোন মধ্যস্বত্ত্বভোগী চক্র নেই। খামারিরা স্বাধীনভাবে তাদের ইচ্ছে মত পশু বিক্রয় করছেন। কোন খামারি বা ব্যবসায়ীকে কোন প্রকার প্রভাবিত করা হচ্ছেনা।