গোলাপগঞ্জে পশুর হাটে চাঁদাদাবি : ফখরসহ ২৯ জনকে আসামী করে ইজারাদারের মামলা

189

অস্ত্রসহ ৬ সন্ত্রাসী আটক

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি
গোলাপগঞ্জে সেই আলোচিত শাসকদলের নেতা গোল্ডেন গ্রুপেরে নেতৃত্বাধীন আকবর আলী ফখর সরকার দলের নাম ভাঙ্গিয়ে গত শনিবার ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বাজারের ইজারাদারের কাছে। দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় আকবর আলী ফখরের নেতৃত্বে তার সন্ত্রাস বাহিনী সশস্ত্র হামলা চালিয়ে পন্ড করে দেয় ঐতিহ্যবাহী গোলাপগঞ্জ বাজারের কোরবানীর ঈদের পশুর হাট।
ঘটনায় বাজারের ইজারাদার আব্দুল কাদির আকবর আলী ফখরকে প্রধান আসামী করে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় মামলা নং ১৩ দায়ের করেন। এ মামলার আসামী আকবর আলী ফখরের বাড়িতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রোববার গভীর রাতে এসআই মৃদুল কুমার ভৌমিক ফোর্স নিয়ে অভিযান চালালে এ সময় আকবর আলী ফখরের রুমের খাটের নীচ থেকে ১০টি রামদাসহ ৬ আসামীকে গ্রেফতার করে।

আটককৃতরা হলেন-জামান আহমদ জামাল (৩২), শাহেদ আহমদ (৩০), শাকিল আহমদ (১৯), কয়ছর আহমদ (২৭), সুহিন আহমদ (২০) ও শিপন মিয়া (১৯)। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজী মামলাসহ পৃথক ভাবে অস্ত্র আইনে মামলা নং-১৪ গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় দায়ের করা হয়েছে। গতকাল সোমবার তাদেরকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার পৌর সদরের বিরাট গরু-ছাগলের হাট ইজারা আনেন ব্যবসায়ী আব্দুল কাদির। উপজেলার পৌর সদরের ভেতরের বাজারে পশুর এ হাট ছোট হওয়ার কারণে এমসি একাডেমী স্কুল মাঠে পশুর হাট বসানোর অনুমতি নেয়া হয় স্কুল কর্তৃপক্ষসহ সিলেট জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে। এর পর বসানো হয় কোরবানীর পশুর হাট। গত শনিবার উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও গোল্ডেন গ্রুপের প্রধান পৃষ্ঠপোষক আকবর আলী ফখরের ত্রাস বাহিনী ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ইজারাদার আব্দুল কাদিরের কাছে। দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় আকবর আলী ফখরের নেতৃত্বে তার সন্ত্রাস বাহিনী সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ও গুলি বর্ষণ করে পন্ড করে দেয় ঐতিহ্যবাহী গোলাপগঞ্জের এমসি একাডেমীর পাশ্ববর্তী মাঠের কোরবানীর ঈদের পশুর হাট।
এ সময় উভয় পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় গোটা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে চরম আতংক। হাট থেকে গরু-ছাগল নিয়ে এদিক ওদিকে ছুটতে থাকেন আগত বিক্রেতারা। এ সময় ক্রেতারাও দ্রুত নিরাপদে চলে যান। হাটে আতংকিত ব্যবসায়ীরা দোকানপাঠ বন্ধ করে দেন এ সময়।  এ ঘটনায় আহত হয়েছেন সাংবাদিক সহ অন্তত ৬/৭ জন লোক।

এ ব্যাপারে বাজারের ইজারাদার উপজেলার টিকরবাড়ি গ্রামের মৃত আরজদ আলীর ছেলে আব্দুল কাদির শাসক দলের নেতা আকবর আলী ফখরকে প্রধান আসামী করে এজহার ভূক্ত ২৯ জন ও অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১৫ জনসহ ৪৪জনকে আসামীকে করে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১৩। মামলার এক নং আসামী আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আকবর আলী ফখরের বাড়ি ফুলবাড়ি দক্ষিণপাড়া গ্রামে গত রোববার গভীর রাতে অভিযান চালালে ওই সময় টের পেয়ে আসামী আকবর আলী পালিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ তার শয়ন কক্ষ তল্লাশী চালিয়ে তার রুমের খাটের নীচ থেকে ১০টি রামদাসহ ৬ আসামীকে আটক করেন।

গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অস্ত্র আইনে মামলা নং-১৪ এর আসামীরা হলেন- ফুলবাড়ি পূবপাড়া গ্রামের মোর্জা মো. অলি উল্লাহর ছেলে জামান আহমদ জামাল (৩২), সরস্বতি গ্রামের মৃত চান মিয়ার ছেলে সাহেদ আহমদ (৩০), ফুলবাড়ি দক্ষিণপাড়া গ্রামের সাহেদ আহমদের ছেলে শাকিল আহমদ (১৯), ফুলবাড়ি দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত ছইদ আলীর ছেলে কয়ছর আহমদ (২৭), সরস্বতি নিজগঞ্জ গ্রামের মুকিদ মিয়ার ছেলে সুহিন আহমদ (২০), ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া গ্রামের কুরমান আলীর ছেলে শিপন মিয়া (১৯), গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও উপজেলার ফুলবাড়ি দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত ছিদ্দেক আলী ঠিকাদারের ছেলে আকবর আলী ফখর (৪৮), একই উপজেলার ফুলবাড়ি উত্তর পাড়া গ্রামের মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে আজমল হোসেন (৩৬), রণকেলী দিঘীরপাড় গ্রামের মৃত মছলু মিয়ার ছেলে সোহেল আহমদ (৩৫), রণকেলী ইয়াগুল (দক্ষিণভাগ) গ্রামের আতাই মিয়ার ছেলে বাহার (৪০)। সর্ব আসামীদের বাড়ি গোলাপগঞ্জ থানায় বলে জানা যায়।

এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (অপারেশন) মো. দেলোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি অস্ত্রসহ ৬ আসামী এবং গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় অস্ত্র আইনসহ পৃথক দুটি মামলার হওয়ার বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে তিনি জানান, অপর আসামীদের আটক করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।