সিলেটে অস্থায়ী বাজারের অপেক্ষায় ক্রেতারা

48

জামিল আহমেদ
পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে বিভিন্ন স্থান থেকে কোরবানির পশু আসতে শুরু হয়েছে নগরীর পশুর হাটগুলোতে। তবে এসব স্থায়ী হাটে ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থী বেশি। অস্থায়ী হাটগুলোর অপেক্ষা করছেন ক্রেতারা। গতকাল শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন হাট ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে। নগরীতে এবার ১২ টি পশুর হাটের অনুমোদন দিয়েছে প্রশাসন।

এদিকে ঈদুল আজহার দিন যতই ঘনিয়ে আসবে পাল্লা দিয়ে তত গবাদি পশু আসবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। অধিকাংশ খামার থেকে এখনো গরু আসছে না। আগামী সোমবার ও মঙ্গলবারের দিকে এসব খামার থেকে পশু হাটে আসবে।

জানা গেছে, সিলেটে ১৩ উপজেলার ৪০০ খামার, পারিবারিক ও ব্যক্তি পর্যায়ে লক্ষাধিক পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। আগামী দু’এক দিনের মধ্যেই সিলেট জেলার বিভিন্ন হাটে ওঠবে এসব পশু। এদিকে ঝামেলা এড়াতে অনেকেই চাঁদ রাতে কোরবানীর পশু ক্রয় করে থাকেন। তাই আগ থেকে পশু পছন্দ করে রাখছেন ক্রেতারা। সময় আরো ঘনিয়ে আসলে ক্রয় করবেন বলে জানান তারা। ফলে এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেন কোরবানির পশুর হাট।

এদিকে কোরবানি ঈদের সপ্তাহখানেক আগ থেকেই পশুর হাটে গরু-ছাগল-মহিষের পাইকারি বিক্রি শুরু হয়েছে। সিলেটের বিভিন্ন স্থান থেকে শতাধিক বেপারী এসব হাটে কেনাকাটা করছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, দাম স্বাভাবিক রয়েছে। সহনীয় দামে মানুষ পশু কিনতে পারবে বলে তিনি আশাবাদী ব্যবসায়ীরাও।

এবারের কোরবানিতে পশুর সংকট থাকবে না বলে জানিয়েছেন প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর কর্মকর্তারা। অন্যদিকে বেপারিরা বলছেন, ভারতীয় গরু আসলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দেশীয় খামারী ও গরু পালনকারী কৃষকরা। কোরবানির পশুর তালিকায় সবচেয়ে বেশি থাকে গরু। তাছাড়া ছাগল, মহিষ, ভেড়াও কোরবানি করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

এবছর সিলেট জেলায় আসন্ন কোরবানীর জন্য লক্ষাধিক পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। গত বছর সিলেট জেলায় পশু কোরবানির সংখ্যা ছিল ৮৫ হাজারের বেশি। এবছরও সমান সংখ্যক পশু কোরবানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সিলেট জেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর।

প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর জানায় , এ বছর খামারীদের খামারে প্রয়োজনীয় পশু রয়েছে। এর বাইরে ব্যক্তি উদ্যোগে অনেকে পশু রয়েছে। সব মিলিয়ে কোরবানীর জন্য বাইরে থেকে পশু আমদানী করার প্রয়োজন নেই বলে জানান প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, এ বছর সিলেটের ৪০০ গরু মোটা তাজাকরণ খামারে পর্যাপ্ত পশু রয়েছে। এছাড়া ব্যাক্তি উদ্যোগে অনেকে পশু পালন করেছেন। তাই এবছর কোরবানির জন্য কোন ধরনের পশু সঙ্কট হবে না। দেশের খামারীরা পশু পালন করে লাভজনক হলে তারা আরো বেশি করে পশু পালনে উৎসাহিত হবে বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, প্রবাসী অধ্যূষিত সিলেটে কোরবানীর সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পশু আসে। অসাধু কারবারীরা চোরাই পথে ভারত থেকে পশু আমদানি করেন। এতে সিলেটের স্থানীয় খামারীরা পশু পালন করে অনেক সময় লোকসানের সম্মুখীন হন।

উল্লেখ্য, চলতি বছর কোরবানীর সিলেট বিভাগের ৩৯টি উপজেলার খামারীদের খামারে কোরবানীর উপযোগ্য পশু রয়েছে সর্বমোট ৪ লাখ ১ হাজার ৫১০টি। গত ৩১ মে পর্যন্ত খামারীদের দেওয়া হিসেব অনুযায়ী ষাঁড় রয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার ৩৭০টি। বলদ ৫১ হাজার ৪৭৭টি, গাভী ৩১ হাজার ৬৬৯ টি, মহিষ ১৪ হাজার ৮৫৪টি, ছাগল ৮৪ হাজার ১০৫টি, ভেড়া ৩৭ হাজার ৯৭৯টি ও অন্যান্য ৬০টি পশু রযেছে।

গত বছর সিলেট বিভাগে কোরবানীকৃত পশুর সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ২৩ হাজার ১০৮টি। এর মধ্যে সিলেট বিভাগে কোরবানী হয়েছিল ১ লাখ ৬৯ হাজার ৪৪০টি পশু। এছাড়া মৌলভীবাজারে ১ লাখ ২ হাজার ৯৯০টি, হবিগঞ্জে ৯৭ হাজার ৯২১টি ও সুনামগঞ্জে ৫২ হাজার ৭৫৭টি পশু। সিলেট জেলার কোরবানীকৃত পশুর মধ্যে গাভী ছিল ১৯ হাজার ১৫০টি, ষাঁড়/বলদ ১ লাখ ১হাজার ৩০০টি, মহিষ ১ হাজার ৫৮১টি, ছাগল ৪৬ হাজার ৭৫৯টি ও অন্যান্য ৬৫০টি। মৌলভীবাজারে গাভী/বকনা ছিল ১১ হাজার ৬৭টি, ষাঁড়/বলদ ৫৫ হাজার ৩২৯টি, মহিষ ২৩০টি, ছাগল ৩৬ হাজার ১০০টি ও অন্যান্য ২৬৪টি। হবিগঞ্জে গাভী/বকনা ২২ হাজার ৯৭৭টি, ষাঁড়/বলদ ৫০ হাজার ৮১৭টি, মহিষ ১৮১টি ও ছাগল ২৩ হাজার ৯৪৬টি। সুনামগঞ্জ জেলায় গাভী/বকনা ২ হাজার ৮১টি, ষাঁড়/বলদ ৩১ হাজার ২৮৬টি, মহিষ ৭৫১টি, ছাগল ১৮ হাজার ৬৩৯টি।