বিউটি হত্যাকান্ড : পিতাসহ ৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট

23

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে আলোচিত বিউটি হত্যাকান্ডের ঘটনার দায়েরকৃত মামলার চার্জশীট আদালতে দাখিল করা হয়েছে। দেশ বিদেশে আলোচিত এই হত্যাকান্ডে মুল অভিযুক্ত গ্রাম সম্পর্কের চাচা ময়না মিয়া ও বিউটির বাবা সায়েদ আলী, ভাড়াটে খুনী কামাল মিয়াকে অভিযুক্ত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের ওসি শাহ আলম শনিবার চীফ জুটিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ চার্জশীট দাখিল করেন।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা রবিবার বিকেলে এক প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে চার্জশীট দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিউটি হত্যাকান্ড দেশে বিদেশে একটি আলোচিত ঘটনা। বিউটি হত্যাকান্ড নিয়ে সারাদেশে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়েছে কিন্তু সবার ধারনা বাবুলই মূল অভিযুক্ত পুলিশ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উৎঘাটন করেছে। তিনি বলেন পুলিশ দ্রুত সময়ের মধ্যেই বিউটি হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উৎঘাটন করে প্রমাণ করেছে অপরাধীরা অপরাধ করে পার পায়না।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে সায়েদ আলী ও ময়না মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। এ ছাড়া বাবুল ও তার মা কলমচানের বিরুদ্ধে ধর্ষনের অভিযোগে আদালতে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২১ জানুয়ারি বিউটি আক্তারকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বাবুল মিয়াসহ তার লোকজন। তাকে অপহরণ করে বিভিন্ন স্থানে রেখে ধর্ষণ করে বাবুল। এ ঘটনার প্রায় ১ মাস পর বাবুল মিয়া বিউটিকে তার বাড়িতে রেখে পালিয়ে যায়। পরে ১ মার্চ বিউটি আক্তারের বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল ও তার মা ব্রাহ্মণডোরা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য কলমচানের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। এরপর ১৬ মার্চ বিউটি নানির বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পরদিন ১৭ মার্চ বিউটি আক্তারের লাশ স্থানীয় হাওর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এদিকে বিউটিকে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে পরদিন তার বাবা বাদী হয়ে বাবুল মিয়াসহ ২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলার প্রেক্ষিতে ২১ মার্চ পুলিশ বাবুলের মা ইউপি সদস্য কলম চান ও সন্দেহভাজন হিসেবে একই গ্রামের ঈসমাইল নামের একজনকে আটক করে।

এই ঘটনার পর ২৯ মার্চ হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসম শামছুর রহমান ভূইয়াকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করেন পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা। এরপর ৩১ মার্চ সিলেট থেকে বাবুলকে আটক করে র‌্যাব। পরদিন বাবুল মিয়াকে পুলিশ ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ নিশ্চিত হয় হত্যাকান্ডের সাথে বাবুল মিয়া জড়িত নয় এরপর থেকেই পুলিশ লাখাই উপজেলার বিউটির নানী বাড়ি গুনিপুর গ্রামে গিয়ে জানতে পারে হত্যাকান্ডের আগের দিন রাতে বিউটিকে তার বাবা সায়েদ আলী ও চাচা ময়না মিয়া নিয়ে আসে। এরপর থেকে পুলিশ ৪ মার্চ ঘাতক ময়না মিয়াকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে। পরদিন ৬ মার্চ রাত ৯টার দিকে তাকে আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় নিজেকে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয়।

পরদিন বিউটির বাবা সায়েদ আলীও নিজের হত্যাকান্ডের সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে মর্মে আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়। এছাড়াও এ ঘটনায় স্বাক্ষী হিসেবে আদালতে ১৬৪ ধারায় নিহত বিউটির নানী ফাতেমা খাতুন ও বিউটির মা আসমা বেগম ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।